‘আমরা বিয়ে করেছি’, প্রেমিক বাপ্পীকে বলেছিলেন মুনিয়া

বাংলাদেশ

মোসারাত জাহান মুনিয়াকে নিয়ে মুখ খুলেছেন তার সাবেক প্রেমিক অভিনেতা বাপ্পী রাজ। জানিয়েছেন তার সঙ্গে মুনিয়ার গভীর প্রেমের কথা। সময় নিউজকে বাপ্পী জানান, তার সঙ্গে গভীর সর্ম্পক ছিল মুনিয়ার।

মুনিয়ার বিষয়ে মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) মুঠোফোনে সময় নিউজকে বাপ্পী রাজ জানান, ‘২০১৭-১৮ সালে, দুই বছর আমাদের সম্পর্ক ছিল। আমি মন থেকে ওকে পছন্দ করতাম। আমার পুরো পরিবার বিষয়টি জানত।

সম্পর্কের মাঝে হঠাৎ গ্যাপ হয়ে গেল। তারপর মুনিয়া কোথায় যেন হারিয়ে গেল। গত বছর আমি খুলনাতে ছিলাম। এখনও খুলনাতেই আছি। তখন বলেছিল, আমরা বিয়ে করেছি। তারপরও চার-পাঁচদিন টানা কথা হয়েছিল আমাদের, ও সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছিল। তারপর আবার রাগ করে ব্লক করে দেয়।’

আরও পড়ুন: ‘উনি আমাকে বিয়ে করবেন না’
তখন কাকে বিয়ে করেছিল মুনিয়া? উত্তরে বাপ্পী রাজ বলেন, ‘যে শিল্পপতির সঙ্গে এখন ওকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে তাকে বিয়ে করেছিল। মুনিয়ার সঙ্গে আমার শেষ কথা হয়েছিল গত বছর ফেব্রুয়ারিতে। তখন সে বিয়ের কথাটি বলেছিল। গুলশানের একটি ফ্ল্যাটে থাকত বলেও আমাকে জানিয়েছিল।

সে ওই লাইফ থেকে মুক্তি চাচ্ছিল, সাধারণ লাইফে ফিরে আসতে চাইছিল।’ বাপ্পী রাজ আরও জানান, একাধিক প্রেমের সম্পর্ক ছিল মুনিয়ার। সে বেশ আড্ডাবাজ ছিল। ঢাকাই সিনেমার এক নায়কের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর বাপ্পী রাজের সঙ্গে পরিচয় হয় মুনিয়ার। পরিচয় থেকে গভীর প্রেম। তাকে বিয়েও করতে চেয়েছিল বাপ্পী রাজ।

আরও পড়ুন: লাখ টাকার ভাড়া ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন তরুণী
রাজধানীর গুলশানে একটি ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান মুনিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এক শিল্পপতিকে আসামি করে থানায় মামলা করেন মুনিয়ার বড় বোন।

মুনিয়ার বড় বোনের অভিযোগ, ভিকটিমের সঙ্গে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে পরিচয় এবং সম্পর্ক ছিল মুনিয়ার। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে মনমালিন্য হয়। মুনিয়া কুমিল্লা চলে যায় এবং পুনরায় ঢাকায় আসেন। পরবর্তীতে মুনিয়া তার বোনকে ফোন করে জানান, তার জীবনে যে কোনো সময় যে কোনো কিছু ঘটতে পারে।

পুলিশ জানায়, দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় শিল্প গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) সঙ্গে মুনিয়ার পরিচয় ছিল। সে গুলশান ২-এর ১২০ নম্বর সড়কে একটি ফ্ল্যাটে একাই থাকত। ওই ফ্ল্যাটে যাতায়াত ছিল ওই শিল্প গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের।

সব বন্ধ, পেট তো বন্ধ নেই, কামড় দেয় ক্ষুধাসব বন্ধ, পেট তো বন্ধ নেই, কামড় দেয় ক্ষুধা

রাজধানীর তোপখানা রোডের যে পাশে জাতীয় প্রেসক্লাব, ঠিক তার উল্টো দিকেই মুদ্রাক্ষরিকদের (টাইপরাইটার) ছোট ছোট দোকান। একই সঙ্গে আইনজীবীদের সহকারী হিসেবে নোটারি পাবলিক করিয়ে দেওয়ার কাজও করেন তাঁরা। বিনিময়ে আইনজীবীরা কিছু পান, বাকিটা নেন এসব সহকারী।

