করোনা টেস্ট করাতে গিয়ে ডাক্তারের সাথে একি আচরণ করলেন বলিউড নায়িকা ক্যাটরিনা

বিনোদন

যত সময় বাড়ছে ততোই আতঙ্ক বাড়াচ্ছে অদৃশ্য ভাইরাস করোনা। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সেলেবদের শরীরেও ঘাঁটি গাড়ছে করোনা জীবাণু। কথায় বলে সাবধানের মার নেই। এবার সেই পথেই হাঁটলেন বলি ক্যাট। এবার করোনা পরীক্ষা করালেন ক্যাটরিনা কাইফ।

২০০৩ সালের বুম ছবিতেই একেবারে বোল্ড অবতারে এসেছিলেন ক্যাটরিনা কাইফ৷ ২০০৩ সালে মুক্তি পাওয়া বুম ছবি বক্স অফিসে মুখ থুবরে পড়েছিল৷ কিন্তু নজর কেড়েছিলেন ক্যাটরিনা কাইফ৷তাঁর বোল্ড অবতার চোখে পড়েছিল সবার। সেসব এখন অতীত বর্তমানে নজর সুপারহিট ক্যাটরিনা কাইফ।

কিন্তু এখন প্রশ্ন এবার কি ক্যাটরিনা শরীরের দানা বাঁধলো করোনা? কারণ সম্প্রতি ক‍্যাটরিনা কাইফের কোভিড টেস্ট হয়েছে। আর সেই কথা নিজেই জানিয়েছেন অভিনেত্রী।নিজেই ইন্সটাগ্রামে ভিডিও পোস্ট করে তার করোনা টেস্টের মুহূর্ত তুলে ধরেছেন। ভিডিওটি পোস্ট করে অভিনেত্রী বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে সতর্কতা খুব জরুরী’। ভিডিও পোস্ট হতেই মুহূর্তে ভাইরাল।

করোনা টেস্টের ভিডিও পাশাপাশি অভিনেত্রী মলদ্বীপের পতাকার একটি ইমোজিও শেয়ার করেন। সাদা ড্রেসে ক্যাটরিনা নজর কেড়েছে সবার। কিছুদিন আগেই একটি ‘এক্সোটিক’ শুটের জন্য ক্যাটরিনা শুটিং ইউনিটের সাথে মলদ্বীপ যান। মলদ্বীপে পাঁচ দিন থাকার পর অভিনেত্রী ভারতে ফিরে আসেন। বর্তমানে অভিনেত্রীর হাতে এক গুচ্ছ সিনেমা।

কারণ আগামী বছরের গোড়ায় মুক্তি পেতে চলেছে ক্যাটরিনা কাইফ অভিনীত ফিল্ম ‘সূর্যবংশী’। পাশাপাশি সিদ্ধান্ত চতুর্বেদী এবং ঈশান খট্টরের সাথে ক্যাটরিনাকে দেখা যাবে ‘ফোন ভুত’ ফিল্মে। খুব তাড়াতাড়ি শুরু হতে চলেছে ক্যাটরিনা অভিনীত একটি সুপারহিরো ফিল্মের শুটিং। যদিও ছবির নাম এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

সব বন্ধ, পেট তো বন্ধ নেই, কামড় দেয় ক্ষুধাসব বন্ধ, পেট তো বন্ধ নেই, কামড় দেয় ক্ষুধা

রাজধানীর তোপখানা রোডের যে পাশে জাতীয় প্রেসক্লাব, ঠিক তার উল্টো দিকেই মুদ্রাক্ষরিকদের (টাইপরাইটার) ছোট ছোট দোকান। একই সঙ্গে আইনজীবীদের সহকারী হিসেবে নোটারি পাবলিক করিয়ে দেওয়ার কাজও করেন তাঁরা। বিনিময়ে আইনজীবীরা কিছু পান, বাকিটা নেন এসব সহকারী।

তবে দোকান মানে একটা কাঠের চেয়ার, একটা টেবিল আর একটা টুল। গতকাল মঙ্গলবার খাঁ খাঁ দুপুরে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, কাঠের চেয়ার-টেবিলগুলো ওলটানো। শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা এগুলো। মুদ্রণজগতে কম্পিউটারের প্রচলন শুরু হওয়ার পর থেকে এমনিতেই মুদ্রাক্ষরিকদের কাজ ও কদর কমে আসছে।

