গায়ে রক্তাক্ত জামা, খুনি সন্দেহে ওদের ধরল পুলিশ

বাংলাদেশ

কক্সবাজারে আবাসিক হোটেল কক্ষে এক যুবককে খুন করে পালিয়ে যাওয়ার সময় ‘গায়ে রক্তাক্ত জামা পরা’ দেখতে পেয়ে চট্টগ্রামে খুনি সন্দেহে দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মুনীর-উল-গীয়াস জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) রাত দেড়টায় চট্টগ্রামের কর্ণফুলী সেতুর তল্লাশিচৌকির পুলিশ সদস্যরা যাত্রীবাহী বাস থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন-ঢাকার খিলগাঁও থানার মালিবাগের চৌধুরী পাড়ার আব্দুস সালামের ছেলে মো. বাবু এবং একই এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে মো. নজরুল ইসলাম। এর আগে ওইদিন বিকেলে কক্সবাজার শহরের হোটেল-মোটেল জোন এলাকার আবাসিক হোটেল সুইট হোম রিসোর্টের ৩০২ নম্বর কক্ষ থেকে আব্দুল মালেক (২৮) নামের এক যুবকের রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মো. বাবু ও মো. নজরুল ইসলাম গত ১৫ মার্চ সকালে একদিনের জন্য ওই হোটেলে কক্ষ ভাড়া নিয়েছিল।

ওইদিন দুপুর ১২টায় হোটেল কক্ষ ছাড়ার সময় হলে কর্মচারীরা ভেতর থেকে দরজা বন্ধ পায়। অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পরও ভেতরে থাকা লোকজনের কোনো ধরনের সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। পরে ডুপ্লিকেট একটি চাবি দিয়ে কক্ষটির তালা খোলা হয়। এ সময় মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় একজনকে পড়ে থাকতে দেখে। পরে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করার পর একজনের মৃতদেহ উদ্ধার করে।

নিহত আব্দুল মালেক (২৮) কক্সবাজার শহরের বাদশাঘোনা সওদাগর পাড়ার জাগির হোসেনের ছেলে। সে মৎস্য ব্যবসায়ী ছিল। ওসি মুনীর-উল-গীয়াস বলেন, মঙ্গলবার গভীর রাতে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী সেতুর চেকপোস্টের পুলিশ সদস্যরা যানবাহনে তল্লাশি করছিল। কক্সবাজার শহর থেকে ছেড়ে যাওয়া ঢাকাগামী যাত্রীবাহী একটি বাসে তল্লাশির সময় পুলিশ সদস্যরা দুই ব্যক্তিকে রক্তাক্ত জামা পরা থাকা দেখতে পায়। এতে পুলিশ সদস্যদের মনে সন্দেহ জাগে।

এ সময় পুলিশ ওই ব্যক্তিদের কাছে রক্তাক্ত জামা পরার কারণ জানতে চাইলে তারা সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন জানায়। পরে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে খোঁজখবর নিয়ে নিশ্চিত হয় যে দুর্ঘটনার তথ্যটি সত্য নয়। এতে পুলিশ সন্দেহজনকভাবে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। ওসি বলেন, চট্টগ্রামে সন্দেহজনক দুজনকে গ্রেফতারের তথ্যটি কক্সবাজার সদর থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়।

গ্রেফতার দুজনকে পুলিশ কক্সবাজারে আবাসিক হোটেল কক্ষে যুবক খুনের ঘটনায় জড়িত বলে সন্দেহ করছে। তাদের দুজনকে কক্সবাজার আনতে সদর থানা পুলিশের একটি দল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে এবং মধ্যরাতের মধ্যে নিয়ে আসা হবে বলে জানান শেখ মুনীর-উল-গীয়াস।