তবে দোকান মানে একটা কাঠের চেয়ার, একটা টেবিল আর একটা টুল। গতকাল মঙ্গলবার খাঁ খাঁ দুপুরে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, কাঠের চেয়ার-টেবিলগুলো ওলটানো। শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা এগুলো। মুদ্রণজগতে কম্পিউটারের প্রচলন শুরু হওয়ার পর থেকে এমনিতেই মুদ্রাক্ষরিকদের কাজ ও কদর কমে আসছে।

করোনাভাইরাস আসার পর তা এখন একেবারেই বন্ধ হয়ে যাওয়ার জোগাড়। ১৪ এপ্রিল দেশব্যাপী সর্বাত্মক লকডাউন শুরুর পর থেকে মুদ্রাক্ষরিকেরা সবাই ঘরবন্দী। কথা বলার একজন লোকও পাওয়া যায়নি গতকাল। সেখানে পাওয়া যায় মো. আকরামুল ইসলাম নামের একজনের, যাঁর একটি দোকান রয়েছে।

ওই দোকানে তিনি ফটোকপি ও মোবাইলে টাকা রিচার্জের পাশাপাশি মোবাইলে আর্থিক সেবা দাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের এজেন্ট হিসেবেও কাজ করেন। বিকাশ, নগদ, রকেটের দোকান খুলতে যেহেতু বাধা নেই, তাই তিনি খুলেছেন। কিন্তু গ্রাহক নেই। তিনি জানান, ১৯৭৩ সালে ৬৫ জন মুদ্রাক্ষরিক এখানে বসা শুরু করেন। এখন আছেন ৩৪ জন।

তোপখানা রোড পেশাজীবী মুদ্রাক্ষরিক কল্যাণ সমিতির সদস্য তাঁরা। কাজ না থাকায় লোকগুলো খুবই কষ্টে আছেন। আকরামুল ইসলাম জানান, কাজ নেই, গ্রাহকও নেই। তবু কাজের আশায় গতকাল ঢাকার মানিকনগর থেকে পায়ে হেঁটে তোপখানা রোডে এসেছিলেন টাইপরাইটার নূরনবী হোসেন। কিন্তু সেই আশার গুড়ে বালি।

কিছুক্ষণ বসে থেকে আবার হেঁটে হেঁটে চলে যান তিনি। কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাই বলায় আকরামুল পুরোনো মুদ্রাক্ষরিক আলী আহমেদের মোবাইল নম্বর দেন। বিকেলে ফোন করে পরিচয় দিতেই আলী আহমেদ বলেন, ‘৩০ বছর ধরে তোপখানা রোডে আসছি। এমন খারাপ সময় কখনো আসেনি, যদিও অনেক আগে থেকেই আমাদের দিন খারাপ হয়ে আছে।

টাইপ করতে কেউ আসেন না। সব খেয়ে ফেলেছে কম্পিউটার। তবে মাঝে মাঝে নোটারি করতে লোক আসেন। আইনজীবীদের মাধ্যমে তা করাতে হয়। গ্রাহকদের কাছ থেকে যা পাওয়া যায়, তা থেকে আইনজীবীরা আমাদের একটা অংশ দেন। তাতে কোনো দিন ২০০ টাকা, কোনো দিন ৩০০ টাকা পাই।

ভাগ্য ভালো থাকলে ৫০০ টাকাও পাওয়া যায় কোনো কোনো দিন। এই আয় থেকে চেয়ার-টেবিল নিয়ে বসার একটা ভাড়াও দিতে হয় সিটি করপোরেশনকে।’ কিন্তু এখন তো সবই বন্ধ। ফলে দোকান ভাড়াই কী দেবেন, আবার বাড়ি ভাড়াই কী দেবেন—তা নিয়ে চিন্তিত আলী আহমেদ। তিন বেলা খাওয়ার ব্যবস্থা কীভাবে করবেন—সেই চিন্তায় দিশেহারা তিনি।

বলেন, ‘জীবনে আর কিছু শিখিনি। বয়স হয়েছে, শেখার সুযোগও নেই আর। কিন্তু পেটটা তো আছে। পেট তো বন্ধ নেই, কামড় দেয় ক্ষুধা।’ আলী আহমেদের পাঁচ ছেলেমেয়ের মধ্যে দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে। এক মেয়ে অনার্স প্রথম বর্ষে পড়ছেন। ১০ বছর বয়সী একটা প্রতিবন্ধী ছেলে আছে। তিনি বলেন, ‘শুনেছি, প্রতিবন্ধী বাচ্চাদের ভাতা দেয় সরকার। আমার ছেলেটা পায় না।’