ইয়ংদের সামনে আনুন, তবেই সরকার পতন হবে : খালেদা জিয়াকে জাফরুল্লাহ

বাংলাদেশ

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী আজ রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বয়োজ্যেষ্ঠ নেতাদের বিশ্রামে পাঠিয়ে ইয়ং তথা নতুনদের দায়িত্ব দিলে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা ও সুযোগ আরো বাড়বে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উদ্দেশে তিনি বলেন, যেকোনোভাবেই হোক, আপনি একটি কাউন্সিল করেন।

স্থায়ী কমিটিতে যারা ছিলেন তাদেরকে বিশ্রামে পাঠান। চেয়ারে বসে থেকে থেকে তাদের কোমরে জরা ধরে গেছে। ইয়ংদের সামনের কাতারে নিয়ে আসেন। এদের দায়িত্ব দিলে এরা রাস্তায় নামবে, আর তখনই সরকারের পরিবর্তন আসবে।

আজ রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হক হলে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় সভায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ইঙ্গিত করে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘একজন রাজনীতিবিদের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের কাছে যাওয়া। জনগণের দুঃখ-কষ্ট নিজের চোখে দেখা। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে কখনও রাস্তায় আসতে দেখেছেন? জনগণের সম্মুখীন হতে দেখেছেন? তিনি বাংলাদেশের অনেক উন্নয়নের কথা বলেন।

অনেক সুন্দর সুন্দর কথা বলেন। কিন্তু কোনোটাই কার্যকরণ করতে পারেন না।’ গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, আপনিও রাস্তায় নামেন, জনগণের কাছে যান। তাহলে যৌন নির্যাতন কমে আসবে।’ প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে ডা. জাফরুল্লাহ আরো বলেন, শেখ হাসিনা বেগম খালেদা জিয়ার ওপরে যেটা করছেন সেটা কোনো রাজনৈতিক বিবেচ্য নয়।

কোনো সত্যিকারের রাজনীতিবিদ অন্য রাজনীতিবিদকে ছোট করে না। জিয়াউর রহমান তো কখনও বঙ্গবন্ধুকে ছোট করে নাই। বঙ্গবন্ধুও কখনও জিয়াউর রহমানকে ছোট করে নাই। তাঁকে সম্মান করেছেন, স্নেহ করেছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে যে ব্যবহার করছেন, সেটি সুকৌশলে তাঁকে দূর পথে ঠেলে দিচ্ছে।

খালেদা জিয়া সম্পর্কে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘দুঃখিত, বেগম খালেদা জিয়াও একটা ভুল করেছেন। শর্ত নিয়ে আসাটা তাঁর উচিত হয়নি। তিনি যদি কথাই না বলতে পারবেন, তাহলে জেলখানার বড় জায়গা রেখে গুলশানের বাড়িতে এসে লাভ কী?’

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘খালেদা জিয়া অসুস্থ, তাঁর চিকিৎসা হওয়ার সুযোগ দিন। তাঁকে জামিন দিন। তাঁর প্রতি আপনারা অন্যায় করছেন।’ বিচারপতিদের উদ্দেশে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, ‘আপনাদের বিচার হবে। আপনাদের মাজা ভেঙে গেছে। উঠতে পারছেন না, দাঁড়াতে পারছেন না।’

আরো পড়ুন: করোনা মহামারীর কারণে এ বছর স্টকহোমে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা অনুষ্ঠান বাতিল !

আর মাত্র ক’দিন বাকি। ৫ অক্টোবর থেকে ১২ অক্টোবরের মধ্যে ছয়টি কার্যদিবসে ছয়জন নোবেল পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে। এর মধ্যে নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণা করা হবে ৯ অক্টোবর।

নোবেল পুরস্কারের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তবে করোনা মহামারীর কারণে এ বছর স্টকহোমে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। বিজয়ীরা তাদের নিজ নিজ দেশ থেকে অনলাইনে অংশগ্রহণ করবেন।

নোবেল পুরস্কার ঘোষণার সময় ঘনিয়ে এলে বিশ্ব মিডিয়ায় বিভিন্ন মনগড়া সংবাদ দেখা যায়। যেমন, নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য বিশ্বের বড় বড় দেশের পছন্দের ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছেন অমুক-তমুক। ৯ সেপ্টেম্বর এ ধরনের একটি সংবাদ বিশ্ব মিডিয়ায় বেশ আলোচিত হয়েছে।

সংবাদের শিরোনাম ছিল: ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২১ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত’। শিরোনামটি পড়লে যে কোনো পাঠকই ভাববেন নোবেল কমিটিই বোধহয় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছে। অর্থাৎ তিনি মনোনীত হয়ে গেছেন, এখন শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা।

সংবাদটি দেখে বুঝে উঠতে পারছিলাম না আসলেই তিনি নোবেল পেতে যাচ্ছেন কি না। পরে কয়েকটি অনলাইন সংবাদমাধ্যম ঘেঁটে যা বুঝতে পারলাম তা হল- নরওয়ের একজন ডানপন্থী রাজনীতিক নোবেল কমিটি বরাবর মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষে ইমেইলে মনোনয়ন প্রেরণ করেছেন।

ওই মনোনয়নের আলোকেই মিডিয়ায় ওই সংবাদ ছাপা হয়েছে। এ সংবাদের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য কৌতূহলবশত নোবেল কমিটির কাছে একটি মিডিয়া ইনকোয়ারি পাঠাই। ইমেইল পাঠানোর সময় কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলাম, নোবেল কমিটি কি আদৌ ইমেইলের উত্তর দেয়ার প্রয়োজন মনে করবে?

