‘এসপিসি গ্রুপের’ সঙ্গে চুক্তি বাতিল করলেন মাশরাফি

বাংলাদেশ

গত এপ্রিলে ‘এসপিসি গ্রুপ’ নামক এক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন বাংলাদেশের অন্যতম সফল অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। সে প্রতিষ্ঠানের ‘শুভেচ্ছা দূত’ হয়েছিলেন তিনি। চুক্তি অনুযায়ী কোম্পানিটি তাদের পণ্যের প্রচারে দেশের এই ক্রিকেট আইকনের ছবি ও ধারণকৃত ভিডিও ব্যবহার করতে পারবে।

কিন্তু চুক্তির দুই মাস যেতে না যেতেই তা বাতিলের ঘোষণা দিলেন মাশরাফি নিজেই। হঠাৎ চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন নিলেন তার বিস্তরিত কারণ না জানালেও মাশরাফি জানিয়েছেন, কোম্পানিটির ব্যবসার ধরন সম্পর্কে প্রথমে ভুল জানানো হয়েছিল তাকে।

তবে কেন তিনি সেই অচেনা কোম্পানির ‘শুভেচ্ছা দূত’ হতে গিয়েছিলেন তার কারণ হিসেবে জানা গেছে, মাশরাফির ছবি ও ভিডিও ব্যবহারের বিনিময়ে কোম্পানিটি মাশরাফির এলাকা নড়াইলে ১০০টি উন্নতমানের সিসিটিভি স্থাপনসহ সামাজিক উন্নয়নে কাজ করবে। তাই এতে রাজি হন নড়াইলের সংসদ সদস্য।

এ বিষয়ে নিজের ফেসবুক পেজে মঙ্গলবার গভীর রাতে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে দেশবাসীকে সর্তক করেছেন মাশরাফি। তিনি লিখেছেন, ‘গত এপ্রিলে আমি ‘SPC GROUP’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছিলাম। তাদের সঙ্গে আমার চুক্তি ছিল, ‘শুভেচ্ছা দূত’ হিসেবে তারা তাদের প্রতিষ্ঠানের প্রচারে আমার ছবি ও ধারণকৃত ভিডিও ব্যবহার করতে পারবে।

বিনিময়ে তারা নড়াইলে ১০০টি উন্নতমানের সিসিটিভি স্থাপনসহ সামাজিক উন্নয়নের কাজ করবে। কিন্তু সম্প্রতি আমি জানতে পেরেছি, তাদের প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে যে ধারনা আমাকে দেওয়া হয়েছিল, তাদের ব্যবসার ধরন তা নয়।’

নড়াইল এক্সপ্রেস আরো লেখেন, ‘দুই বছরের চুক্তি থাকলেও দুই মাসের মধ্যেই তাদের সম্পর্কে জানার পরই আমি তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইতিমধ্যেই আমি তাদেরকে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছি, আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি শেষ করার আইনী প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছি। আমি সবাইকে অনুরোধ করব, আমার নাম বা ছবি দেখে বিভ্রান্ত হয়ে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে না জড়াতে।’

জানা গেছে, এমএলএম -এর পদ্ধতিতে ব্যবসা করছে ‘এসপিসি গ্রুপ’।


মাশরাফিকে নিজেদের ‘ব্র্যান্ড এম্বাসেডর’ দাবি করে এমএলএমের চকটদার বিজ্ঞাপন প্রচার প্রচারণা চালিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে দেশের ক্রিকেটপ্রেমী এবং মাশারাফিভক্তরা কোনো যাচাই-বাছাই না করে ‘এসপিসি’তে বিনিয়োগ করতে শুরু করেন।

এরইমধ্যেই প্রতিষ্ঠানটির এমএলএম জাতীয় বৈশিষ্ট নিয়ে আলোচনা সমালোচনা শুরু হয় এবং মাশরাফির মতো আইকন কী করে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। বিতর্ক তুঙ্গে ওঠার আগেই খোঁজ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির এমএলএম ধরনের ব্যবসার কথা নজরে আসে মাশরাফির।
জানার পর পরই চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দিলেন ফেসবুকে।