ছেলের জন্য ভাত নিয়ে বসে ছিলেন মা কিন্তু ছেলে আর ফিরল না

বাংলাদেশ

বুধবার দিবাগত রাতে রাজশাহী নগরের শাহ্ মখদুম থানার বড়বোনগ্রাম বাগানপাড়ার একটি গ্যারেজে এ ঘটনা ঘটে। বাসের দরজা বন্ধ ছিল। জানালা খোলা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, খুনিরা জানালা দিয়ে ঢুকে আবার জানালা দিয়েই বেরিয়ে গেছে। দীপক মাত্র ১০ দিন আগে বাসের চালকের সহকারীর কাজ নিয়েছিলেন।

সকাল থেকে ছেলের জন্য ভাত বেড়ে বসে ছিলেন মা শ্রীমতি দাস। গত রাতে বাসায় ভাত ছিল না। তাই ছেলেকে ভাত খেতে দিতে পারেননি। সকালে উঠে তাড়াতাড়ি ছেলের জন্য ভাত রান্না করেছিলেন। কিন্তু ছেলে আর খেতে আসেনি। বেলা একটার দিকে মা খবর পান ছেলেকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। যেই বাসে চাকরি নিয়েছিলেন, সেখানেই খুন হন দীপক দাস (১৮)।

চার দিন ধরে বাসটি চলেনি। বডিমিস্ত্রি লালুর গ্যারেজে বাসটি রাখা ছিল। রাতে পাহারার দায়িত্ব পড়েছিল দীপকের ওপর। প্রতিদিন রাত ১০টার দিকে দীপক বাসের ভেতরে ঘুমাতেন। দীপক তাঁর মাকে সঙ্গে নিয়ে নগরের হাজরাপুকুর ডাবতলা এলাকায় থাকতেন। বাবা দিলীপ দাস তাঁদের সঙ্গে থাকেন না। তাঁদের স্থায়ী ঠিকানা নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায়।

ছেলে খুন হওয়ার খবর শুনে মা শ্রীমতি দাস ঘটনাস্থলেই ছুটে আসেন। আহাজারি করে বলছিলেন, ছেলে রাতে গিয়ে তাঁর কাছে ভাত খেতে চেয়েছিল। কিন্তু হাঁড়িতে ভাত ছিল না। ছেলের হাতে ১০০ টাকার একটি নোট দিয়ে বাইরে থেকে কলা আর রুটি কিনে খেতে বলেছিলেন। সকালে উঠেই ছেলে ভাত খেতে যাবে, এ জন্য তিনি ভাত রান্না করে বসে ছিলেন। কিন্তু প্রতিদিনের মতো ছেলে আর সকালে বাড়ি ফিরে যায়নি।

বাসটির নাম ‘আরপি চ্যালেঞ্জার’। এর মালিকের নাম মাহাবুবুর রহমান। তাঁর বাড়ি রাজশাহী নগরের টিকাপাড়া বাসার রোড এলাকায়। মালিক বলেন, তাঁর বাসটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নোয়াখালীর মধ্যে যাতায়াত করত। একবার যাতায়াত করতে তিন দিন সময় লাগে। তিনি বলেন, দীপক কাজে যোগ দেওয়ার পরে শুধু একটা ট্রিপ মেরেছে। গত চার দিন গাড়ি যায়নি, গ্যারেজে রাখা ছিল।

রাতে পাহারা দেওয়ার জন্য দীপককে ১০০ টাকা করে দেওয়া হতো। গ্যারেজের মালিক বডিমিস্ত্রি লালু বলেন, তাঁর গ্যারেজে কোনো পাহারাদার নেই। এ জন্য বাস রাখার সময়ই তিনি বলেছিলেন নিজের গাড়ি নিজেই পাহারা দিতে হবে। এ জন্য চালকের সহকারী দীপককে তাঁর মালিক রাতে বাস পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছিলেন।

শাহমখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম খান বলেন, ময়নাতদন্ত শেষ হয়নি। লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের পর তাঁরা মামলার বিষয়টি নিয়ে বসবেন। ইতিমধ্যে মামলা করার জন্য তাঁর বাবাকে খোঁজা হচ্ছে। তিনি নাকি চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমনুরা এলাকায় থাকেন। ওই এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি এক মাস থেকে সেখানে নেই। মুঠোফোনেও তাঁকে পাওয়া যাচ্ছে না। এ জন্য মামলা করতে দেরি হচ্ছে।

সূত্র: প্রথম আলো