স্বামীকে হাজতখানায় খাবারের সঙ্গে ইয়াবা দিতে গিয়ে স্ত্রী গ্রেপ্তার

বিনোদন

দিনাজপুর পুলিশ কোর্টের হাজতখানায় স্বামীকে শুকনা খাবারের সঙ্গে মাদকদ্রব্য দিতে গিয়ে ১৬টি ইয়াবাসহ স্ত্রী গ্রেপ্তার হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিনাজপুর পুলিশ কোর্টের হাজতখানায় এই ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার হওয়া রুজিনা বেগম রিক্তা (২৫) পাবর্তীপুর উপজেলার সাহেবপাড়া গ্রামের মিলন রহমানের (২৭) স্ত্রী। মিলন রহমান একটি চুরি মামলার আসামি।

পুলিশ কোর্টের হাজতখানায় ইয়াবা দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে মাদক আইনে কোতয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। দিনাজপুর ডিবি পুলিশের ওসি আবু ইমাম জাফর জানান, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় দিনাজপুর পুলিশ কোর্টে একটি চুরি মামলার আসামি মিলন রহমান (২৭) পুলিশ কোর্টের হাজতখানায় নিয়ে আসা হয়।

এ সময় তার স্ত্রী রুজিনা বেগম রিক্তা শুকনা খাবার দেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে যান। হাজতখানায় ডিউটিতে থাকা পুলিশ ওই শুকনা খাবার দিতে না চাইলে রুজিনা কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক শফিকুল ইসলামের কাছে যান এবং তার স্বামীকে খাবার দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। এ সময় শুকনা খাবারগুলো যাচাই করতে গিয়ে চিড়ার মধ্যে ১৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যাওয়া।

আবু ইমাম জাফর আরো জানান, এই ঘটনায় রুজিনাকে ডিবি পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়। ডিবি পুলিশের এসআই আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে কোতয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। রুজিনাকে দুপুর আড়াই টায় সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসলমাইল হোসেনের আদালতে হাজির করা হয়। ডিবি পুলিশের সুত্রটি জানায়, রুজিনা বিচারকের কাছে স্বীকারোক্তিতে বলেছেন, তার স্বামী মিলন দীর্ঘদিন থেকে মাদক সেবন করেন।

মাদক সেবন না করলে সে শারীরিকভাবে অস্থির হয়ে যান। পরে নানা ধরনের উপসর্গ তার শরীরে সৃষ্টি হয়। স্বামীর সঙ্গে বৃহস্পতিবার পুলিশ কোর্টে হাজতখানায় দেখা করলে যেখান থেকে হোক ইয়াবা ট্যাবলেট সংগ্রহ করে দিতে বলে। বিচারক রুজিনার জবানবন্দি গ্রহণ করে বিকেল ৪টায় জেল হাজতে প্রেরণ করেন।

সব বন্ধ, পেট তো বন্ধ নেই, কামড় দেয় ক্ষুধাসব বন্ধ, পেট তো বন্ধ নেই, কামড় দেয় ক্ষুধা

রাজধানীর তোপখানা রোডের যে পাশে জাতীয় প্রেসক্লাব, ঠিক তার উল্টো দিকেই মুদ্রাক্ষরিকদের (টাইপরাইটার) ছোট ছোট দোকান। একই সঙ্গে আইনজীবীদের সহকারী হিসেবে নোটারি পাবলিক করিয়ে দেওয়ার কাজও করেন তাঁরা। বিনিময়ে আইনজীবীরা কিছু পান, বাকিটা নেন এসব সহকারী।

তবে দোকান মানে একটা কাঠের চেয়ার, একটা টেবিল আর একটা টুল। গতকাল মঙ্গলবার খাঁ খাঁ দুপুরে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, কাঠের চেয়ার-টেবিলগুলো ওলটানো। শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা এগুলো। মুদ্রণজগতে কম্পিউটারের প্রচলন শুরু হওয়ার পর থেকে এমনিতেই মুদ্রাক্ষরিকদের কাজ ও কদর কমে আসছে।

