অপরাধী যেই হোক, আইনের মুখোমুখি হতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, অপরাধী যে-ই হোক না কেন, তাকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে। বুধবার দুপুরে ধানমণ্ডির বাসভবন থেকে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি এ কথা বলেন। গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়ার লাশ উদ্ধারের ঘটনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আমি পরিষ্কার…আইন, আইন অনুযায়ী চলবে।

যে-ই অপরাধী হয় তাকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে, বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। তিনি আরও বলেন, এটা (ঘটনাটি) তদন্তাধীন রয়েছে। সে তদন্তের পরেই আমরা বলতে পারব। হেফাজত নেতাদের বিরুদ্ধে চলা মামলাগুলোর প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইন অনুযায়ী মামলাগুলো চলছে। তিনি বলেন, বাবুনগরীর বিরুদ্ধে ২০১৩ সালে মামলা ছিল, সে আটকও ছিল।

সেটা এখন কি অবস্থায় আছে, জেনে কথা বলতে হবে। আটক ছিল, পরে জামিন নিয়ে আসছিলেন, এটুকুই আমরা জানি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বেলন, যে সমস্ত মামলা রয়েছে, সেগুলো আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, আমি এটা বারবার বলছি। যে-ই অপরাধ করবেন তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন জাবি শিক্ষার্থী

হিন্দু ধর্ম ছেড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। সরকারি এক হলফনামায় স্বাক্ষর করে তিনি এ ঘোষণা দিয়েছেন। আগে তার নাম ছিল অনুপম কুমার পাল। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তিনি নাম নিয়েছেন মুজতাবা রাহমান তাহমিদ। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের ৪২ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী।

হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমি স্বেচ্ছায়, স্বজ্ঞানে, সুস্থ মস্তিষ্কে অন্যের বিনা প্ররোচণায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছি। ইসলামের সকল নিয়ম-কানুন জেনে বুঝে এক মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন, তার পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল কোরআন এবং তার প্রেরিত রাসুল হযরত মুহাম্মদ (স.) এর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করেছি। আমি ইসলামের সকল বিধিবিধান পালন করছি।’

হলফনামায় নাম পরিবর্তনের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অনুপ কুমার পাল এর পরিবর্তে এখন থেকে মুজতবা রাহমান তাহমিদ সংশোধন করে নেব এবং এ নামেই এখন থেকে সব জায়গায় পরিচিত হব।’ তাহমিদ তার সকল শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রে নাম পরিবর্তনের জন্য জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছেন।

ইসলাম ধর্ম গ্রহণের বিষয়ে তিনি তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেন, ‘সকল প্রশংসা মহান স্রষ্টার যিনি আমাকে এই সত্য উপলব্ধি করিয়েছেন। সবার ভাগ্যে এই সত্যের সন্ধান জোটে না, তাই নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। ২০০৯ সাল থেকে ইসলামের উপর বিশ্বাসের শুরু। এই বিশ্বাসের পেছনে পৃথিবীর কেউ বা কোন কিছু দায়ী না।

কেউ আমাকে ওরকম ভাবে ইসলামের দাওয়াত দেয়নি। স্রষ্টার কৃপায় নিজের বুদ্ধি, বিবেক দিয়ে পড়ে, জেনে, বুঝেই এগিয়েছি। পথে অনেক বাধাবিপত্তি ছিল। আল্লাহর সাহায্যে একটার পর একটা পাড়ি দিয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ।’ তিনি আরও লিখেন, ‘২০১০ সালে যখন প্রকাশ করলাম, তখন দেখলাম ভুল সময়ের স্বীকার হয়েছি।

তখন সাবালক ছিলাম না, তাই আমার কথার দাম ছিল না। তাই পরিস্থিতি অনুকূলে না দেখে চুপ হয়ে রইলাম। কিন্ত এতটা দীর্ঘ সময় যে কেটে যাবে, ভাবতে পারিনি। যাইহোক এতটা দীর্ঘ সময় ধরে এক চুল পরিমাণ বিশ্বাসের ঘাটতি হয়নি, এক মুহূর্তের জন্যও না। এই বিশ্বাস নিয়েই আজীবন থাকতে চাই।’

