সন্তান তৃতীয় লিঙ্গের হওয়ায় মা-বাবাকে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ

বাংলাদেশ

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় মনিরুল ইসলাম (২৭) নামে এক যুবক তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) হওয়ায় তার পরিবারের বাড়িঘর ভেঙে দিয়ে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশনা দিয়েছেন মাতবররা। এ ঘটনায় উল্লাপাড়া মডেল থানায় একটি অভিযোগ দেওয়ার পর মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ দুই মাতবরকে আটক করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।

তারা হলেন— চরঘাটিনা গ্রামের মেছের আলী (৫৫) ও মঞ্জু সরকার (৫২)। ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৩ এপ্রিল উল্লাপাড়া উপজেলার চরঘাটিনা গ্রামের। মনিরুল ইসলাম এই গ্রামের হাফেজ মিস্ত্রির ছেলে। তিনি স্বাভাবিক ছেলে হিসেবেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী চরঘাটিনা গ্রামের তৃতীয় লিঙ্গে পরিণত মনিরুল ইসলামের ভাই মজনু মিয়া থানায় দেওয়া অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, মনিরুল স্বাভাবিক ছেলে হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন।

বয়স ১৫-১৬ বছর পার হওয়ার পর প্রাকৃতিক কারণে আস্তে আস্তে তার শরীরে পরিবর্তন আসে এবং কয়েক বছরের ব্যবধানে তিনি তৃতীয় লিঙ্গে পরিণত হয়। এর পর তার আচার-আচরণ, কথা, ব্যবহার— সব কিছুই তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) মানুষের মতো হয়ে যায়।

সেভাবে তিনি প্রতিবেশী ও গ্রামের লোকজনের সঙ্গে আচরণ করতে শুরু করেন। এতে ক্ষুব্ধ হন গ্রামের বেশ কিছু মাতবর। তারা মনিরুলকে হিজড়াপল্লীতে গিয়ে বসবাস করার নির্দেশনা দেন। মনিরুল প্রায়শই শাহজাদপুর হিজড়াপল্লীতে গিয়ে থাকতেন।

কিন্তু কিছু দিন ধরে গ্রামের মাতবররা মনিরুলের কারণে তার বাবা-মাসহ গোটা পরিবারকে ঘরবাড়ি ভেঙে নিয়ে গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘোষণা দেন। গত ১৩ এপ্রিল গ্রামের মাতবররা এক হয়ে মনিরুলের পরিবারকে এক মাসের মধ্যে বাড়িঘরসহ গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশনা দেন।

মনিরুল ইসলামের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, মাতবরদের বুঝিয়েছেন তার লিঙ্গ পরিবর্তনের জন্য বাবা-মা দায়ী নন। তারা গ্রামে থাকবেন এবং তিনি (মনিরুল) গ্রাম থেকে অন্যত্র চলে যাবেন। কিন্তু তাতে মাতবররা রাজি হননি। বরং এ কথা বলতে গেলে তাকে নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে অনেক বার।

একই কারণে তার ভাই মজনু মিয়া মাতবরদের হাতে মারও খেয়েছেন। এ অবস্থায় তার ভাই মজনু মিয়া বাদী হয়ে গত ২৭ এপ্রিল উল্লাপাড়া থানায় চরঘাটিনা গ্রামের ১১ জন মাতবরকে আসামি করে একটি অভিযোগপত্র করেছেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ উল্লিখিত দুই মাতবর মঞ্জু সরকার ও মেছের আলীকে গ্রেফতার করে। অপর আসামিরা হলেন— মো. মহন সরকার, কবির সরকার, দুলাল, আশরাফুল ইসলাম, শাহেদ হাজী, মোহাম্মদ হাজী, আমজাদ হোসেন, আতিক রহমান, শাহজাহান প্রমুখ।

এ ব্যাপারে উল্লাপাড়া মডেল থানার ওসি দীপক কুমার দাস (পিপিএম) জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর দুই মাতবরকে গ্রেফতার করে সিরাজগঞ্জ আদালতের মাধ্যমে বুধবার জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। তৃতীয় লিঙ্গের মনিরুলের পরিবারের চরঘাটিনা গ্রামে উপস্থিতি ও পূর্ণ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ।

কাল থেকে কান ধরে ব্যবসা ছেড়ে দিতে চাই: নাসিম মঞ্জুর

সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, ‘বাংলাদেশের করব্যবস্থা চূড়ান্ত রকমের ব্যবসা–অবান্ধব। এ কারণে ব্যবসা বন্ধ করেই দেওয়া উচিত। আমরা যারা বাংলাদেশে ব্যবসা করি, আমরা কাল থেকে কান ধরে ছেড়ে দিতে চাই। লাভ হোক আর লোকসান, যা-ই হবে, কর দিয়েই যাবেন। যারা কর দেয় না, তারাই ভালো থাকবে। তারা আরও বড় বড় ব্যবসা করবে আর আমরা মরব। এই ধরনের ব্যবসার মধ্যে আর আমরা নেই।