করোনাভাইরাস আসার পর তা এখন একেবারেই বন্ধ হয়ে যাওয়ার জোগাড়। ১৪ এপ্রিল দেশব্যাপী সর্বাত্মক লকডাউন শুরুর পর থেকে মুদ্রাক্ষরিকেরা সবাই ঘরবন্দী। কথা বলার একজন লোকও পাওয়া যায়নি গতকাল। সেখানে পাওয়া যায় মো. আকরামুল ইসলাম নামের একজনের, যাঁর একটি দোকান রয়েছে।

ওই দোকানে তিনি ফটোকপি ও মোবাইলে টাকা রিচার্জের পাশাপাশি মোবাইলে আর্থিক সেবা দাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের এজেন্ট হিসেবেও কাজ করেন। বিকাশ, নগদ, রকেটের দোকান খুলতে যেহেতু বাধা নেই, তাই তিনি খুলেছেন। কিন্তু গ্রাহক নেই। তিনি জানান, ১৯৭৩ সালে ৬৫ জন মুদ্রাক্ষরিক এখানে বসা শুরু করেন। এখন আছেন ৩৪ জন।

তোপখানা রোড পেশাজীবী মুদ্রাক্ষরিক কল্যাণ সমিতির সদস্য তাঁরা। কাজ না থাকায় লোকগুলো খুবই কষ্টে আছেন। আকরামুল ইসলাম জানান, কাজ নেই, গ্রাহকও নেই। তবু কাজের আশায় গতকাল ঢাকার মানিকনগর থেকে পায়ে হেঁটে তোপখানা রোডে এসেছিলেন টাইপরাইটার নূরনবী হোসেন। কিন্তু সেই আশার গুড়ে বালি।

কিছুক্ষণ বসে থেকে আবার হেঁটে হেঁটে চলে যান তিনি। কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাই বলায় আকরামুল পুরোনো মুদ্রাক্ষরিক আলী আহমেদের মোবাইল নম্বর দেন। বিকেলে ফোন করে পরিচয় দিতেই আলী আহমেদ বলেন, ‘৩০ বছর ধরে তোপখানা রোডে আসছি। এমন খারাপ সময় কখনো আসেনি, যদিও অনেক আগে থেকেই আমাদের দিন খারাপ হয়ে আছে।

টাইপ করতে কেউ আসেন না। সব খেয়ে ফেলেছে কম্পিউটার। তবে মাঝে মাঝে নোটারি করতে লোক আসেন। আইনজীবীদের মাধ্যমে তা করাতে হয়। গ্রাহকদের কাছ থেকে যা পাওয়া যায়, তা থেকে আইনজীবীরা আমাদের একটা অংশ দেন। তাতে কোনো দিন ২০০ টাকা, কোনো দিন ৩০০ টাকা পাই।

ভাগ্য ভালো থাকলে ৫০০ টাকাও পাওয়া যায় কোনো কোনো দিন। এই আয় থেকে চেয়ার-টেবিল নিয়ে বসার একটা ভাড়াও দিতে হয় সিটি করপোরেশনকে।’ কিন্তু এখন তো সবই বন্ধ। ফলে দোকান ভাড়াই কী দেবেন, আবার বাড়ি ভাড়াই কী দেবেন—তা নিয়ে চিন্তিত আলী আহমেদ। তিন বেলা খাওয়ার ব্যবস্থা কীভাবে করবেন—সেই চিন্তায় দিশেহারা তিনি।

বলেন, ‘জীবনে আর কিছু শিখিনি। বয়স হয়েছে, শেখার সুযোগও নেই আর। কিন্তু পেটটা তো আছে। পেট তো বন্ধ নেই, কামড় দেয় ক্ষুধা।’ আলী আহমেদের পাঁচ ছেলেমেয়ের মধ্যে দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে। এক মেয়ে অনার্স প্রথম বর্ষে পড়ছেন। ১০ বছর বয়সী একটা প্রতিবন্ধী ছেলে আছে। তিনি বলেন, ‘শুনেছি, প্রতিবন্ধী বাচ্চাদের ভাতা দেয় সরকার। আমার ছেলেটা পায় না।’