‘জানি না সামনের পথটা কেমন কঠিন হবে। এখনও বেকার, আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হইনি পুরোপুরি। নিশ্চয়ই আল্লাহ সাহায্য করবেন। আর জানি পাশে অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী পাব। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন যেন আজীবন এই বিশ্বাসের উপর অটল থাকতে পারি আর এই বিশ্বাসের প্রচার করতে পারি।’

ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন জাবি শিক্ষার্থী

হিন্দু ধর্ম ছেড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। সরকারি এক হলফনামায় স্বাক্ষর করে তিনি এ ঘোষণা দিয়েছেন। আগে তার নাম ছিল অনুপম কুমার পাল। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তিনি নাম নিয়েছেন মুজতাবা রাহমান তাহমিদ। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের ৪২ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী।

হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমি স্বেচ্ছায়, স্বজ্ঞানে, সুস্থ মস্তিষ্কে অন্যের বিনা প্ররোচণায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছি। ইসলামের সকল নিয়ম-কানুন জেনে বুঝে এক মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন, তার পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল কোরআন এবং তার প্রেরিত রাসুল হযরত মুহাম্মদ (স.) এর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করেছি। আমি ইসলামের সকল বিধিবিধান পালন করছি।’

হলফনামায় নাম পরিবর্তনের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অনুপ কুমার পাল এর পরিবর্তে এখন থেকে মুজতবা রাহমান তাহমিদ সংশোধন করে নেব এবং এ নামেই এখন থেকে সব জায়গায় পরিচিত হব।’ তাহমিদ তার সকল শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রে নাম পরিবর্তনের জন্য জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছেন।

ইসলাম ধর্ম গ্রহণের বিষয়ে তিনি তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেন, ‘সকল প্রশংসা মহান স্রষ্টার যিনি আমাকে এই সত্য উপলব্ধি করিয়েছেন। সবার ভাগ্যে এই সত্যের সন্ধান জোটে না, তাই নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। ২০০৯ সাল থেকে ইসলামের উপর বিশ্বাসের শুরু। এই বিশ্বাসের পেছনে পৃথিবীর কেউ বা কোন কিছু দায়ী না।

কেউ আমাকে ওরকম ভাবে ইসলামের দাওয়াত দেয়নি। স্রষ্টার কৃপায় নিজের বুদ্ধি, বিবেক দিয়ে পড়ে, জেনে, বুঝেই এগিয়েছি। পথে অনেক বাধাবিপত্তি ছিল। আল্লাহর সাহায্যে একটার পর একটা পাড়ি দিয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ।’ তিনি আরও লিখেন, ‘২০১০ সালে যখন প্রকাশ করলাম, তখন দেখলাম ভুল সময়ের স্বীকার হয়েছি।

তখন সাবালক ছিলাম না, তাই আমার কথার দাম ছিল না। তাই পরিস্থিতি অনুকূলে না দেখে চুপ হয়ে রইলাম। কিন্ত এতটা দীর্ঘ সময় যে কেটে যাবে, ভাবতে পারিনি। যাইহোক এতটা দীর্ঘ সময় ধরে এক চুল পরিমাণ বিশ্বাসের ঘাটতি হয়নি, এক মুহূর্তের জন্যও না। এই বিশ্বাস নিয়েই আজীবন থাকতে চাই।’

‘জানি না সামনের পথটা কেমন কঠিন হবে। এখনও বেকার, আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হইনি পুরোপুরি। নিশ্চয়ই আল্লাহ সাহায্য করবেন। আর জানি পাশে অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী পাব। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন যেন আজীবন এই বিশ্বাসের উপর অটল থাকতে পারি আর এই বিশ্বাসের প্রচার করতে পারি।’

কিশোরীর ডাকে গল্পকেও হার মানাল তুরস্ক –

সময় মাত্র সাত থেকে আট ঘণ্টা। জীবন-মরণ সমস্যায় থাকা একজন রোগীর জন্য এটি অনেক লম্বা হলেও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার জন্য নেহাত সামান্য। নাটকীয়ভাবেই ঘটেছে ঘটনাটি। দেশের বাইরে থাকা এক কিশোরীর ডাকে সাড়া দিয়ে তার বাবার চিকিৎসার যাবতীয় ব্যবস্থা করেছে ইউরোপীয় মুসলিম দেশ তুরস্ক।

