সামরিক বিদ্রোহের পর মালির প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী আটক

আন্তর্জাতিক

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে সামরিক বাহিনীর একাংশের বিদ্রোহের পর দেশটির প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার আটকের পর এক টেলিভিশন ভাষণে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম বোউবাকার কেইতা। ভাষণে তিনি সরকার ও পার্লামেন্ট বিলুপ্ত ঘোষণা করেন।

ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘সেনাবাহিনীর একটি নির্দিষ্ট অংশ যদি নিজেদের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সরকারের ইতি টানতে চায়, তাহলে কী আমার সামনে পদত্যাগ ছাড়া আর কোনও বিকল্প আছে? আমাকে ক্ষমতায় রাখার জন্য কোনও রকম রক্তপাত হোক, সেটা আমি চাই না।’

ওই টেলিভিশন ভাষণের আগে প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম বোউবাকার কেইতা এবং প্রধানমন্ত্রী বোউবোউ সিসেকে আটক করে বিদ্রোহী সেনারা। আটকের পর তাদের রাজধানী বামাকোর একটি সামরিক ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। মালির এই অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়েছে ওই অঞ্চলের অন্যান্য দেশ এবং দেশটির সাবেক ঔপনিবেশিক শাসক ফ্রান্স।

মালির সেনাদের মধ্যে বেতন-ভাতা নিয়ে অসন্তোষ এবং জিহাদিদের সঙ্গে অব্যাহত লড়াই নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে। সেই সঙ্গে সদ্য ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্টের ওপরও অনেকে সন্তুষ্ট নয়। ২০১৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দ্বিতীয় বারের মতো বিজয়ী হন কেইতা। কিন্তু দুর্নীতি, অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় তার ওপর অনেকের ক্ষোভ তৈরি হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে বেশ কয়েকবার বড় ধরণের বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির রক্ষণশীল মুসলিম ইমাম মাহমুদ ডিকোর নেতৃত্বাধীন নতুন একটি জোট দেশে সংস্কারের দাবি তুলেছে। কেইতা তাকে যৌথ সরকার গঠনসহ নানা প্রস্তাব দিলেও মাহমুদ ডিকো তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

বিদ্রোহ সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে

মালির কাটি সামরিক ঘাটির ডেপুটি কমান্ডার কর্নেল মারিক ডিয়াউ এবং জেনারেল সাদিও কামারা এই বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন বামাকো থেকে বিবিসি আফ্রিকান সার্ভিসের সাংবাদিক আবদাউল বা।

বামাকো থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরের এই সামরিক ঘাঁটির দখল নেওয়ার পরই বিদ্রোহী সেনারা রাজধানীতে পৌঁছায়। সেখানে প্রধানমন্ত্রী কেইতার পদত্যাগের দাবিতে জমায়েত হওয়া লোকজন সেনাসদস্যদের স্বাগত জানায়।

মঙ্গলবার দুপুরের পর তারা প্রেসিডেন্টের বাসভবনে ঢুকে পড়ে এবং সেখানে থাকা প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী- দুই জনকেই গ্রেফতার করে। প্রেসিডেন্টের ছেলে, ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির স্পিকার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রীকেও আটক করা হয়েছে।

তবে এই বিদ্রোহে দেশটির কত সৈনিক অংশ নিয়েছে, তা এখনও পরিষ্কার নয়। মালির সাবেক ঔপনিবেশিক শাসক ফ্রান্স এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। সেনাদের ব্যারাকে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্যারিস। সূত্র: বিবিসি।