টাকার অভাবে চালিয়েছেন রিকশা, ৩৪তম বিসিএসে পেয়েছেন চাকরি

বাংলাদেশ

লাখো তরুণের অনুপ্রেরণা রিক্সাচালক বিসিএস নন-ক্যাডার সোহেল আজকের গল্প খুলনার সোহেলকে নিয়ে। ঢাকার নিউমার্কেট মোড়ের একটা ঘটনা বলি- দাঁড়িয়ে পেয়ারা ভর্তা খাচ্ছিলাম। পাশে অনেকগুলো রিক্সা সারি সারি।

এক লোক এসে রিক্সাচালককে বললেন, ‘মামা, ফার্মগেট যাইবা?’ রিক্সাচালকের প্রত্যুত্তর- ‘No, I’m not going to Farmgate.’ আমি ঘাড় ঘুরিয়ে বিস্ময়চোখে তাকিয়ে দেখি রিক্সাচালকের মুখেই নিখুঁত ইংরেজি! আমার দিকে তাকিয়ে তিনি হাসলেন।

আবার বলতে লাগলেন- ‘I want to go to Mirpur’. তার কথা শুনে শুধুই হাসছিলাম। কিন্তু বুকের ভেতরে হঠাৎ টান দিয়ে উঠলো। ভাবলাম, এই রিক্সাচালকের গল্পটা নিশ্চয়ই অন্যরকম। কথা বাড়ানোর আগেই তিনি মিরপুরের ভাড়া পেয়ে রিক্সা টান দিলেন।

নিউমার্কেট থেকে অন্য একটি রিক্সায় ফেরার পথে মনে মনে ওই কাহিনির পুণরাবৃত্তি করতে থাকি। পুড়তে থাকি অজানা গল্পটি না জানার আক্ষেপে। ফার্নিচারের দোকানে চাকরিরত অনার্স পড়ুয়া ছেলেটিকে দেখলেই আমার নিউমার্কেটের সেই রিক্সাচালকের কথা মনে পড়ে।

আজ হঠাৎ স্যোশাল মিডিয়ায় একটি খবরের লিংক আমাকে আবারও চমকে দিলো! খবরের লিংকে যুক্ত থাকা একটি চেনামুখ। এক মুহূর্ত ভাবতেই নিউমার্কেটের মোড়ে সেই রিক্সাচালক মনের দর্পনে ভেসে উঠলো। এই তো সেই চেনা মুখ।

খুলনার কোনো এক অখ্যাত কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করে ঢাকায় চলে আসেন সোহেল। লক্ষ্য তাঁর বিসিএস ক্যাডার হওয়া। কিন্তু খরচ দেবে কে? প্রথম দিকে রাতের বেলায় একটি কোচিং সেন্টারে পড়াতেন। সেই চাকরি বেশিদিন টিকলো না। তাতেও দমে যাননি সোহেল।

স্থানীয় এক পরিচিত রিক্সাচালকের মাধ্যমে তার ঘুরে দাঁড়ানো। নিজেই হয়ে যান একজন রিক্সাচালক। দিনে পড়াশোনা, রাতে রিক্সাচালানো- সোহেলের জীবন এভাবেই কাটে। মনের মধ্যে পুষে রাখেন, যে করেই হোক বিসিএস ক্যাডার তাকে হতেই হবে।

সদ্য প্রকাশিত ৩৪তম বিসিএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলে তিনি উত্তীর্ণ হননি। তবে খুশির খবর ঠিকই পেয়েছেন তিনি। পিএসসি থেকে প্রকাশিত নন ক্যাডারের তালিকায় তার নাম এসেছে। এখানেই থেমে যেতে চান না এই অদম্য।

বিসিএস ক্যাডার তিনি হবেনই। তার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ ৩৫তম বিসিএস। তাঁর স্বপ্ন, ৩৫তম বিসিএসে তিনি শিক্ষা ক্যাডার হবেন। এই মুহূর্তে আমার কাছে অদম্যের অপর নাম সোহেল। কিন্তু দেশের প্রথম সারির গণমাধ্যমে সোহেলের এই খবরটি পৌঁছায়নি।

তলানির কিছু অনলাইন সংবাদমাধ্যমে সোহেলকে নিয়ে খবর ছাপা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখেছি, সোহেলের ছবি থেকে মুখমণ্ডল কেটে ফেলা হয়েছে। হয়তো, জনসম্মুখে এই অদম্য লোকটিকে দেখাতে তারা লজ্জাবোধ করছেন! আমি সোহেলের পুরো ছবিটাই আপনাদের দেখালাম।

খবরের কাগজে দুর্নীতিবাজ-সন্ত্রাসীদের ছবি দেখে জাতি এখন ক্লান্ত। সোহেল নামের এই অদম্য মুখের ছবিই জতিকে দিতে পারে নতুন দিশা। ৩৫তম বিসিএস ক্যাডারে পাস করে সোহেলের নামটি লেখা থাকুক ইতিহাসের কোনো এক কোণে।

সোহেল, আপনার জন্য শুভকামনা। অন্তর থেকে ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা। হতাশায় নুয়ে পড়া লাখো তরুণের চেতনায় জ্বালিয়ে দিন অনুপ্রেরণার বাতি। [লেখাটি সংগৃহীত। সোহেলের পরবর্তী আপডেট আমরা জানতে পারিনি।]

আরো পড়ুন: পেঁয়াজের দাম বাড়ালে কঠোর ব্যবস্থা: বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

