রামেকে করোনায় আরও ১৬ জনের মৃত্যু

স্বাস্থ্য

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আরও ১৬ জন। এরমধ্যে ১০ জন করোনা পজিটিভ ছিলেন এবং ৬ জন উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।

শুক্রবার (৪ জুন) রামেকের উপ-পরিচালক ডা. মো. সাইফুল ফেরদৌস এ তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার রামেকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়।

এছাড়া নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হন আরও ৯৮ জন। হাসপাতালে করোনা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় করোনা ডেডিকেটেড ওয়ার্ড বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন: করোনায় রাজশাহীতে মৃত্যু আরও বেড়েছে

এদিকে গত বুধবার (২ জুন) রাজশাহী জেলা প্রশাসক (ডিসি) আব্দুল জলিল জানান, রাজশাহীতে চলমান বিধিনিষেধের (লকডাউন) চারটি শর্ত বাড়িয়েছে।

জেলার করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব দোকানপাট বন্ধ, ৭টার পর জনসাধারণের ঘরের বাইরে বের হওয়া, সব ধরনের গণজমায়েত ও সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

একই সঙ্গে সব বিনোদনকেন্দ্রও বন্ধ রাখার নির্দেশ আরোপ করা হয়েছে। ডিসি আরও জানান, জেলায় সপ্তাহ ধরে ক্রমাগত করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রতিদিনের করোনা টেস্টের বিপরীতে রাজশাহীতে সংক্রমণের হার ৪০ শতাংশের ওপরে যাচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে চলমান লকডাউনের মধ্যে চারটি শর্ত বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি এসব শর্ত বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন কঠোরতা আনবে। তবে আম ও কৃষিপণ্য এসব নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।

সব বন্ধ, পেট তো বন্ধ নেই, কামড় দেয় ক্ষুধাসব বন্ধ, পেট তো বন্ধ নেই, কামড় দেয় ক্ষুধা

রাজধানীর তোপখানা রোডের যে পাশে জাতীয় প্রেসক্লাব, ঠিক তার উল্টো দিকেই মুদ্রাক্ষরিকদের (টাইপরাইটার) ছোট ছোট দোকান। একই সঙ্গে আইনজীবীদের সহকারী হিসেবে নোটারি পাবলিক করিয়ে দেওয়ার কাজও করেন তাঁরা। বিনিময়ে আইনজীবীরা কিছু পান, বাকিটা নেন এসব সহকারী।

তবে দোকান মানে একটা কাঠের চেয়ার, একটা টেবিল আর একটা টুল। গতকাল মঙ্গলবার খাঁ খাঁ দুপুরে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, কাঠের চেয়ার-টেবিলগুলো ওলটানো। শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা এগুলো। মুদ্রণজগতে কম্পিউটারের প্রচলন শুরু হওয়ার পর থেকে এমনিতেই মুদ্রাক্ষরিকদের কাজ ও কদর কমে আসছে।

করোনাভাইরাস আসার পর তা এখন একেবারেই বন্ধ হয়ে যাওয়ার জোগাড়। ১৪ এপ্রিল দেশব্যাপী সর্বাত্মক লকডাউন শুরুর পর থেকে মুদ্রাক্ষরিকেরা সবাই ঘরবন্দী। কথা বলার একজন লোকও পাওয়া যায়নি গতকাল। সেখানে পাওয়া যায় মো. আকরামুল ইসলাম নামের একজনের, যাঁর একটি দোকান রয়েছে।

ওই দোকানে তিনি ফটোকপি ও মোবাইলে টাকা রিচার্জের পাশাপাশি মোবাইলে আর্থিক সেবা দাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের এজেন্ট হিসেবেও কাজ করেন। বিকাশ, নগদ, রকেটের দোকান খুলতে যেহেতু বাধা নেই, তাই তিনি খুলেছেন। কিন্তু গ্রাহক নেই। তিনি জানান, ১৯৭৩ সালে ৬৫ জন মুদ্রাক্ষরিক এখানে বসা শুরু করেন। এখন আছেন ৩৪ জন।

তোপখানা রোড পেশাজীবী মুদ্রাক্ষরিক কল্যাণ সমিতির সদস্য তাঁরা। কাজ না থাকায় লোকগুলো খুবই কষ্টে আছেন। আকরামুল ইসলাম জানান, কাজ নেই, গ্রাহকও নেই। তবু কাজের আশায় গতকাল ঢাকার মানিকনগর থেকে পায়ে হেঁটে তোপখানা রোডে এসেছিলেন টাইপরাইটার নূরনবী হোসেন। কিন্তু সেই আশার গুড়ে বালি।

কিছুক্ষণ বসে থেকে আবার হেঁটে হেঁটে চলে যান তিনি। কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাই বলায় আকরামুল পুরোনো মুদ্রাক্ষরিক আলী আহমেদের মোবাইল নম্বর দেন। বিকেলে ফোন করে পরিচয় দিতেই আলী আহমেদ বলেন, ‘৩০ বছর ধরে তোপখানা রোডে আসছি। এমন খারাপ সময় কখনো আসেনি, যদিও অনেক আগে থেকেই আমাদের দিন খারাপ হয়ে আছে।

টাইপ করতে কেউ আসেন না। সব খেয়ে ফেলেছে কম্পিউটার। তবে মাঝে মাঝে নোটারি করতে লোক আসেন। আইনজীবীদের মাধ্যমে তা করাতে হয়। গ্রাহকদের কাছ থেকে যা পাওয়া যায়, তা থেকে আইনজীবীরা আমাদের একটা অংশ দেন। তাতে কোনো দিন ২০০ টাকা, কোনো দিন ৩০০ টাকা পাই।

ভাগ্য ভালো থাকলে ৫০০ টাকাও পাওয়া যায় কোনো কোনো দিন। এই আয় থেকে চেয়ার-টেবিল নিয়ে বসার একটা ভাড়াও দিতে হয় সিটি করপোরেশনকে।’ কিন্তু এখন তো সবই বন্ধ। ফলে দোকান ভাড়াই কী দেবেন, আবার বাড়ি ভাড়াই কী দেবেন—তা নিয়ে চিন্তিত আলী আহমেদ। তিন বেলা খাওয়ার ব্যবস্থা কীভাবে করবেন—সেই চিন্তায় দিশেহারা তিনি।

বলেন, ‘জীবনে আর কিছু শিখিনি। বয়স হয়েছে, শেখার সুযোগও নেই আর। কিন্তু পেটটা তো আছে। পেট তো বন্ধ নেই, কামড় দেয় ক্ষুধা।’ আলী আহমেদের পাঁচ ছেলেমেয়ের মধ্যে দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে। এক মেয়ে অনার্স প্রথম বর্ষে পড়ছেন। ১০ বছর বয়সী একটা প্রতিবন্ধী ছেলে আছে। তিনি বলেন, ‘শুনেছি, প্রতিবন্ধী বাচ্চাদের ভাতা দেয় সরকার। আমার ছেলেটা পায় না।’