বিধিনিষেধ মেনে লকডাউনের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে

বাংলাদেশ

দীর্ঘমেয়াদি লকডাউন কোনো সমস্যার সমাধান নয় মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘দুই-একদিনের মধ্যে লকডাউনের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। কারণ জীবন ও জীবিকার মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে হয়।

তবে কিছু বিধিনিষেধ অবশ্যই আমাদের মেনে চলতে হবে। কিছু বিধিনিষেধ না মানলে আমাদের সবার জন্যই বিপদ।’ শুক্রবার (২৮ মে) দুপুরে ১২টার দিকে ধানমন্ডিতে অবস্থিত আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে করোনা কিট প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। এখানে প্রচুর মানুষ দিন আনে দিন খায়। করোনা ভাইরাসের শুরুতে যারা আমাদের সমালোচনা করে তারাসহ অনেক বিদেশি মিডিয়াও আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিল, বাংলাদেশের হাজার হাজার মানুষ না খেয়ে মারা যাবে।

করোনা ও অনাহারে রাস্তায় লাশ পড়ে থাকবে। আল্লাহর অশেষ রহমত ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের ফলে তেমন হয়নি। করোনার ১৪ মাসে একজন লোকও না খেয়ে মারা যায়নি। তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে কয়েক কোটি মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের দল আওয়ামী লীগকে জনগণের পাশে থাকার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশনা মোতাবেক আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটি কেন্দ্র থেকে উপজেলা পর্যায়ে সুরক্ষা সামগ্রী এবং খাদ্য সহায়তা দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, করোনায় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। এজন্যে আওয়ামী লীগের এক হাজারের বেশি নেতাকর্মী করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন। কেন্দ্রীয় কমিটির পাঁচজন নেতা করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

সংসদীয় দলের ১২০ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এর কারণ হচ্ছে তারা জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। করোনা আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়ে আবারও তারা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু অন্য রাজনৈতিক দলকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায়নি।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ্য করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী বাজেটে অর্থমন্ত্রীর কালো টাকা সাদা করার ঘোষণার সমালোচনা করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আমি তাকে প্রশ্ন করতে চাই, খালেদা জিয়া যে কালো টাকা সাদা করেছিলেন তার কি জবাব আছে আপনার কাছে?

পৃথিবীর বহু দেশেই অপ্রদর্শিত অর্থাৎ কালো টাকা টাকা সাদা করার ব্যবস্থা রাখা হয়। এসময় আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক উপ-কমিটির কো-অর্ডিনেটর সুজিত রায় নন্দীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সব বন্ধ, পেট তো বন্ধ নেই, কামড় দেয় ক্ষুধাসব বন্ধ, পেট তো বন্ধ নেই, কামড় দেয় ক্ষুধা

রাজধানীর তোপখানা রোডের যে পাশে জাতীয় প্রেসক্লাব, ঠিক তার উল্টো দিকেই মুদ্রাক্ষরিকদের (টাইপরাইটার) ছোট ছোট দোকান। একই সঙ্গে আইনজীবীদের সহকারী হিসেবে নোটারি পাবলিক করিয়ে দেওয়ার কাজও করেন তাঁরা। বিনিময়ে আইনজীবীরা কিছু পান, বাকিটা নেন এসব সহকারী।

তবে দোকান মানে একটা কাঠের চেয়ার, একটা টেবিল আর একটা টুল। গতকাল মঙ্গলবার খাঁ খাঁ দুপুরে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, কাঠের চেয়ার-টেবিলগুলো ওলটানো। শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা এগুলো। মুদ্রণজগতে কম্পিউটারের প্রচলন শুরু হওয়ার পর থেকে এমনিতেই মুদ্রাক্ষরিকদের কাজ ও কদর কমে আসছে।

