খাসজমিতে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নির্মাণে আ.লীগ নেতার বাধা

বাংলাদেশ

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে সরকারি খাসজমিতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার ঘর নির্মাণ কাজে বাধা দিয়েছেন স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল। নির্মাণ কাজ চলার সময় উপজেলার ডাংধরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুর রহমান শ্রমিকদের কাজে বাধা দেন বলে জানা গেছে।

জানা যায়, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার পাহাড় ঘেঁষা সীমান্তবর্তী ডাংধরা ইউনিয়নের নিমাইমারী পূর্বপাড়া গ্রামে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৪০টি ঘর নির্মাণের জন্য দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন খাসজমি উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত খাসজমিতেই ঘর নির্মাণ কাজ চলাকালীন অবৈধ দখলদাররা নির্মাণ কাজে বাধা প্রদান করে।

নির্মাণ মিস্ত্রি জানান, নির্মাণ কাজ চলার সময় বেলা ১১টার দিকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুর রহমান জেলা এডিসি না আসা পর্যন্ত নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে বলেছেন। তাই কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।

বুধবার আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকা সরেজমিন গেলে নিমাইমারী গ্রামের আছর উদ্দিন, সবর আলী, মহরসহ বেশ কয়েকজন জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্পে প্রায় ৮ বিঘা সরকারি খাসজমি রয়েছে। এ জমিগুলোর কোনো দলিল নেই। দখলদারদের কাছ থেকে টাকা দিয়ে মৌখিকভাবে কিনে নিয়েছেন। আশ্রয়ণ প্রকল্প স্থান ছাড়াও পাশের জমিও খাস।

নিমাইমারী গ্রামের শরবত আলীর বাড়ি হাফবিল্ডিং সীমানা প্রাচীর পাকা ওয়াল। তিনি নিজেকে ভূমিহীন হিসেবে দাবি করেছেন এবং ভূমির জন্য আবেদনও করেছেন। অথচ তিনি সরকারি খাসজমি দখল করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগ করছেন। তার দখলে থাকা খাসজমি উদ্ধার করে আশ্রয়ণ প্রকল্পের জন্য নির্মাণ কাজ চলছে।

ডাংধরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, প্রথম দফায় যেখানে ৭৪টি ঘর হয়েছে ওই স্থানে আরও ৫০-৬০টি ঘর করার মতো জমি ভরাট করা হয়েছে। ওই স্থানে ঘর না করার কারণ কী?

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব রফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উপহার ঘর সরকারি কাজ বন্ধ করা যাবে না, কাজ চলবে, পর্যায়ক্রমে আরও প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করা হবে।

সহকারী কমিশনার ভূমি আসাদুজ্জামান বলেন, সরকারি খাসজমি উদ্ধার করে প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রথম দফায় ৭৪টি দ্বিতীয় দফায় ৪০টি ঘর খাসজমিতে নির্মিত হচ্ছে।

সব বন্ধ, পেট তো বন্ধ নেই, কামড় দেয় ক্ষুধাসব বন্ধ, পেট তো বন্ধ নেই, কামড় দেয় ক্ষুধা

রাজধানীর তোপখানা রোডের যে পাশে জাতীয় প্রেসক্লাব, ঠিক তার উল্টো দিকেই মুদ্রাক্ষরিকদের (টাইপরাইটার) ছোট ছোট দোকান। একই সঙ্গে আইনজীবীদের সহকারী হিসেবে নোটারি পাবলিক করিয়ে দেওয়ার কাজও করেন তাঁরা। বিনিময়ে আইনজীবীরা কিছু পান, বাকিটা নেন এসব সহকারী।

তবে দোকান মানে একটা কাঠের চেয়ার, একটা টেবিল আর একটা টুল। গতকাল মঙ্গলবার খাঁ খাঁ দুপুরে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, কাঠের চেয়ার-টেবিলগুলো ওলটানো। শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা এগুলো। মুদ্রণজগতে কম্পিউটারের প্রচলন শুরু হওয়ার পর থেকে এমনিতেই মুদ্রাক্ষরিকদের কাজ ও কদর কমে আসছে।

