সেই ডক্টরেট ডিগ্রি নিয়ে মুখ খুললেন মমতাজ

বাংলাদেশ

সম্প্রতি ভারতের তামিলনাড়ুর গ্লোবাল হিউম্যান পিস ইউনিভার্সিটি থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পাওয়া নিয়ে নতুন করে সমালোচনায় এসেছেন দেশের সংগীত জগতে ‘ফোক সম্রাজ্ঞী’ খ্যাত মমতাজ। যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি পেয়েছেন মমতাজ সেটি বৈধ নয় বলে শোনা যায়। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে ডিগ্রি বিক্রির অভিযোগও সামনে আসে।

বিষয়টি উঠে এসেছে বিডি ফ্যাক্টচেকের অনুসন্ধানে। তারা বলছে, ভারতে গ্লোবাল হিউম্যান পিস ইউনিভার্সিটি নামে বৈধ কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নেই। তবে এই নামে একটি ওয়েবসাইট আছে, যারা টাকার বিনিময়ে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি দিয়ে থাকে, যা ভারতের দ্য ইউনিভার্সিটি গ্র্যান্টস কমিশন (ইউজিসি) অ্যাক্ট ১৯৫৬ অনুযায়ী অবৈধ।

এতদিন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও রোববার (২৫ এপ্রিল) গণমাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি কিভাবে এই সম্মাননার আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানান এই সংসদ সদস্য। মমতাজ বলেন, বছরখানেক আগে কর্তৃপক্ষ আমাকে ই-মেইলে জানিয়েছিল। তারা বলেছিল, আমাকে ডক্টরেট ডিগ্রি দিতে চায়।

তখন আবার দেশে করোনার সংক্রমণ শুরু হয়েছে। বাইরের দেশ থেকে এমন একটি খবর শুনে আমি খুশি হলাম। তারপর আমার লোকজন দিয়ে খবরাখবর নিলাম। যতটা জানতে পারি, আমি লোকগানের সঙ্গে এত বছর ধরে আছি, বাউলদের নিয়ে কাজ করছি, সামাজিক নানা কর্মকাণ্ডেও নিজেকে যুক্ত রেখেছি বলেই তারা আমাকে বেছে নিয়েছে।

এরপর করোনা পরিস্থিতি একটু উন্নতি হতেই মাস তিনেক আগে তামিলনাড়ুর ওই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আবার যোগাযোগ করে। তারা জানায়, একটা দিনক্ষণ ঠিক করেছে, চাইলে আমি এখন অংশ নিতে পারি। এ নিয়ে আমি কলকাতায় আমার পরিচিত বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছি।

তারা খোঁজখবর নিয়ে জানিয়েছে, এর আগে এই সম্মাননা বাংলাদেশের আরও একজনকে দেওয়া হয়েছিল। এবার যাদের সম্মাননা দিয়েছে, তাদের মধ্যে ওই দেশের সাবেক আইজিপি যেমন আছেন, তেমনি বিচারপতি, চ্যানেলের মালিক, তামিলনাড়ুর ধর্মগুরুও ছিলেন। ১০ জন বিশেষ ডিগ্রিধারী লোক ছিলেন। আমাকে যথেষ্ট সম্মান করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির বিষয়ে এ শিল্পী বলেন, এই বিষয়ে আমার গভীরভাবে জানা নেই। ওই দেশের ডিটেইলস আমার জানার কথাও না। যতটা পেরেছি আমার লোকজন দিয়ে খবর নিয়ে জানতে পেরেছি, সবই ঠিকঠাক। আমার দেশ হলে হয়তো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে খবর নিতে পারতাম।

তবে আমার কাছে বিষয়টি এই জন্য বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়েছে, ওখানকার গণ্যমান্য যারা উপস্থিত হয়েছেন, তারা নিশ্চয়ই না জেনে সেখানে যাননি। আমি না হয় অনেক কিছু না জেনে গেছি। তাদের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে, তারা না জেনে আসার মানুষ নন। এই মানুষগুলো যেহেতু গিয়েছিলেন, তাই ধরে নিতে পারি বিশ্ববিদ্যালয়টি ভুয়া নয়।