বাংলাদেশ দিচ্ছে তাজা ইলিশ, আর ভারত দিচ্ছে পচা পেঁয়াজ

অর্থনীতি

আমদানি জটিলতায় বিভিন্ন স্থলবন্দরে দিনের পর দিন আটকে থাকায় পচে গেছে বেশিরভাগ ভারতীয় পেঁয়াজ। দূর দূরান্ত থেকে পেঁয়াজ কিনতে হিলি স্থলবন্দরে এলেও পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ায় কিনছেন না কেউই। এতে লোকসানের ঝুঁকিতে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে, ভারতে যাচ্ছে তাজা ইলিশের ট্রাক। এজন্য দেশে ইলিশের দাম ও বাড়তে শুরু করেছে।

দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে টানা পাঁচদিন আটকে থাকার পর শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে অবশেষে বাংলাদেশে ঢোকে নিষেধাজ্ঞার আগে এলসি করা ও এলসির বিপরীতে টেন্ডার করা ভারতীয় পেঁয়াজের ট্রাক। এতে আমদানিকারকদের পাশাপাশি সাধারণ ভোক্তাদের মাঝেও স্বস্তির ছাপ পড়ে। তবে হিলি স্থলবন্দরে মাত্র ১১টি ট্রাক আসার পরই বন্ধ হয়ে যায় এই কার্যক্রম।

ব্যবসায়ীরা জানান, ওপারে এখনও অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে দেড় শতাধিক ট্রাক। তবে, লাখ লাখ টাকার পেঁয়াজ আমদানি করলেও, গরমের মধ্যে বেশ কয়েকদিন বন্দরে আটকে থাকায় বেশিরভাগই নষ্ট হয়ে গেছে; এমনকি পেঁয়াজ পচে পানি বের হয়ে গেছে বলেও জানান তারা। পাইকার এলেও পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারছেন না তারা।

আর এসব নষ্ট পচা পেঁয়াজ গোডাউনের বাইরে রাখায় দুর্গন্ধে বিপাকে পড়ছেন পথচারীরা। বেশিরভাগ পেঁয়াজ পচেই পানি বের হয়ে গেছে বলেও জানান তারা। আমদানিকারকদের অভিযোগ, দুই দেশের সরকারকে ট্যাক্স দেয়ার পরও বারবার তাদের এমন ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।

যারা বিভিন্ন আড়তে কাজ করেন পচে পানি বের হয়ে যাওয়ায় তারাও ঠিক মতো কাজ করতে পারছেন না বলে জানান তারা। এদিকে, বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আগের এলসিকৃত পেঁয়াজ বোঝাই কোনো ট্রাক বাংলাদেশে ঢোকেনি। ওপারে এখনো অপেক্ষায় রয়েছে ১৮ থেকে ২০টি ট্রাক।

এ অবস্থায় আমদানি অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় লোকসান কমাতে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারেই কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করে দিচ্ছেন আমদানিকারকরা। এছাড়া, ভোমরা ও সোনা মসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে কয়েকটি পেঁয়াজ বোঝাই ট্রাক দেশে ঢুকলেও এখনো আটকে আছে শত শত ট্রাক।

আরো পড়ুন: যার হাতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন ১ লাখ ৮ হাজার মানুষ !

ইসলাম ধর্ম প্রচারক দ্বীন মোহাম্মদ শেখ। পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের বাদিন জেলার মাতলি শহরের অধিবাসী। ১৯৮৯ সালে ইসলাম গ্রহণ করার পর তিনি ধর্ম প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন। তার হাতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন ১ লাখ ৮ হাজার মানুষ। দ্বীন মোহাম্মদ শেখ ১৯৪২ সালে এক হিন্দু পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন।

৪৭ বছর বয়সে তিনি তার চাচার সঙ্গে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। মুসলমান হওয়ার পর থেকেই তিনি ধর্ম প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে হিন্দুসহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের কাছে ইসলামের দাওয়াত দিতে থাকেন।

বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা যায়, দ্বীন মোহাম্মাদ ১ লাখ ৮ হাজার মানুষকে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করেন। দ্বীন মোহাম্মদ শেখ স্থানীয় আল্লাহওয়ালী জামেয়া মসজিদের সভাপতি। নিজে মুসলিম হওয়ার পর থেকে অন্য মানুষের কাছে ইসলামের দাওয়াত দেয়াকে নিজের কাজ হিসেবে বেছে নেন।

দ্বীন মোহাম্মদ শেখ অসহায় ইসলাম গ্রহণকারীদের আবাসনের জন্য প্রায় ৯ একর জায়গারও ব্যবস্থা করেছেন। যারা সেখানে বসবাস করবে। ইসলাম গ্রহণের পর দ্বীন মোহাম্মদ শেখ বলেন, ‘আমি সব সময় ইসলামকে ভালোবাসি। ইসলাম গ্রহণ করার আগে পবিত্র কুরআন অধ্যয়ন করতে শুরু করি।

কুরআন পড়ার পর বুঝতে পারি ৩৬০ দেবতার পূজা করে আসলেও কোনোদিন আমার কোনো উপকারে আসেনি। ইসলাম গ্রহণ করার পর প্রথমে তিনি গোপনে গোপনে কুরআন অধ্যয়ন করতেন। তার ভয় ছিল যদি কোনো মুসলিম তাকে কুরআনসহ দেখে ফেলে তবে তিনি আক্রমণের শিকার হন কি-না। অতঃপর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন।

