শিশুকে নির্যাতন করা শিক্ষককে বাঁচিয়ে দিলেন মা!

বাংলাদেশ

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ইয়াসিন নামে আট বছরের এক শিশুকে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক হাফেজ ইয়াহিয়াকে আটক করেছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন। কিন্তু নির্যাতনকারী মাদ্রাসাশিক্ষককে আইনের হাত থেকে বাঁচিয়ে দিলেন শিশুটির মা এবং বাবা। অভিযুক্ত শিক্ষককে মুচলেকা দিয়ে তারা ছাড়িয়ে নিয়ে যান।

এই প্রসঙ্গে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, ভিডিওটি আমার নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে আমি অ্যাকশনে নামি। প্রথমেই নির্যাতনের শিকার শিশুটিকে আমার হেফাজতে নিয়ে আসি। পরবর্তীতে আটক করি অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেজ ইয়াহিয়াকে। এর মধ্যে শিশুটির মা এবং বাবা আমার কাছে এসে শিক্ষককে ছেড়ে দেয়ার জন্য কান্নাকাটি করতে থাকে।

ইউএনও রুহুল আমিন জানান, মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত ৫ ঘণ্টা তাদের বোঝানোর চেষ্টা করা হয়। যেহেতু এটি ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তাই আইনগত ব্যবস্থা নিতেই হবে। কিন্তু তারা তাদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে। তারা শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করবেন না, বরং প্রশাসন যেন শিক্ষককে ছেড়ে দেয় সে জন্য অনুনয়-বিনয় করতে থাকে।

ভোরে তাদের বুঝিয়ে বাড়িতে পাঠানোর পর সকালে আবারো ওই ছাত্রের বাসায় গিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানানো হয়। তারপরেও তারা অভিযোগ জানাতে রাজি না হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে শিক্ষককে ওই পরিবারের জিম্মায় দেয়া হয়েছে। মুচলেকায় শিশুটির বাবা মোহাম্মদ জয়নাল এবং মা পারভিন আকতার স্বাক্ষর করেছেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানান, নির্যাতনের শিকার শিশু ইয়াসিন হাটহাজারী সদরের মারকাজুল কোরান ইসলামী একাডেমীর হিফজ বিভাগের ছাত্র। মঙ্গলবার সকালে ওই শিশুর বাবা-মা তাকে দেখতে মাদ্রাসায় আসে। সাক্ষাৎ শেষে তারা চলে যাওয়ার সময় শিশুটি মায়ের আদর নিতে দৌড়ে মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে মাকে জড়িয়ে ধরে। এ নিয়ে মাদ্রাসাশিক্ষক হাফেজ ইয়াহিয়া কিছুটা রাগান্বিত হয়ে শিশুটিকে টেনে হেঁচড়ে মাদ্রাসায় নিয়ে আসে।

এরপর তাকে একটি কক্ষে ঢুকিয়ে মাটিতে ফেলে বেদমভাবে মারধর করে। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর শিশুটিকে টেনেহেঁচড়ে মাদ্রাসায় ঢুকানো এবং মারধরের ভিডিও ফেসবুকসহ নানা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। আর রাতেই উপজেলা প্রশাসন এই ঘটনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অ্যাকশনে নামে। শিশুটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পক্ষ থেকে আপাতত তাকে তদারকি করা হচ্ছে।