সাতক্ষীরায় লকডাউনের প্রথম দিন, কঠোর অবস্থানে প্রশাসন

বাংলাদেশ

সাতক্ষীরায় এক সপ্তাহের লকডাউন শুরু হয়েছে হয়েছে। কড়া বিধিনিষেধের মধ্যে মানুষ স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করায় সীমান্তবর্তী এ জেলায় করোনা সংক্রমণ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। থেমে নেই চোরাই পথে ভারত থেকে মানুষের আসা-যাওয়া।

এ অবস্থায় আজ শনিবার (৫ জুন) সকাল ৬টা থেকে জেলা প্রশাসন ঘোষিত এক সপ্তাহের লকডাউন চলছে। গত বৃহস্পতিবার (৩ জুন) দুপুরে জেলা করেনা প্রতিরোধ কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শনিবার (৫ জুন) সকালে শুরু হওয়া এ লকডাউন বহাল থাকবে আগামী ১২ জুন পর্যন্ত।

লকডাউনের শুরু থেকেই গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে নিরাপত্তা চৌকি বসিয়েছে প্রশাসন। জরুরি সেবা ছাড়া সব দোকানপাট, মার্কেট ও শপিংমল বন্ধ রয়েছে। সাতক্ষীরার সঙ্গে যশোর ও খুলনাসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগের পয়েন্টগুলিতে পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়েছে। শহরে থাকবে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বাধা নিষেধ অমান্যকারীদের জরিমানা করা হচ্ছে। তবে, শহরের বাইরে ভ্যান,রিকশা চলাচল করছে। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, লকডাউন চলাকালে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কাঁচাবাজারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দোকানপাট খোলা থাকবে। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আম পরিবহন চালু অব্যহত থাকবে।

তবে দূরপাল্লার সকল যাত্রীবাহী বাস এবং মোটরসাইকেল, ভ্যান-রিকশা, নছিমন, করিমনসহ জেলার অভ্যন্তরীণ সব যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল জানান, লকডাউন চলাকালে সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত জরুরি নিত্য প্রয়োজনীয় দোকান খোলা রাখা যাবে।

এ সময় সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। লকডাউনের সময় সাধারণ মানুষের চলাচল ও ভিড় এড়ানোর জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সাতক্ষীরার সঙ্গে যশোর ও খুলনাসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কের যোগাযোগের পয়েন্টগুলিতে পুলিশ চেকপোস্ট থাকবে। এ সময় সীমান্তে পারাপার বন্ধ থাকবে।

শহরে থাকবে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বিধিনিষেধ অমান্যকারীদের জরিমানা করা হবে। তবে, ভোমরা স্থল বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চালু থাকলেও সেখানে সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ থাকবে।
এছাড়া, হোটেল-রেস্তোরাঁগুলো পার্সেল অথবা প্যাকেটজাত খাবার সরবরাহ করতে পারবে।

সন্ধ্যার পর কোনো রাস্তার মোড়ে বা স্থানে একের অধিক ব্যক্তি অবস্থান করা বা একসঙ্গে চলাফেরা করতে পারবে না। সিভিল সার্জন ডা. হুসাইন শাফায়েত জানান, করোনা সংক্রমনরোধে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। করোনা ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এ সমস্যা এখন পৃথিবী জুড়ে। তিনি সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।