করোনাভাইরাস আসার পর তা এখন একেবারেই বন্ধ হয়ে যাওয়ার জোগাড়। ১৪ এপ্রিল দেশব্যাপী সর্বাত্মক লকডাউন শুরুর পর থেকে মুদ্রাক্ষরিকেরা সবাই ঘরবন্দী। কথা বলার একজন লোকও পাওয়া যায়নি গতকাল। সেখানে পাওয়া যায় মো. আকরামুল ইসলাম নামের একজনের, যাঁর একটি দোকান রয়েছে।

ওই দোকানে তিনি ফটোকপি ও মোবাইলে টাকা রিচার্জের পাশাপাশি মোবাইলে আর্থিক সেবা দাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের এজেন্ট হিসেবেও কাজ করেন। বিকাশ, নগদ, রকেটের দোকান খুলতে যেহেতু বাধা নেই, তাই তিনি খুলেছেন। কিন্তু গ্রাহক নেই। তিনি জানান, ১৯৭৩ সালে ৬৫ জন মুদ্রাক্ষরিক এখানে বসা শুরু করেন। এখন আছেন ৩৪ জন।

তোপখানা রোড পেশাজীবী মুদ্রাক্ষরিক কল্যাণ সমিতির সদস্য তাঁরা। কাজ না থাকায় লোকগুলো খুবই কষ্টে আছেন। আকরামুল ইসলাম জানান, কাজ নেই, গ্রাহকও নেই। তবু কাজের আশায় গতকাল ঢাকার মানিকনগর থেকে পায়ে হেঁটে তোপখানা রোডে এসেছিলেন টাইপরাইটার নূরনবী হোসেন। কিন্তু সেই আশার গুড়ে বালি।

কিছুক্ষণ বসে থেকে আবার হেঁটে হেঁটে চলে যান তিনি। কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাই বলায় আকরামুল পুরোনো মুদ্রাক্ষরিক আলী আহমেদের মোবাইল নম্বর দেন। বিকেলে ফোন করে পরিচয় দিতেই আলী আহমেদ বলেন, ‘৩০ বছর ধরে তোপখানা রোডে আসছি। এমন খারাপ সময় কখনো আসেনি, যদিও অনেক আগে থেকেই আমাদের দিন খারাপ হয়ে আছে।

টাইপ করতে কেউ আসেন না। সব খেয়ে ফেলেছে কম্পিউটার। তবে মাঝে মাঝে নোটারি করতে লোক আসেন। আইনজীবীদের মাধ্যমে তা করাতে হয়। গ্রাহকদের কাছ থেকে যা পাওয়া যায়, তা থেকে আইনজীবীরা আমাদের একটা অংশ দেন। তাতে কোনো দিন ২০০ টাকা, কোনো দিন ৩০০ টাকা পাই।

ভাগ্য ভালো থাকলে ৫০০ টাকাও পাওয়া যায় কোনো কোনো দিন। এই আয় থেকে চেয়ার-টেবিল নিয়ে বসার একটা ভাড়াও দিতে হয় সিটি করপোরেশনকে।’ কিন্তু এখন তো সবই বন্ধ। ফলে দোকান ভাড়াই কী দেবেন, আবার বাড়ি ভাড়াই কী দেবেন—তা নিয়ে চিন্তিত আলী আহমেদ। তিন বেলা খাওয়ার ব্যবস্থা কীভাবে করবেন—সেই চিন্তায় দিশেহারা তিনি।

বলেন, ‘জীবনে আর কিছু শিখিনি। বয়স হয়েছে, শেখার সুযোগও নেই আর। কিন্তু পেটটা তো আছে। পেট তো বন্ধ নেই, কামড় দেয় ক্ষুধা।’ আলী আহমেদের পাঁচ ছেলেমেয়ের মধ্যে দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে। এক মেয়ে অনার্স প্রথম বর্ষে পড়ছেন। ১০ বছর বয়সী একটা প্রতিবন্ধী ছেলে আছে। তিনি বলেন, ‘শুনেছি, প্রতিবন্ধী বাচ্চাদের ভাতা দেয় সরকার। আমার ছেলেটা পায় না।’