আর তা ছিল রমজানের রোজা শুরু হওয়ার আগে। সে সময় তিনি রমজান শুরু হওয়ার একদিন আগে থেকেই রোজা রাখা শুরু করেন। উল্লেখ্য যে, ছোটবেলা থেকেই তিনি ইসলামের প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধা করতেন। ইসলামের প্রতি তার ভক্তি-অনুরাগ দেখে তার মা তাকে ১৫ বছর বয়সেই বিয়ে দিয়ে দেন।

তার মায়ের বিশ্বাস ছিল, বিয়ে করে ফেললে অন্য ধর্মের প্রতি তার টান কমে আসবে। বিয়ে করার পর মুসলিম হওয়ার আগেই তার ৪ মেয়ে এবং ৮ ছেলে জন্ম নেয়। বিয়ের পরও ইসলামের প্রতি তার কৌতুহল কমেনি। তিনি ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে জানার জন্য মোহাম্মদ জাগসি নামে এক মুসলিম শিক্ষক খুঁজে বের করেন।

আর তার কাছে নিয়মিত পবিত্র কুরআন এবং হাদিসের বাণী সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে থাকেন। ভাগ্যক্রমে দ্বীন মোহাম্মদ শেখের চাচাও একই মানসিকতার লোক ছিলেন। তারা দু’জন এই মর্মে একমত হলেন যে, তারা একে অপরকে সব কাজে সহায়তা করবেন। অতঃপর তিনি তার মেয়েদের বিয়ের পর ইসলাম গ্রহণ করেন এবং ইসলাম প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন।

ইসলাম গ্রহণ করে তিনি ধর্ম প্রচারে একটি মিশনারী তৈরি করেন। তিনি তার পরিবার থেকে ইসলামের দাওয়াত শুরু করেন। পরিবারের শক্তিশালী সমর্থনই ইসলামের প্রচার কাজে তার মানসিক শক্তি বাড়িয়ে দেয়। পাকিস্তানের মাতলি শহরের চিনি শিল্পের মালিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা জেনারেল সিকান্দার হায়াত দ্বীন মোহাম্মদ শেখকে দ্বীনের প্রচারে আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দেন।

কিন্তু দ্বীন মোহাম্মদ শেখ সে প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। তবে তিনি সিকান্দার হায়াতকে নও মুসলিমদের চাকির দেয়ার প্রস্তাব করেন। আর তাতেই রাজি হয়ে যান সিকান্দার হায়াত। সেনা কর্মকর্তা ও তার মেয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠানে নও মুসলিমদের চাকরির ব্যবস্থা করেন।

দ্বীন মোহাম্মদ শেখের ধর্ম প্রচারের কথা পাকিস্তানের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়লে অনেক দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ তার কাছে এসেই ইসলাম গ্রহণ করেন। তার আবাসিক বাড়ির মসজিদেই নও মুসলিম শিশু কিশোর নারী ও পুরুষদের জন্য রয়েছে নামাজ ও পবিত্র কুরআন শেখার ব্যবস্থা। নারী শিক্ষকদের দিয়ে নারীদের কুরআন শেখারও রয়েছে আলাদা ব্যবস্থা।

সেখানে ১৫ দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে কুরআন ও নামাজ শেখানোর ব্যবস্থা রেখেছেন তিনি। তবে তিনি নিজে মুসলিম হওয়ার পর এত বিশাল সংখ্যক মানুষকে ধর্মে দীক্ষিত করলেও তিনি নিজে কোনো ধর্মীয় গ্রুপ বা দলকে সমর্থন করেন না।

বরং তার কাছে সব মুসলমান ভাই ভাই। সবাইকে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করাকেই নিজের জীবনের মিশন হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

আরো পড়ুন: বিশ্বের প্রভাবশালী ৫০০ মুসলিমের তালিকা যারা !

ইসলামী পন্ডিতগণ ইসলামকে সারা বিশ্বের মুসলমানদের অন্তরে পুনরুজ্জিবীত করেন। তারা তাদের ব্যক্তিত্ব ও বক্তব্য দিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রভাবিত করেন অসংখ্য মুসলমানকে। সম্প্রতি জর্দান ভিত্তিক রয়্যাল ইসলামিক স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ সেন্টার (আরআইএসএসসি) বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ৫০০ মুসলিমদের ২০২০ সালের সংস্করণ প্রকাশ করেছে।

যেখানে শীর্ষ স্থানে রয়েছেন পাকিস্তানি নাগরিক, বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি। তিনি হাদীস, ইসলামী ফিকহ, তাসাউফ ও অর্থনীতিতে বিশেষজ্ঞ। তিনি বর্তমানে ইসলামী অর্থনীতিতে সক্রিয় ব্যক্তিদের অন্যতম।

তিনি ১৯৮০ সাল থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শরীয়াহ আদালতের এবং ১৯৮২ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের শরীয়াহ আপিল বেঞ্চের বিচারক ছিলেন। তিনি ইসলামী ফিকহ্, হাদিস, অর্থনীতি এবং তাসাউউফ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি।

তৃতীয় স্থানে আছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবু ধাবির ক্রাউন প্রিন্স শায়েখ মুহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান। চতুর্থ স্থানে সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল-সৌদ এবং পঞ্চম স্থানে রয়েছেন জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আব্দুল্লাহ ইবনে আলী-হুসেইন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান ষষ্ঠ। তিনি তুরস্কের ১২তম রাষ্ট্রপতি যিনি ২০১৪ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পুর্বেও ২০০৩ সাল হতে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তুরষ্কের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এবং তার পূর্বে ১৯৯৪ সাল থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত ইস্তাম্বুলের মেয়র হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।