নারী সেজে ডেকে এনে টাকা লুটের অভিযোগে ৩ ছাত্রলীগ কর্মী গ্রেপ্তার

বাংলাদেশ

ফেনীর সোনাগাজীতে মুঠোফোনে ডেকে নিয়ে মো. আইয়ুব খান (২৮) নামের এক এনজিও–কর্মীকে জিম্মি করে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে ছাত্রলীগের চার-পাঁচজন কর্মীর বিরুদ্ধে। সাজেদা ফাউন্ডেশন নামক একটি এনজিওর চট্টগ্রামের ভুজপুর শাখার অফিস সহকারী ও ভুজপুর থানার জজখোলা মহানগর এলাকার বাসিন্দা আইয়ুব।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় সোনাগাজী-কাশ্মীর বাজার সড়কের পৌরসভার চর গনেশ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গতকাল রাতেই এনজিও–কর্মী বাদী হয়ে সোনাগাজীর স্থানীয় ছাত্রলীগ কর্মী ইমাম হোসেন, মশিউর রহমান, ফখরুল ইসলাম, আবু বক্কর ছিদ্দিকসহ অজ্ঞতানামা কয়েকজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন। এরপর রাতেই ইমাম, মশিউর ও ফখরুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার আসামিরা ফেসবুকে নারীর ছবি ব্যবহার করে বিভিন্নজনকে বন্ধু হওয়ার আমন্ত্রণ জানান। এরপর তাঁদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে মুঠোফোন নম্বর নেন। মুঠোফোনে নারীকণ্ঠে কথা বলে সোনাগাজীতে ডেকে এনে জিম্মি করে টাকা, মুঠোফোন ও মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়ে মারধর করে তাড়িয়ে দেন। গতকাল আইয়ুবের সঙ্গেও একই ঘটনা ঘটে।

ফোনে কল পেয়ে আইয়ুব আসামিদের বলা জায়গায় গেলে ইমাম, মশিউর, ফখরুল, ছিদ্দিকসহ পাঁচ থেকে ছয়জন তাঁকে আটক করে বেদম মারপিট করেন। তাঁর কাছ থেকে নগদ টাকা, মুঠোফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেন। তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে ইমাম ও মশিউরকে আটক করে পুলিশে সোর্পদ করেন। অন্যরা পালিয়ে যান।

পরে আহত অবস্থায় আইয়ুবকে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আইয়ুব খানের দাবি, তাঁকে জিম্মি করে ১২ হাজার ৪০০ টাকা, ১টি মুঠোফোনসহ তাঁর সঙ্গে থাকা গুরুত্বপূর্ণ কিছু জিনিস ছিনিয়ে নিয়েছেন আসামিরা। পরে তাঁকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে ফেলে চলে যান। বর্তমানে তিনি ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ বিষয়ে সোনাগাজী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবদুল মোতালেব চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, গ্রেপ্তার তিনজন ছাত্রলীগের কর্মী। তবে তাঁদের কোনো পদ–পদবী নেই। পৌরসভা যুবলীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন বলেন, গ্রেপ্তার তিনজনসহ এ ঘটনায় জড়িত সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সম্প্রতি পৌরসভা এলাকায় ছাত্রলীগ কর্মীদের কর্মকাণ্ডে তাঁরা হতাশ হয়েছেন।

সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একইভাবে আরও কয়েকজনের কাছ থেকে টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। আজ শনিবার দুপুরে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে ফেনীর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এর আগে ২১ মে কাজ দেওয়ার কথা বলে ছাত্রলীগের ছয় নেতা–কর্মী শামীম হোসেন নামের খননযন্ত্রের চালককে মুঠোফোনে ডেকে এনে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ৪৬ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়েছেন অভিযোগে মামলা হয়েছে। ওই ঘটনায় করা মামলায় পুলিশ ছাত্রলীগের তিন নেতা–কর্মীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে।

সূত্র: প্রথম আলো