কিন্তু আমার ধারণা অমূলক করে দিয়ে নোবেল কমিটি মাত্র ৬ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর পাঠাল। নোবেল কমিটির তথ্য-সেক্রেটারি ক্রিস্টিন আসদাল লিখেছেন, নোবেল পুরস্কারের মনোনয়ন সংক্রান্ত কোনো তথ্য পরবর্তী ৫০ বছরের আগে প্রকাশ করা হয় না। ৫০ বছর পর কেউ আবেদন করলে শুধু গবেষণা কাজের জন্য তথ্য দেয়া হতে পারে।

কোনো ব্যক্তিবিশেষের পক্ষে কেউ কোনো মনোনয়ন পাঠিয়েছেন কিনা সেই তথ্য নোবেল পুরস্কারের আইন অনুযায়ী কাউকে জানানো হয় না। তারা আরও জানিয়েছেন, প্রতিবছর ৩১ জানুয়ারি রাত ১২টার আগে ওই বছরের নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পাঠাতে হয়। প্রতিবছরই ৩শ’র বেশি মনোনয়ন জমা পড়ে।

এর মধ্যে ধাপে ধাপে দীর্ঘ ৮ মাস বিভিন্ন স্ক্রুটিনি ও ভোটাভুটি শেষে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। সুতরাং মনোনয়ন জমা দেয়া মানেই নোবেল জয় করা নয়। ইমেইল থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার হল, নোবেল কমিটি যেখানে নোবেল পুরস্কারের মনোনয়ন সংক্রান্ত কোনো তথ্য পরবর্তী ৫০ বছর পর্যন্ত প্রকাশ করে না,

তাই ডোনাল্ড ট্রাম্প মনোনীত হওয়ার তথ্য নোবেল কমিটি থেকে প্রেরিত নয়। হয়তোবা যিনি মনোনয়নটি পাঠিয়েছেন, তিনিই মিডিয়াকে জানিয়েছেন! অথবা যেহেতু নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, তাই ট্রাম্প কাউকে দিয়ে তার পক্ষে মনোনয়নটি পাঠিয়ে কিছু পাবলিসিটি নেয়ার চেষ্টা করেছেন।

যে বিশেষ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নোবেল পুরষ্কার বিজয়ী নির্বাচিত করা হয়, তাতে সময় লাগে প্রায় ৮ মাস। কোনো ব্যক্তিবিশেষ নিজেই নিজের মনোনয়ন দাখিল করতে পারেন না। একটি সুনির্দিষ্ট ক্যাটাগরির ব্যক্তিবর্গ তাদের পছন্দের যে কোনো ব্যক্তির জন্য মনোনয়ন দাখিল করতে পারেন।

প্রতি বছরের ৩১ জানুয়ারি রাত ১২টার মধ্যে ওই বছরের নোবেল পুরষ্কারের জন্য মনোনয়ন জমা দিতে হয়। অর্থাৎ এ প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হওয়ার প্রধান শর্ত হচ্ছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়ন জমা দেয়া।

তারপর ফেব্রুয়ারি ও মার্চের মধ্যে মনোনীত ব্যক্তিদের প্রোফাইল পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাই শেষে একটি শর্ট লিস্ট বা প্রাথমিক তালিকা তৈরি করে নোবেল কমিটি। মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত এ তালিকাটি পর্যালোচনা করা হয়। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ওই বছরের বিজয়ীদের নির্বাচিত করে নাম ঘোষণা করা হয়। কমিটির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এ ব্যাপারে আপিলের কোনো সুযোগ থাকে না।

তাইসির মাহমুদ : সম্পাদক, সাপ্তাহিক দেশ, লন্ডন

আরো পড়ুন: করোনা ভ্যাকসিন আসার আগেই মারা যাবে ২০ লাখ মানুষ: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

এখনো বিশ্বে একটি কার্যকর করোনা ভ্যাকসিনের সহজলভ্য ব্যবহার শুরুই হয়নি। এদিকে বিশ্বে কার্যকর কোনো ভ্যাকসিনের ব্যবহার সহজলভ্য হওয়ার আগেই প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে ২০ লাখ মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও।

সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এক বিবৃতিতে এ বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছে। খবর বিবিসির। ডব্লিউএইচওর জরুরি বিভাগের প্রধান মাইক রায়ান বলেছেন, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা জোরদার না হলে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনে প্রথম করোনার উপস্থিতি ধরা পড়ে। এখন পর্যন্ত বিশ্বের ২১৩টি দেশ ও অঞ্চলে এই ভাইরাসের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বজুড়ে এর মধ্যেই প্রায় ১০ লাখ মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে করোনাভাইরাস।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যাও পাল্লা দিয়ে বেড়েই চলেছে। ওয়ার্ল্ডোমিটারের পরিসংখ্যান বলছে, এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩ কোটি ২৭ লাখ ৬৫ হাজার ২০৪। এর মধ্যে মারা গেছে ৯ লাখ ৯৩ হাজার ৪৬৩ জন। অপরদিকে সুস্থ হয়ে উঠেছে ২ কোটি ৪১ লাখ ৭৮ হাজার ৩৪৬ জন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই ইতোমধ্যেই করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়ে গেছে। এ নিয়েও সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন পর্যন্ত করোনা সংক্রমণে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্র, ভারত এবং ব্রাজিলেই। এ তিন দেশেই সংক্রমণ প্রায় দেড় কোটির বেশি।

সম্প্রতি ইউরোপে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। ফলে অনেক দেশই নতুন করে আবারও লকডাউন আরোপের বিষয়ে চিন্তা করছে। বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারি শুরু পর বেশিরভাগ দেশেই লকডাউন জারি হলেও মাঝখানে বেশ কিছুদিন অনেক দেশেই কড়াকড়ি তুলে নেওয়া হয়েছিল।