৮০ বছরের বৃদ্ধ আদালতের বারান্দায় ঘুরছেন ২৮ বছর

বাংলাদেশ

২৮ বছরেও শেষ হয়নি মামলার বিচার। পটুয়াখালীর দুমকি গ্রামের ৮০ বছর বয়সী বাদী আলী আকবর হাওলাদারকে ঘুরতে হচ্ছে আদালতের দ্বারে দ্বারে। দুই যুগের বেশি সময় ধরে মামলা চালাতে গিয়ে নিঃস্ব ভুক্তভোগী পরিবারটি। আইনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিচার প্রক্রিয়ায় এমন দীর্ঘসূত্রতা কমাতে বিচারক ও আইনজীবী উভয়পক্ষকে হতে হবে সচেতন।

নিজের ৩৯ শতাংশ জমি প্রতিবেশী দখলে নিলে ন্যায়বিচারের জন্য ১৯৯২ সালে মামলা করেন পটুয়াখালীর যুগ্ম জজ আদালতে। কিন্তু কে জানত রায় পেতে কেটে যাবে ২৮টি বছর। অবশেষে নিম্ন আদালত রায়ে জমির মালিকানা বুঝিয়ে দিলেও প্রতিপক্ষ আপিল করে হাইকোর্টে। তাই রোববার আবারও আদালতের দরজায় আকবর আলী। ৮০ বছরের এই বৃদ্ধের জানা নেই জমিটুকু পেতে আর কত সময় লাগবে?

ভুক্তভোগী আকবর আলী জানান, আমি রায়টা চাই। জমির কাগজপত্র সবই আমার নামে।
২৮ বছর ধরে মামলা চালাতে গিয়ে প্রায় নিঃস্ব পরিবারটি। আকবর আলীর ছেলে আল মামুন হাওলাদার বলেন, যে সময়ে মামলাটা করা হয়; ওই সময়ে আমার বয়স ছিল আট বছর। এখন আমার বয়স ৩৬ বছর। এক কোর্ট থেকে আরেক কোর্ট করতে ২৮ বছর শেষ হয়ে গেছে। এখনও মামলা চলমান রয়েছে।

মামলার এমন দীর্ঘসূত্রিতায় বিচারপ্রার্থী মানুষ ন্যায়বিচার বঞ্চিত হচ্ছেন বলে মনে করছেন আইনসংশ্লিষ্টরা। সুপ্রিমকোর্ট লিগ্যাল এইডের প্যানেল আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস বলেন, এক্ষেত্রে দায় শুধু কোর্টের না আমি মনে করি আইনজীবীদের কিছু দায় রয়েছে।

যে পক্ষ পজিশনে থাকে দেওয়ানি কার্যবিধির সুযোগ সুবিধা নিয়ে বিভিন্ন ধরনে দরখাস্ত দাখিল করেন। এক্ষেত্রে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের ক্ষেত্রে একটু সতর্ক হওয়া উচিতি। বিচারের জন্য দুই যুগের বেশি অপেক্ষার পরও আকবর আলী আর তার পরিবারের আশা উচ্চ আদালতের রায়ে ফেরত পাবেন জমি। অবসান হবে প্রতীক্ষার।