পেঁয়াজ মজুদ করে বাড়তি দামে বিক্রি করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ছবিটি আজ সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার থেকে তোলা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম পেঁয়াজ মজুদ করে বাড়তি দামে বিক্রি করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় বলেছে, দেশে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ মজুদ রয়েছে। আমদানি স্বাভাবিক রয়েছে। পেঁয়াজের সংকট বা মূল্যবৃদ্ধির কোনো সংগত কারণ নেই।

পেঁয়াজের অবৈধ মজুদ বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে মূল্যবৃদ্ধির চেষ্টা করা হলে সরকার আইন মোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের টাস্কফোর্স কমিটির বৈঠক থেকে পেঁয়াজ মজুদদার ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

আজ সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের টাস্কফোর্স কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি এবং বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন। সভায় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. ওবায়দুল আজম,

অতিরিক্ত সচিব (আমদানি) মো. হাফিজুর রহমান, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা, টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আরিফুল হাসানসহ টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যরা।

বৈঠকে দেশের চলমান ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুদ, সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে সভায় পর্যালোচনা করা হয়। পেঁয়াজের মজুদ, আমদানি ও সরবরাহ এবং মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে সভায় আলোচনা করা হয়। দেশে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ মজুদ রয়েছে, আমদানি স্বাভাবিক রয়েছে।

পেঁয়াজের সংকট বা মূল্যবৃদ্ধির কোনো সংগত কারণ নেই বলেও বৈঠক থেকে জানানো হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে আরো বলা হয়েছে, পেঁয়াজের অবৈধ মজুদ বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে মূল্যবৃদ্ধির চেষ্টা করা হলে সরকার আইন মোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং টিম, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বাজার মনিটরিং আরো জোরদার করেছে।

পেঁয়াজের সরবরাহ ও মূল্য স্বাভাবিক রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) অবিলম্বে খোলা বাজারে ট্রাক সেলের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করবে, নতুন পেঁয়াজ বাজারে না আসা পর্যন্ত তা অব্যাহত রাখবে।

আরো পড়ুন: বিশ্বে ১ কোটি ২০ লাখ ইহুদি ঐক্যবদ্ধ আর ১৩০ কোটি মুসলমান বিভক্ত : ইমরান খান

বিশ্ব মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ জরুরি দাবি করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, ‘প্রভাবশালী, শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ থাকায় মাত্র এক কোটি ২০ লাখ ইহুদিদের বিরুদ্ধে পশ্চিমা বিশ্ব টু শব্দটি করছে না।

অথচ ১৩০ কোটি মুসলমানকে বিশ্বের সর্বত্র নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে।’ মঙ্গলবার আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক মালয়েশীয় থিংকট্যাংকদের একটি অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন। বিভক্তির কারণেই মুসলমানরা সর্বত্র নির্যাতিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করে ইমরান খান বলেন,

‘লড়াই করতে মুসলিম উম্মাহ ঐক্যবদ্ধ হোক, সেটা আমরা চাই না, কিন্তু অন্যান্য সম্প্রদায়ের মতো তারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করুক।’ পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘লিবিয়া, সোমালিয়া, সিরিয়া, ইরাক ও আফগানিস্তানসহ সর্বত্র মুসলমানদের বিপর্যয়ের কাহিনী।

এর কারণ হচ্ছে- আমাদের কোনও ঐক্য নেই। আমাদের মধ্যে বিভক্তির কোনও শেষ নেই।’ এমনকি অধিকৃত কাশ্মিরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) মুসলমান দেশগুলো বলেও জানান ইমরান খান।

দুইদিনের মালয়েশিয়া সফরের শেষ দিকে একটি কনফারেন্সে তিনি আরও বলেন,’ মুসলমানদের বিরুদ্ধে নিপীড়নের জবাব হচ্ছে মুসলিম দেশগুলোর ঐকবদ্ধ হওয়া। কাজেই মিয়ানমার ও কাশ্মিরে যা ঘটছে, যেখানে কেবল ধর্মের কারণে মুসলমানদের নির্যাতিত হতে হচ্ছে, এমন বিষয়গুলোতে তাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে সাম্প্রতিক সাংঘর্ষিক অবস্থা কেটে গেছে জানানা ইমরান খান।

আরো পড়ুন- চুমু খেয়ে কুরআন অবমাননার প্রতিবাদ জানালেন সুইডেনের অমুসলিম নারী

চুমু খেয়ে কুরআনুল কারীম অবমাননার প্রতিবাদে জানালেন অমুসলিম এক সুইডিশ নারী। চুমু খাওয়ার দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায় সুইডেনের মালমো শহরে সংঘটিত কুরআনুল কারীম পোড়ানোর প্রতিবাদে ওই অমুসলিম নারী কুরআনে চুমু খান। আর বলেন, ‘সুইডিশ নারী মালমো শহরের মুসলিমদের সঙ্গে একত্বতা ঘোষণা করেছে।’

ফেসবুক পেজে বলা হয়, ওই নারী বলছে, আমি জানি না বইটি কি সম্পর্কে। কিন্তু মানবতা ও অনুকম্পার জন্য আমি তোমাদের সঙ্গে একাত্বতা ঘোষণা করছি। বইটি যেহেতু তোমাদের কাছে গুরুত্ব, তাই আমার কাছেও তা গুরুত্বপূর্ণ। বইটি চুমু দিয়ে আমি গর্বিত।

সুইডিশ নারী আরো বলেন, ডেনিশ ব্যক্তি সুইডেনে যা করেছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট নই। সুইডেনের পত্রিকা নারীটির ছবি প্রকাশ করলে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবার দৃষ্টি কাড়ে।