আজীবন বিনামূল্যে চিকিৎসা পাবে রাবেয়া-রোকেয়া

বাংলাদেশ

দীর্ঘদিন সফল চিকিৎসায় জোড়া মাথা আলাদা হওয়ার পর সুস্থ হয়ে রোববার (১৪ মার্চ) বাড়ি ফিরেছে পাবনার দুই বোন রাবেয়া-রোকেয়া। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) থেকে রাবেয়া-রোকেয়ার গৃহে প্রত্যাবর্তন অনুষ্ঠানে দুপুরে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় রাবেয়া-রোকেয়ার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি খুব আনন্দিত যে এত দীর্ঘ সময়ের পর রাবেয়া-রোকেয়ার সফল অস্ত্রোপচার হয়েছে। সবাই আন্তরিকভাবে কাজ করেছে বলেই আজ এ সাফল্য এসেছে।
২০১৯ সালের ১ আগস্ট বাংলাদেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক মাইলফলক। এ দিনেই সিএমএইচ ঢাকায় জোড়া মাথা পৃথকীকরণের জটিল অপারেশনটি শুরু হয়।

হাঙ্গেরি সরকারের সহযোগিতায় ‘একশন ফর ডিফেন্সলেস পিপল ফাউন্ডেশন’-এর সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাঙ্গেরিতে ছোট-বড় ৪৮টি অপারেশন সম্পন্ন হয়।
পরবর্তীতে শিশু দু’টিকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে এই অপারেশনের সবচেয়ে জটিল অংশ যমজ-মস্তিস্ক আলাদাকরণের কাজটি সিএমএইচ ঢাকায় সম্পন্ন করা হয়।

এ ধরনের অপারেশন সারা বিশ্বেই বিরল এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় প্রথম। অপারেশন পরবর্তী সাফল্যও বিশ্বে খুব বেশি নেই। পিএমও সূত্র জানায়, ঢাকা সিএমএইচ শিশু দু’টির জন্য আজীবন চিকিৎসা সুবিধা কার্ড প্রদান করেছে, যাতে ভবিষ্যতে সিএমএইচসহ যে কোনো সরকারি হাসপাতালে তারা বিনামূল্যে সব ধরনের চিকিৎসা সেবা পায়।

দুই বোনের মধ্যে রাবেয়া সম্পূর্ণ সুস্থ হলেও রোকেয়ার কিছু নিউরো জটিলতা রয়েছে বলে জানান চিকিৎসকরা। তবে তারা আশাবাদী, বিরল এই শিশু দুটি অবশ্যই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সক্ষম হবে। দীর্ঘ এ যাত্রায় সবসময় তাদের পাশে থাকবে দেশের সব সিএমএইচগুলো। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ এবং শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্তলাল সেন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

জন্ম নেয়ার বয়স হয়েছে পাঁচ বছর। কিন্তু প্রকৃতির খেয়ালে মাথা জোড়া লাগানো অবস্থা থেকে মুক্তিতেই রাবেয়া-রোকেয়ার কেটে গেছে দীর্ঘ চার বছর। ২০১৬ সালের ১৬ জুলাই রাবেয়া এবং রোকেয়া এই যমজ দুই বোন সংযুক্ত মাথা নিয়ে পাবনার স্কুল শিক্ষক দম্পতি রফিকুল ইসলাম এবং তাসলিমা খাতুনের ঘরে জন্মগ্রহণ করে।