যশোরে সিনেমার কায়দায় হত্যা মামলার আসামি ছিনতাই

বাংলাদেশ

যশোরে আদালতে যাওয়ার পথে আইনজীবীর কাছ থেকে রাজু বিশ্বাস ওরফে টুটু (৩৫) নামের এক হত্যা মামলার আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। তবে পুলিশ বলছে তারা এ বিষয়ে কিছু জানে না।

রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলা জজ কোর্টের সামনের রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে। রাজু বিশ্বাস যশোরের অভয়নগর উপজেলার ধোপাদী গ্রামের ভ্যানচালক শুকুর আলী হত্যা মামলার একমাত্র আসামি।

রাজু বিশ্বাসের আইনজীবী তাজমিলুর রহমান সরদার স্বপন বলেন, রাজু বিশ্বাস রোববার আদালতে আত্মসমর্পণ করতে আমার কাছে এসেছিলেন। ওকালতনামা স্বাক্ষরসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি শেষে আমি তাকে নিয়ে আইনজীবী সমিতি থেকে আদালতে যাচ্ছিলাম।

জজ কোর্টের সামনের রাস্তায় পৌঁছাতেই একদল লোক আমাদের ঘিরে ধরে। এরপর তারা ধস্তাধস্তি করে জোরপূর্বক রাজু বিশ্বাসকে একটি গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে যায়। আমি নিজের পরিচয় দিয়ে তাদের বাধা দেয়ার চেষ্টা করলেও তারা হুমকি-ধামকি দিয়ে চলে যায়।

তিনি আরো বলেন, আমি আদালতে গিয়ে বিচারককে বিষয়টি অবহিত করেছি। একই সাথে রাজু বিশ্বাসকে উদ্ধারে প্রশাসনের সহায়তা কামনা করছি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে যশোর কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তাজুল ইসলাম বলেন, আমি আসামি ছিনতাইয়ের কোনো ঘটনা জানি না।

থানার কেউ এ ধরণের কোনো অভিযান করেনি। উল্লেখ্য, গত ৩ এপ্রিল রাজু বিশ্বাসের ভ্যান-রিকশা মেরামতের দোকানে যান শুকুর আলী নামে এক ব্যক্তি। এরপর তিনি নিজের ভ্যান মেরামত করান।

মজুরির ৩০ টাকা কাজ শেষে সন্ধ্যায় ফেরার পথে দেয়ার কথা বলে শুকুর আলী চলে যান। সন্ধ্যায় ফেরার পথে রাজু বিশ্বাস পাওনা টাকা চান। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রাজু বিশ্বাস উত্তেজিত হয়ে হাতে থাকা রেঞ্জ দিয়ে শুকুর আলীর মাথায় আঘাত করে।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় শুকুর আলীর স্ত্রী আনোয়ারা বেগম রাজু বিশ্বাসের নামে মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকে রাজু বিশ্বাস পলাতক ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে চাকরিপ্রত্যাশী যুব প্রজন্মের ‘খোলা চিঠি’

করোনাকালীন প্রণোদনা হিসেবে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ করার আবেদন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে খোলা চিঠি দিয়েছেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। বুধবার (২৮ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই চিঠি জমা দেয়া হয়। চাকরিপ্রত্যাশী যুব প্রজন্মের ব্যানারে খোলা চিঠিটি দেয়া হয়েছে।

চিঠিতে তারা লিখেছেন, করোনার ভয়াবহতায় সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশও জর্জরিত, কিন্তু আপনার নেতৃত্বে আমরা শক্ত হাতে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করে যাচ্ছি। তবে কিছু ক্ষতি আছে যেটা তরুণ প্রজন্মকে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে, চরম অনিশ্চয়তা ও হতাশা জীবনকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করে ফেলছে।

আমরা শিক্ষিত চাকরিপ্রত্যাশী যুবপ্রজন্ম করোনাকালীন ক্ষতিগ্রস্ততার জন্য চাকরিতে প্রবেশের বয়স সংক্রান্ত প্রণোদনা প্রাপ্তির যৌক্তিক দাবি দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনার নিকট উপস্থাপন করতে চাই – প্রায় দেড় বছর হতে চলেছে অতিমারী করোনার জন্য তেমন কোন সরকারি চাকরির সার্কুলার নেই, চাকরির পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবার মতো পরিবেশও নেই।

সকল পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা তাদের জীবন থেকে দুইটি বছর হারাতে চলেছে। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ হওয়ায় কয়েক লক্ষ তরুণ (করোনার শুরুর সময়ে যারা ২৮+ বয়সের ছিল) চাকরির পরীক্ষায় অবতীর্ণ হওয়ার সুযোগ না পেয়েই ৩০ এর গন্ডি অতিক্রম করবে।

করোনাকালীন এই ক্ষতি কিন্তু অন্যদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। যে ছেলেমেয়েরা ২৬ বছর বয়সে শিক্ষাজীবন শেষ করে সেই করোনা শুরুর সময় থেকে আশায় বসে আছে চাকরির পরীক্ষায় অবতীর্ণ হবে, তারাও এই দেড় বছর হারাতে চলেছে। সরকারি বিধি মোতাবেক প্রচলিত যে ৩০ বছর বয়স অবধি আবেদনের সুযোগ পাওয়ার কথা করোনার আঘাত কিন্তু প্রকৃতই সেই সুযোগ দিচ্ছে না।

