স্পাইডারম্যানকেও হার মানিয়েছেন জেল পলাতক রুবেল

বাংলাদেশ

মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি থেকে বাঁচতে কল্পকাহিনী স্পাইডার ম্যানকেও হার মানায় চট্টগ্রামের জেল পলাতক রুবেল। ৬০ ফুট উচ্চতার ৪ তলা ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে ২২ ফুট দূরত্বের ১৮ ফুট উঁচু সুরক্ষা প্রাচীর ডিঙিয়েছে সে। এমনকি দুর্ঘটনা এড়াতে কারাগারের সুরক্ষা এবং সীমানা প্রাচীরের মধ্যবর্তী ৬ ফুটের মধ্যে লাফ দিয়ে সে স্বাভাবিক ছিল। সুরক্ষা প্রাচীর টপকানো অসম্ভব এমন চিন্তা থেকেই কারা কর্তৃপক্ষ তিনদিন পরও জানতে পারেনি পালানোর কথা।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের কর্ণফুলী ভবনের পানিশমেন্ট সেল থেকে বের হয়েই পাশের নির্মাণাধীন চারতলা ভবনের ছাদে উঠে যায় রুবেল।

আর সেই ভবনের ২২ ফুট দূরত্বের মধ্যে রয়েছে কারাগারের সুরক্ষা প্রাচীর। যার উচ্চতা প্রায় ১৮ ফুট। এরপর ৬ ফুট প্রস্থের পায়ে চলার হাঁটা পথের পাশেই সাড়ে ছয় ফুট উচ্চতার সীমানা প্রাচীর। যার উপরে রয়েছে কাঁটাতার। কিন্তু কল্পকাহিনী স্পাইডার ম্যানের অনুকরণে চারতলা ভবন থেকে লাফ দিয়ে সুরক্ষা প্রাচীর ডিঙিয়েই হত্যা মামলার আসামি রুবেল পালিয়ে যায়। সিএমপি’র কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন বলেন, সে লাফ দিয়ে নিরাপত্তা প্রাচীরের বাইরে গিয়ে পড়েছে।

কারারক্ষীদের চোখ এবং সিসিটিভি ক্যামেরা ফাঁকি দিয়ে ১৮ ফুট উচ্চতার সুরক্ষা প্রাচীর টপকে কারো পালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে নিশ্চিত ছিল কারা কর্তৃপক্ষ। যে কারণে ৬ মার্চ ভোরে রুবেল কারাগার থেকে দেয়াল টপকে পালিয়ে গেলেও তিনদিন পর্যন্ত তার এ পালিয়ে যাওয়া নিশ্চিত হতে পারেনি তারা। ৮ মার্চ রাতে কয়েক সেকেন্ডের একটি সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে রুবেলের সুউচ্চ ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ার দৃশ্য। পরদিন ৯ মার্চ নরসিংদী থেকে আটকের পর রুবেল পুলিশের কাছে স্বীকার করে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড হতে পারে এমন শংকায় তিনি মৃত্যুঝুঁকি নিয়েছিলেন।

সিএমপি’র অতিরিক্ত উপ কমিশনার পলাশ কান্তি নাথ বলেন, লাফ দিলে কী হতে পারে সেটা তখন তার মাথায় ছিল না। মৃত্যুদণ্ড হলে সে মারা যাবে এই ভয়েই সে ভীত ছিল। ছুরিকাঘাতে বন্ধুকে হত্যার দায়ে ৮ ফেব্রুয়ারি সদরঘাট এলাকা থেকে পুলিশ রুবেলকে গ্রেফতার করে। এর আগেও ৫টি মামলায় তিনবার কারাগারে ছিলেন তিনি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। সমাজ-বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এধরনের বিপজ্জনক ঘটনা এড়াতে কারাগারগুলোতে মোটিভেশনাল কার্যক্রম চালু করা দরকার।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, তাদের প্রেষণামূলক বা মোটিভেশনাল কিছু কাউন্সিলিং দিয়ে তাদের আশ্বস্ত করতে হবে যে কারাগারটা নিরাপদ, তুমি যে অপরাধটা করেছ তার চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত তুমি নিরাপদে আছ। সুউচ্চ ভবন থেকে লাফিয়ে পড়তে গিয়ে তার পা সামান্য মচকে যায়। আর কাঁটাতারের বেড়ার সীমানা প্রাচীর পার হতে গিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কেটে যায়।