করব্যবস্থা ঠিক করেন। অন্যথায় বর্তমান ব্যবসাই থাকবে না, নতুন বিনিয়োগের তো প্রশ্নই ওঠে না।’ অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের এমডি বলেন, ‘জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) যদি কর সংগ্রহকারী হিসেবে থাকে এবং সারা জীবন শুধু বলে “শুনছি”, কিন্তু বাস্তবে কোনো প্রতিফলন না দেখি, তার মানে বাংলাদেশে আপনারা কোনো বিনিয়োগ চান না। বলে দেন, আমরা বন্ধ (কারখানা) করে ট্রেডার হয়ে যাই।

কারণ, ট্রেডিং ব্যবসা ভালো। উৎপাদন করে এই মরার খাটুনি যুক্তিসংগত নয়।’ বলে দেন, আমরা বন্ধ (কারখানা) করে ট্রেডার হয়ে যাই। কারণ, ট্রেডিং ব্যবসা ভালো। উৎপাদন করে এই মরার খাটুনি যুক্তিসংগত নয়।
সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর অর্থনীতিবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) উদ্যোগে আজ শনিবার এক ভার্চ্যুয়াল সভায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর।

‘পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য ও উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার যাত্রাকে মসৃণ করতে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই)’ শীর্ষক আলোচনা সভাটি আয়োজনে সহযোগিতায় ছিল বেসরকারি গবেষণা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (আরএপিআইডি) ও এশিয়া ফাউন্ডেশন। পণ্য রপ্তানি বাড়াতে বিদেশি বিনিয়োগের ওপর জোর দিয়ে সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, ‘২০১৯ সালে বাংলাদেশ প্রায় ১০০ কোটি ডলারের জুতা রপ্তানি করেছিল।

একই সময়ে ভিয়েতনামের জুতা রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের। তাদের শীর্ষ পাঁচটি জুতা রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান দেশি-বিদেশি যৌথ বিনিয়োগে। ভিয়েতনামে যৌথ বিনিয়োগে স্থাপিত একটি কোরিয়ান কোম্পানি ১০০ কোটি ডলারের জুতা রপ্তানি করে। আর আমরা সারা বছর সবাই মিলে সেই পরিমাণ জুতা রপ্তানি করছি। এটিই আসলে এফডিআইয়ের মূল শক্তি।’

সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর আরও বলেন, করোনার কারণে সারা বিশ্বে এফডিআইয়ের হার অর্ধেক হয়ে গেছে। তবে বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ আছে। বিধিনিষেধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ব্র্যান্ড চীনের কাপড় নেবে না। সে জন্য ভারত, পাকিস্তানের মতো দেশে বস্ত্রকল হচ্ছে। বাংলাদেশ সেই সুযোগ নিতে পারে। তা ছাড়া মিয়ানমার থেকে ব্যবসা ছিনিয়ে নেওয়ার সুযোগ এখনই।

আসলে বাংলাদেশে ব্যবসায়ীদের যেভাবে মূল্যায়ন করা হয়, সেভাবে চোর–ছেঁচড়দেরও মূল্যায়ন করা হয় না।আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। আরও বক্তব্য দেন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি নিহাদ কবীর, ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ। মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন আরএপিআইডির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক।

নিহাদ কবির বলেন, ‘আজ বিডাতে গেলে সমস্যার সমাধান হয়। তবে ওপরের লেভেলে (উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা) কথা বলত হয়। যাঁরা বিডাতে কাজ করেন, তাঁদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খুবই ভালো। কিন্তু তাঁরা শিল্পায়নের বিষয়ে প্রশিক্ষিত নন।’ তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের অর্থনীতির চালিকা শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। অথচ সরকারের অনেক কর্মকর্তা বলেন, ব্যবসায়ীরা লোকজনকে ঠকানোর কাজ করেন।

আসলে বাংলাদেশে ব্যবসায়ীদের যেভাবে মূল্যায়ন করা হয়, সেভাবে চোর–ছেঁচড়দেরও মূল্যায়ন করা হয় না। নিহাদ কবির বলেন, ‘দেশের ব্যবসায়ীদের সম্মানের সঙ্গে মূল্যায়ন না করলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করতে আসবেন না। সিঙ্গাপুর বছরের পর বছর হাত জোড় করে অনুরোধ করে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিজেদের দেশে এনে আজকের অবস্থায় আসতে পেরেছে। আমরা মনে করি, সবকিছু সাজানো–গোছানো আছে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা চলে আসবে।

কিন্তু তাঁরা কেন আসেন না, সেটি আমরা একবারও জিজ্ঞাসা করি না।’ নিহাদ কবির আরও বলেন, ‘ভিয়েতনাম সাতটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করেছে। আর আমরা ভুটানের সঙ্গে এফটিএ করেছি। আমার নিজের জেলাতেও ভুটানের চেয়ে বেশি মানুষ আছে। আমার জেলার অর্থনীতিও ভুটানের চেয়ে অনেক বড়।’