স্বামীকে হত্যার পর ইমামের সঙ্গে চতুর্থ সংসার করতে চেয়েছিলেন আসমা

বাংলাদেশ

স্বামী আজহারকে হত্যার পর পরকীয়া প্রেমিক ইমাম মাওলানা আব্দুর রহমানের সঙ্গে চতুর্থ সংসার করতে চেয়েছিলেন আজহারের স্ত্রী আসমা আক্তার।

বুধবার (২৬ মে) রাজধানীর কুর্মিটোলা র‌্যাব সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুর রহমান জানিয়েছেন, আজহারকে হত্যার পর তার সঙ্গে চতুর্থ সংসার করতে চেয়েছিলেন আসমা। এ হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন নিহত আজহারুলের স্ত্রী।

তিনি আজহারকে হত্যা করার বিষয়ে মাওলানা আব্দুর রহমানকে প্রায়ই চাপ দিতেন। তাকে হত্যা করতে পারলে ইমামকে বিয়ে করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন আসমা আক্তার। তাই তার পরিকল্পনায় এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

আরও পড়ুন: যুবককে ৬ টুকরো: নিহতের স্ত্রী ও ইমাম রিমান্ডে

রাজধানীর দক্ষিণখানে সরদারবাড়ি জামে মসজিদের সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে মঙ্গলবার (২৫ মে) ভোরে আজহারুল (৩৫) নামে এক যুবকের টুকরো টুকরো মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন: খুনের পর সেপটিক ট্যাঙ্কে মরদেহ রেখেই নামাজ পড়ান ইমাম

এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২৫ মে) দক্ষিণখানের সরদার বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুর রহমানকে এবং রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী নিহত আজহারের স্ত্রী আসমা আক্তারকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

দক্ষিণখান থানার পরিদশর্ক (তদন্ত) আজিজুল হক মিয়া জানান, পোশাক কারখানা শ্রমিক আজহারুল থাকতেন ওই এলাকাতেই। কয়েকদিন ধরে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। খবর পেয়ে ভোরে মসজিদের সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে আজহারের ছয় টুকরো মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন: ‘পরকীয়া’ নিষেধ করায় ৭ টুকরো স্বামী, ইমামের পর গ্রেপ্তার স্ত্রীও

এদিকে আজহারুলের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আসমা ও ইমামের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার (২৬ মে) তাদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়।

এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের ১০ দিন করে রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম নিভানা খায়ের জেসী তাদের পাঁচদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।