পরিবারের সাথে লেয়লা গুলুসকেন নামের ওই কিশোরী থাকেন সুইডেনে। সেখানেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন তার বাবা তুরস্কের নাগরিক ইমরুল্লাহ গলুসকেন। লেয়লা সংবাদমাধ্যমকে জানান, তার বাবা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এমন সন্দেহ হলে চিকিৎসককে খবর দেয়া হয়। বাড়িতে একজন চিকিৎসক আসেন। বাবাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

হাসপাতালে নেয়ার পর লেয়লার বাবার শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। কিন্তু ডাক্তার হাসপাতালে ভর্তি না করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এরপর ভালো চিকিৎসা করাতে মরিয়া হয়ে ওঠে পরিবার। কিন্তু লেয়লাদের মনে হতে থাকে সুইডেনের হাসপাতালে তার বাবাকে তেমন গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না। ঠিকভাবে চিকিৎসাও দেয়া হচ্ছে না। নিজ দেশের ওপর প্রবল আস্থা লেয়লার। দেশটির নেতা রজব তাইয়েব এরদোগানের প্রতি তার প্রচণ্ড বিশ্বাস।

তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন পরিবারের এই কঠিন সময়ে দেশের কাছে প্রিয় নেতার কাছে কিছু চাইবেন। প্রবাসে থেকেই তিনি বাবার স্বাস্থ্যের অবস্থা জানিয়ে টুইটারে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। এতে তিনি তার বাবার সর্বশেষ অবস্থা জানান এবং বলেন, সুইডেনে তারা ঠিকভাবে চিকিৎসা পাচ্ছেন না। ২১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে তিনি দেশকে পাশে পাওয়ার আবেদন জানান।

লেয়লার বোন সামিরা গুলুসকেন ভিডিওটি শেয়ার দেন। সেখানে সামিরা লিখেন, আমরা আমার পরিবারের সাথে সুইডেনে থাকি। আমার বাবার ১১ দিন আগে জ্বর হয়। সাথে শ্বাসকষ্ট। আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে ডাক্তার ডাকলাম। কিন্তু তারা আমাদের যাকে সাড়া দিলো না। পাশ কাটিয়ে গিয়েছে। প্রতিদিন অনেকবার ফোন করেছি। কিন্তু তারা আসেনি। এরপর তিনি সাহায্যের আবেদন জানান।

লেয়লার এই অনুরোধ নজরে আসে তুরস্কের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা: ফাহরুদ্দিন খোজার। তিনি তার ভেরিফায়েড আইডি থেকে লেয়লার অনুরোধে সাড়া দিয়ে লেখেন, ‘প্রিয় লেয়লা, আমরা তোমাকে শুনতে পেয়েছি। বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে আমরা সুইডেনে আসছি। সকাল ৬টায় আমরা রওয়ানা দিচ্ছি। এমন সময় আমি দূরে থাকার জন্য দুঃখিত। তুরস্কের হাসপাতাল ও চিকিৎসক তোমার বাবার চিকিৎসা করতে প্রস্তুত। আমাদের প্রেসিডেন্টের শুভেচ্ছা নিও। তুরস্কের সব মানুষের পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি অনেক ভালোবাসা।’

এর পর সুইডেনের মালমো বিমানবন্দরে পৌঁছায় জিএমটি ০৭০০ বিমান। সুইডেন থেকে করোনায় আক্রান্ত ৪৭ বছর বয়সী ইমরুল্লাহ গলুসকেন এবং তার তিন কন্যাকে দেশে ফিরিয়ে নেয়া হয় মাত্র সাত থেকে আট ঘণ্টার ব্যবধানে। পরে শুরু হয় চিকিৎসা তৎপরতা। রুটিন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পর ইমরুল্লাহ গলুসকেন এবং তার তিন কন্যাকে আঙ্কারার ইহির হাসপাতালে নেয়া হয়।

তুরস্কের এমন পদক্ষেপে মুগ্ধ হন লেয়লা গুলুসকেন। সেইসাথে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ঘটনাটি ফলাও করে প্রচার হওয়ায় প্রশংসার জুয়ারে ভাসতে থাকে দেশটি। এর বিপরীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হতে থাকে সুইডেন সরকারের। দেশে ফেরার পর লেয়লা টুইটে লিখেন, ‘আমি জানতাম আমার দেশ আমাকে সমর্থন করবে। এই কঠিন সময়ে দেশ আমার পাশে দাঁড়িয়েছে। আমি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফাহরুদ্দিন খোজাকে ধন্যবাদ জানাই। আল্লাহ আমাদের দেশকে রক্ষা করুন।’