করোনাভাইরাস আসার পর তা এখন একেবারেই বন্ধ হয়ে যাওয়ার জোগাড়। ১৪ এপ্রিল দেশব্যাপী সর্বাত্মক লকডাউন শুরুর পর থেকে মুদ্রাক্ষরিকেরা সবাই ঘরবন্দী। কথা বলার একজন লোকও পাওয়া যায়নি গতকাল। সেখানে পাওয়া যায় মো. আকরামুল ইসলাম নামের একজনের, যাঁর একটি দোকান রয়েছে।

ওই দোকানে তিনি ফটোকপি ও মোবাইলে টাকা রিচার্জের পাশাপাশি মোবাইলে আর্থিক সেবা দাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের এজেন্ট হিসেবেও কাজ করেন। বিকাশ, নগদ, রকেটের দোকান খুলতে যেহেতু বাধা নেই, তাই তিনি খুলেছেন। কিন্তু গ্রাহক নেই। তিনি জানান, ১৯৭৩ সালে ৬৫ জন মুদ্রাক্ষরিক এখানে বসা শুরু করেন। এখন আছেন ৩৪ জন।

তোপখানা রোড পেশাজীবী মুদ্রাক্ষরিক কল্যাণ সমিতির সদস্য তাঁরা। কাজ না থাকায় লোকগুলো খুবই কষ্টে আছেন। আকরামুল ইসলাম জানান, কাজ নেই, গ্রাহকও নেই। তবু কাজের আশায় গতকাল ঢাকার মানিকনগর থেকে পায়ে হেঁটে তোপখানা রোডে এসেছিলেন টাইপরাইটার নূরনবী হোসেন। কিন্তু সেই আশার গুড়ে বালি।

কিছুক্ষণ বসে থেকে আবার হেঁটে হেঁটে চলে যান তিনি। কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাই বলায় আকরামুল পুরোনো মুদ্রাক্ষরিক আলী আহমেদের মোবাইল নম্বর দেন। বিকেলে ফোন করে পরিচয় দিতেই আলী আহমেদ বলেন, ‘৩০ বছর ধরে তোপখানা রোডে আসছি। এমন খারাপ সময় কখনো আসেনি, যদিও অনেক আগে থেকেই আমাদের দিন খারাপ হয়ে আছে।

টাইপ করতে কেউ আসেন না। সব খেয়ে ফেলেছে কম্পিউটার। তবে মাঝে মাঝে নোটারি করতে লোক আসেন। আইনজীবীদের মাধ্যমে তা করাতে হয়। গ্রাহকদের কাছ থেকে যা পাওয়া যায়, তা থেকে আইনজীবীরা আমাদের একটা অংশ দেন। তাতে কোনো দিন ২০০ টাকা, কোনো দিন ৩০০ টাকা পাই।

ভাগ্য ভালো থাকলে ৫০০ টাকাও পাওয়া যায় কোনো কোনো দিন। এই আয় থেকে চেয়ার-টেবিল নিয়ে বসার একটা ভাড়াও দিতে হয় সিটি করপোরেশনকে।’ কিন্তু এখন তো সবই বন্ধ। ফলে দোকান ভাড়াই কী দেবেন, আবার বাড়ি ভাড়াই কী দেবেন—তা নিয়ে চিন্তিত আলী আহমেদ। তিন বেলা খাওয়ার ব্যবস্থা কীভাবে করবেন—সেই চিন্তায় দিশেহারা তিনি।

বলেন, ‘জীবনে আর কিছু শিখিনি। বয়স হয়েছে, শেখার সুযোগও নেই আর। কিন্তু পেটটা তো আছে। পেট তো বন্ধ নেই, কামড় দেয় ক্ষুধা।’ আলী আহমেদের পাঁচ ছেলেমেয়ের মধ্যে দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে। এক মেয়ে অনার্স প্রথম বর্ষে পড়ছেন। ১০ বছর বয়সী একটা প্রতিবন্ধী ছেলে আছে। তিনি বলেন, ‘শুনেছি, প্রতিবন্ধী বাচ্চাদের ভাতা দেয় সরকার। আমার ছেলেটা পায় না।’