করোনার জন্য আসুন সবাই মিলে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি: ট্রাম্প

বিনোদন

মহান আল্লাহ প্রদত্ত বৈশ্বিক মহামারি প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসের সংক্রমণের আতঙ্কে কাঁপছে সারা দুনিয়া। এ ভাইরাসে যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ২৯৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ৫০ জন। চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১ হাজার ৯৭৩ জন। যার মধ্যে ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সুস্থ হয়েছেন ৩১ জন।

এমন পরিস্থিতিতে করোনা মোকাবিলায় রোববার দেশটিতে জাতীয় প্রার্থনা দিবস পালনের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরেই এ আহ্বান জানান তিনি। এমনকি এ ভাইরাস মোকাবিলায় ৫০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের ঘোষণা দেন তিনি।

শনিবার এক টুইটে ট্রাম্প বলেন, আমি রোববার ১৫ মার্চকে জাতীয় প্রার্থনা দিবস হিসেবে ঘোষণা করছি। ইতিহাস অনুসারে আমরা এমন এক দেশ, যারা এমন পরিস্থিতিতে সুরক্ষা ও শক্তির জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে যাই।
আরেক টুইটে তিনি বলেন, ‘যে যেখানেই থাকেন, সবাই বিশ্বাস করে প্রার্থনায় অংশ নিন।

একসঙ্গে আমরা সহজেই জয়ী হবো!
এদিকে সামনেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। আর খ্রিষ্টান ও ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের একটা বড় অংশই ট্রাম্পের অনুসারী। তাদের ভোট ধরে রাখতে এরইমধ্যেই বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে রিপাবলিকান সরকার।

যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় স্বাধীনতা ঘোষণাসহ সরকারি স্কুলগুলোতে প্রার্থনা আয়োজনে জোরালো ব্যবস্থা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এছাড়া, ধর্মীয় সংগঠনগুলো যেন ফেডারেল সরকারের হাতে হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়েও বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, চীনের হুবেই প্রদেশে উহান শহরে প্রথমে শনাক্ত হওয়া করোনভাইরাস এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১৪৫টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার সকাল পর্যন্ত এ ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫ হাজার ৪৩৬ জনে দাঁড়িয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬৮১ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭২ হাজার ৫৩২ জন।

সূত্র: ফক্স নিউজ

মুসলমানদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আইন বাতিল করুন: ভারতকে ইরান

ভারতের মুসলমানদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আইন বাতিল করতে নয়াদিল্লির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তেহরান। ইরানের অভিভাবক পরিষদের পক্ষ থেকে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি শরদ অরবিন্দ বোবদে’র কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ আহ্বান জানানো হয়েছে।

অভিভাবক পরিষদের সদস্য হাদি তাহান নাজিফ স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে ভারতের সাংবিধানিক কাঠামোর আওতায় মুসলমানদের বিরুদ্ধে আরোপিত বৈষম্যমূলক আইন বাতিল করার আহ্বান জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ভারত থেকে যেসব খবর ও ছবি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে, মুসলমানদের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয়ার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালানো হচ্ছে।

ভারত সরকার দেশটিতে সাম্প্রদায়িক সংঘাত প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে বলে চিঠিতে আশা প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, ভারত সম্পর্কে বিশ্ববাসীর মানসপটে যে চিত্র রয়েছে সেটি হচ্ছে সেদেশের সব ধর্মের অনুসারীরা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করে। তারা এই চিত্রের ব্যত্যয় দেখতে চায় না।

ইরানের অভিভাবক পরিষদের চিঠিতে বলা হয়, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ভারতীয় পার্লামেন্ট যে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাস করেছে তাতে মুসলমানদের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব ও সম-অধিকার কেড়ে নেয়াসহ অনেকগুলো বৈষম্যমূলক ধারা রয়েছে।

এসব ধারা জাতিসংঘের মানবাধিকার ঘোষণার (১), (২) ও (১৫) নম্বর অনুচ্ছেদ, নাগরিক অধিকার চুক্তির (২) ও (২৬) নম্বর অনুচ্ছেদ এবং ভারতের সংবিধানেরই (১৪) ও (১৫) অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। উল্লেখ্য, ভারতীয় পার্লামেন্টে পাস হওয়া নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের আগে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে যেসব মানুষ ভারতে প্রবেশ করেছে তাদেরকে সেদেশের নাগরিকত্ব দেয়া হবে; তবে এই আইন মুসলমানদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

এদিকে উগ্র হিন্দুরা গত এক মাস ধরে রাজধানী নয়াদিল্লির উত্তর-পূর্ব অংশে বসবাসকারী মুসলমানদের বিরুদ্ধে ব্যাপক সহিংসতা চালিয়েছে। তারা মুসলমানদের হত্যা করার পাশাপাশি তাদের ঘর-বাড়ি, মহল্লা ও মসজিদ আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে। পার্সটুডে

Leave a Reply