করোনাভাইরাস আসার পর তা এখন একেবারেই বন্ধ হয়ে যাওয়ার জোগাড়। ১৪ এপ্রিল দেশব্যাপী সর্বাত্মক লকডাউন শুরুর পর থেকে মুদ্রাক্ষরিকেরা সবাই ঘরবন্দী। কথা বলার একজন লোকও পাওয়া যায়নি গতকাল। সেখানে পাওয়া যায় মো. আকরামুল ইসলাম নামের একজনের, যাঁর একটি দোকান রয়েছে।

ওই দোকানে তিনি ফটোকপি ও মোবাইলে টাকা রিচার্জের পাশাপাশি মোবাইলে আর্থিক সেবা দাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের এজেন্ট হিসেবেও কাজ করেন। বিকাশ, নগদ, রকেটের দোকান খুলতে যেহেতু বাধা নেই, তাই তিনি খুলেছেন। কিন্তু গ্রাহক নেই। তিনি জানান, ১৯৭৩ সালে ৬৫ জন মুদ্রাক্ষরিক এখানে বসা শুরু করেন। এখন আছেন ৩৪ জন।

তোপখানা রোড পেশাজীবী মুদ্রাক্ষরিক কল্যাণ সমিতির সদস্য তাঁরা। কাজ না থাকায় লোকগুলো খুবই কষ্টে আছেন। আকরামুল ইসলাম জানান, কাজ নেই, গ্রাহকও নেই। তবু কাজের আশায় গতকাল ঢাকার মানিকনগর থেকে পায়ে হেঁটে তোপখানা রোডে এসেছিলেন টাইপরাইটার নূরনবী হোসেন। কিন্তু সেই আশার গুড়ে বালি।

কিছুক্ষণ বসে থেকে আবার হেঁটে হেঁটে চলে যান তিনি। কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাই বলায় আকরামুল পুরোনো মুদ্রাক্ষরিক আলী আহমেদের মোবাইল নম্বর দেন। বিকেলে ফোন করে পরিচয় দিতেই আলী আহমেদ বলেন, ‘৩০ বছর ধরে তোপখানা রোডে আসছি। এমন খারাপ সময় কখনো আসেনি, যদিও অনেক আগে থেকেই আমাদের দিন খারাপ হয়ে আছে।

টাইপ করতে কেউ আসেন না। সব খেয়ে ফেলেছে কম্পিউটার। তবে মাঝে মাঝে নোটারি করতে লোক আসেন। আইনজীবীদের মাধ্যমে তা করাতে হয়। গ্রাহকদের কাছ থেকে যা পাওয়া যায়, তা থেকে আইনজীবীরা আমাদের একটা অংশ দেন। তাতে কোনো দিন ২০০ টাকা, কোনো দিন ৩০০ টাকা পাই।

ভাগ্য ভালো থাকলে ৫০০ টাকাও পাওয়া যায় কোনো কোনো দিন। এই আয় থেকে চেয়ার-টেবিল নিয়ে বসার একটা ভাড়াও দিতে হয় সিটি করপোরেশনকে।’ কিন্তু এখন তো সবই বন্ধ। ফলে দোকান ভাড়াই কী দেবেন, আবার বাড়ি ভাড়াই কী দেবেন—তা নিয়ে চিন্তিত আলী আহমেদ। তিন বেলা খাওয়ার ব্যবস্থা কীভাবে করবেন—সেই চিন্তায় দিশেহারা তিনি।

বলেন, ‘জীবনে আর কিছু শিখিনি। বয়স হয়েছে, শেখার সুযোগও নেই আর। কিন্তু পেটটা তো আছে। পেট তো বন্ধ নেই, কামড় দেয় ক্ষুধা।’ আলী আহমেদের পাঁচ ছেলেমেয়ের মধ্যে দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে। এক মেয়ে অনার্স প্রথম বর্ষে পড়ছেন। ১০ বছর বয়সী একটা প্রতিবন্ধী ছেলে আছে। তিনি বলেন, ‘শুনেছি, প্রতিবন্ধী বাচ্চাদের ভাতা দেয় সরকার। আমার ছেলেটা পায় না।’