হাত খরচের টাকা বাঁচিয়ে পথচারীদের ইফতার করাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা

বাংলাদেশ

ব্রিজের সাইডওয়াকে সাজানো রয়েছে ইফতার বক্স ও পানি। সেখান থেকে বক্স নিয়ে ইফতার করতে পারছেন পথচারীরা ও দিনমজুরেরা। হাত খরচের টাকা বাঁচিয়ে পথচারী রোজাদারদের মাঝে এভাবে ইফতার বিতরণ করছেন ১৫ শিক্ষার্থী। শনিবার (৮ মে) নওগাঁর ধামইরহাটের আমাইতাড়া ব্রিজের ওপরে ছিল এমন দৃশ্য।

জানা যায়, ধামইরহাটের সফিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০১৮ সালের এসএসসি ব্যাচের ১৫ শিক্ষার্থী এভাবেই শতাধিক মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ করেছেন। বিতরণ করা প্যাকেটে ছিল বিরিয়ানি, ছোলা, খেজুর, আপেল, কমলা, পেয়াজুসহ কয়েক রকমের ইফতার সামগ্রী।

এসময় মুরাদুজ্জামান মুরাদ, আশিক-ই-ইলাহী, তোয়ান হোসেন পল্লব, নাজমুস সাকিব, তুষার হোসেন, জাহিদ ইকবাল, রিফাত আরমান, আবদুল্লাহ আল নোমান, রুহুল আমিন, আরিফুল ইসলাম, মেসবাউল্লাহসহ আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

সফিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মুরাদুজ্জামান মুরাদ বলেন, করোনাভাইরাসে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। সব বন্ধুরা গ্রামের বাড়িতে রয়েছি। তাই নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী পথচারীদের মাঝে ইফতার বিতরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

তিনি আরো বলেন, হাত খরচের টাকা বাঁচিয়ে প্রয়োজনীয় উপকরণ কিনে বাড়িতে রান্না করা হয়। পরে পথচারীদের মাঝে তা বিতরণ করা হয়। এ উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করতে পেরে সত্যিই আমরা আনন্দিত।

শিক্ষার্থী তুষার হোসেন ও জাহিদ ইকবালসহ অন্যরা জানান, এমন উদ্যোগে নেয়ায় তাদের অভিভাবকরাও অনেক খুশি। ইফতার গ্রহণকারীরা মাথায় হাত রেখে দোয়া করেছেন। এরচেয়ে বড় আনন্দের কিছু হতে পারে না। রমজান মাস ছাড়াও অন্যান্য সময়ও ভালো কিছু কাজ করার চেষ্টা করবেন বলে জানান তারা।

আরও পড়ুন: রোজার প্রতিদান স্বয়ং আল্লাহ দেবেন

পবিত্র মাহে রমজানের রোজা গুরুত্বপূর্ণ একটি ফরজ ইবাদত। আল্লাহতায়ালা মুসলমানদের ওপর রমজান মাসে রোজা পালন ফরজ করে দিয়েছেন।

রোজাদারদের জন্য রয়েছে অফুরন্ত সওয়াব। রোজার বিনিময় স্বয়ং আল্লাহ দেবেন বলে ঘোষণা করেছেন। হাদিসে কুদসিতে মহান আল্লাহতায়ালা বলেন, মানুষের প্রতিটি কাজ তার নিজের জন্য, কিন্তু রোজা এর ব্যতিক্রম। রোজা শুধু আমার জন্য, আমিই এর প্রতিদান দেব। (মুসলিম: ২৭৬০)।

বিখ্যাত সাহাবি হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন, ‘তোমাদের কাছে রমজান উপস্থিত হয়েছে। রমজান এক বরকতময় মাস। আল্লাহ তোমাদের ওপর এ মাসে সিয়াম পালন করা ফরজ করেছেন।

এ মাসে আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়। জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয়। এ মাসে অবাধ্য শয়তানদের শিকলবদ্ধ করা হয়। এ মাসে আল্লাহ এমন একটি রাত রেখেছেন, যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। যে ব্যক্তি এ রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো সে ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষেই বঞ্চিত’। (নাসায়ি : ২১০৬)।

রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, মানব সন্তানের প্রতিটি নেক আমলের প্রতিদান ১০ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। আল্লাহতায়ালা বলেন, কিন্তু রোজার বিষয়টি ভিন্ন। কেননা রোজা শুধু আমার জন্য, আমিই তার প্রতিদান দেব। (মুসলিম : ১৫৫১)।

হজরত সাহল বিন সা’দ (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুল(সা.) এরশাদ করেন, জান্নাতে একটি দরজা রয়েছে, যার নাম রাইয়ান। কেয়ামতের দিন রোজাদারগণই শুধু সে দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে। তাদের ছাড়া অন্য কেউ সে দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না।

সেদিন ঘোষণা করা হবে, রোজাদাররা কোথায়? তখন তারা দাঁড়িয়ে যাবে এবং সে দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে। যখন তাদের প্রবেশ শেষ হবে, তখন দরজা বন্ধ করে দেয়া হবে। ফলে তারা ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। (বোখারি : ১৭৯৭)।

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, যারা হিদায়াতকে বর্জন করার ক্ষেত্রে আল্লাহর শক্তিকে ভয় করেন এবং তার নির্দেশকে সত্য প্রতিপন্ন করার কারণে রহমতের আশা ছাড়েন না তারাই মুত্তাকি।

মাসব্যাপী রোজা পালন করে যদি তাকওয়া অর্জন করা না যায়, তা হলে এ রোজা অর্থহীন উপবাস ও নিছক আত্মপ্রবঞ্চনায় পর্যবসিত হয়। (মুসলিম: ২১৩৪)।
এ প্রসঙ্গে হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন– যে ব্যক্তি বাজে কথা ও কাজ ত্যাগ করল না, তার পানাহার ত্যাগ নিছক উপবাস ছাড়া আর কিছু নয়’। (বোখারি: ১৮০৪)।

হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) এ সম্পর্কে আরও এরশাদ করেন-শুধু পানাহার বর্জনের নাম রোজা নয়। রাজা হলো অনর্থক ও অশ্লীল কথা-কাজ বর্জন করার নাম। কেউ তোমাকে গালি দিলে বা তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করলে তুমি তার সঙ্গে তেমনটি না করে কেবল এটুকুই বলো– আমি রোজাদার’। (মুসলিম: ২৪১৬)।

শুধু না খেয়ে থাকাই সিয়াম সাধনার মূল উদ্দেশ্য নয়। বরং যাবতীয় পাপাচার থেকে নিজের নফস ও প্রবৃত্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে মুখ ও জিহ্বাকে সংযত রাখতে হবে। সংযমের পরিচয়ে দিতে হবে সবক্ষেত্রে।পানাহার থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি সব ধরনের অন্যায় ও পাপ কাজ থেকে বিরত থাকা রোজাদারদের অপরিহার্য কর্তব্য।