চাকরিতে প্রবেশের বয়স শেষবারের মতো বৃদ্ধি করে ২৭ থেকে ৩০ করা হয় ১৯৯১ সালে যখন গড় আয়ু ছিল ৫৭ বছর। এই ৩০ বছরে গড় আয়ু ১৬ বছর বৃদ্ধি পেয়ে ৭৩ বছরে উন্নীত হলেও চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধি হয়নি। অন্যদিকে ২০১১ সালে অবসরের বয়সসীমা দুই বছর বৃদ্ধি করে ৫৭ থেকে ৫৯ করা হয়েছে (সম্মানিত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৬০)।

অবসরের বয়স দুই বছর বৃদ্ধি হওয়ায় চাকরিতে প্রবেশের বয়স দুই বছর বৃদ্ধি পেলে সেটা আর সাংঘর্ষিক হওয়ার সুযোগ থাকেনা। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনও সেশনজট বিদ্যমান যার অন্যতম উদাহরণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সাত কলেজ।

মাস্টার্স সম্পন্ন করতে যেখানে গড়ে ২৬ বছরের অধিক সময়ও লেগে যায় সেখানে করোনার জন্য আরও ২ বছর হারানো যুবপ্রজন্মের জন্য অশনিসংকেত বহন করে। আপনি নিশ্চয় অবগত আছেন যে বিসিএস স্বাস্থ্য, বাংলাদেশ জুডিশিয়ারি সার্ভিস এবং বিভিন্ন কোটায় ৩২ বছর অবধি চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ রয়েছে যেটা সাধারণের জন্য ৩০।

করোনার এই বিষাক্ত ছোবল সাধারণ চাকরিপ্রত্যাশীদের জীবন থেকে ২ বছর কেড়ে নেওয়ার পথে ধাবিত হচ্ছে। হতাশা ও অসহায়ত্বের দরুণ আত্মহত্যার মতো একাধিক ঘটনা মিডিয়াতে সংবাদ হিসেবে এসেছে। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি প্রদানপূর্বক বয়স বৃদ্ধির বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছিল – ‘বাস্তবতার নিরিখে যুক্তিসংগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’।

আমাদের অভিভাবক হিসেবে ভেবে দেখুন করোনা জীবনের যে সময় কেড়ে নিচ্ছে এর চেয়ে বড় বাস্তবতা আর কি হতে পারে! প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, করোনাকালে চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরিমাণ ৮৭ শতাংশ কমে ১৩ শতাংশ এ উপনীত হয়েছে; করোনা চলাকালীন ২০২০ সালে একটি প্রজ্ঞাপন দিয়ে বলা হয়েছিল যাদের বয়স শেষ হয়ে যাচ্ছে আসন্ন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিগুলোতে তাদের আবেদনের সুযোগ দেওয়া হবে।

আপনার জ্ঞাতার্থে আমরা জানাতে চাই যে বেশিরভাগ বিজ্ঞপ্তিগুলোতেই সেই নীতি অনুসরণ করা হয়নি; হাতেগোনা কয়েকটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতেই সুযোগ দেওয়া হয়েছিল যেগুলো বেশিরভাগই তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরির। ১ দিন, ৫ দিন, ১৫ দিন, ১ মাসের জন্য ৪৩তম বিসিএস এর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করতে পারেন নাই এমন অসংখ্য চাকরিপ্রত্যাশী ছেলেমেয়ে আছে যারা ফেসবুক লাইভে এসে করুণভাবে আপনার নিকট আকুতি জানিয়েছে।

আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের আসাম রাজ্যে ২০২০ সালের শেষের দিকে করোনাকালীন ক্ষতিগ্রস্ততা বিবেচনা করে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা দুই বছর বৃদ্ধি করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এই যুব প্রজন্মের ভরসার শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে আপনাকে জানি ও মানি।

অসংখ্য ছেলেমেয়ে যারা প্রতিনিয়ত ‘করোনাকালীন প্রণোদনারূপে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ চাই’ দাবি জানাচ্ছে তাদের বক্তব্যে একটা বিষয় উঠে আসছে যে – আপনি পরিস্থিতির ভয়াবহতা ও আমাদের অসহায়ত্ব উপলব্ধি করবেন এবং এই প্রজন্মকে বিমুখ করবেন না।

করোনাকালীন ভয়াবহতা বিবেচনায় আপনি সকল শ্রেণীপেশার মানুষের জন্য প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। দয়া করে আমাদের এই ক্ষতিগ্রস্ততা বিবেচনা করে আপনি আমাদের পাশেও দাঁড়াবেন আমরা প্রত্যাশা করি। এক মাসের অধিক সময় ধরে আমরা যারা করোনাকালীন প্রনোদনা হিসেবে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ চাই’ দাবি জানিয়ে কর্মসূচি পালন করে আসছি।

তারা কোন প্রকার আন্দোলন সংগ্রাম তথা এমন কোন কর্মসূচিতে যাইনি যাতে সরকারকে বিব্রত হতে হয় বা জনজীবনে সমস্যার সৃষ্টি হয়। আমরা আপনার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য গঠনমূলক প্রক্রিয়ায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে গত ১২ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলন করেছি এবং ১৩ এপ্রিল ‘শিক্ষামন্ত্রী ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী’ মহোদয় বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছি।

এমতাবস্থায় বাংলাদেশের যুব প্রজন্মের অভিভাবক হিসেবে আপনার নিকট করুণ আকুতি এই যে আপনি দয়া করে এই প্রজন্মকে ক্ষতিগ্রস্ততা ও হতাশায় নিমজ্জিত হবার হাত থেকে বাঁচান, একটি লাইফলাইন প্রদান করুন তথা পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ে করোনাকালীন প্রণোদনারূপে সকলের জন্য চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ এর প্রজ্ঞাপন জারি করুন।