পদত্যাগ করেছে লিবিয়ার যুদ্ধবাজ হাফতারের মিত্র সরকারের প্রধানমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক

বিদ্যুত বিচ্ছিন্ন ও জীবনমানের মারাত্মক অবনতির ফলে লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলে তীব্র হয়েছে বিক্ষোভ। এর ফলে সেখানে জাতিসংঘ স্বীকৃত সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত খলিফা হাফতারের সঙ্গে মিত্রতা আছে এমন অন্তর্বর্তী সরকার পদত্যাগ করেছে।

তাবুক ভিক্তিক হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের (এইচওআর) মুখপাত্র এজেল-দিন আল ফালিহ বলেছেন, রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এই সরকারের প্রধানমন্ত্রী আবদাল্লাহ আল থানি তার পদত্যাগপত্র স্পিকার আগুইলা সালেহর কাছে জমা দিয়েছেন।

যুদ্ধবাজ হাফতারের পার্লামেন্টের মুখপাত্র আবদাল্লাহ আবাইহিগ বলেছেন, এখন এইচওআরের আইনজীবীরা আল থানি সরকারের জমা দেয়া এই পদত্যাগপত্র পর্যালোচনা করবে। উল্লেখ্য, আল থানি সরকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নয়।

বরং জাতিসংঘ স্বীকৃতি দেশটির ত্রিপোলি সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে এই তথাকথিত সরকার গঠিত হয়েছে। কবে ওই পর্যালোচনা বৈঠক বসবে সে বিষয়েও কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। ততদিন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আবদাল্লাহ আল থানি দায়িত্বে অব্যাহত থাকবেন কিনা তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে তেলসমৃদ্ধ দেশ লিবিয়ার দীর্ঘদিনের শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত করে ন্যাটো বাহিনী। তখন থেকেই দেশটি টালমাটাল হয়ে পড়েছে। কোথাও কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। এক এক এলাকা শাসন করছে এক এক সরকার।

মুলত তখন থেকেই লিবিয়া দুটি অংশে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একটি অংশের নাম হয়েছে পূর্বাঞ্চলীয় প্রশাসন। আরেকটি অংশ হয়েছে পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রশাসন। পূর্বাঞ্চলীয় সরকারকে সমর্থন করছে সশস্ত্র গ্রুপগুলো। এর নেতৃত্বে রয়েছেন কমান্ডার যুদ্ধবাজ খলিফা হাফতার।

অন্যদিকে পশ্চিমাঞ্চলে ক্ষমতায় রয়েছেন জাতিসংঘ সমর্থিত সরকার। এই সরকারকে গভর্নমেন্ট অব ন্যাশনাল একর্ডের (জিএনএ) বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে দেশটিতে আন্তর্জাতিক সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে আসছে যুদ্ধবাজ খলিফা হাফতার।

এই যুদ্ধবাজ বিদ্রোহীকে মদদ দিয়ে যাচ্ছে মিশর, রাশিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ইউরোপের বেশ কিছু দেশ। তাদের সামরিক সহযোগিতায় লিবিয়ার পূর্বাঞ্চল দখল করে নেয় হাফতার। সম্প্রতি তুরস্ক জিএনএ সরকারের সমর্থনে লিবিয়ায় সেনা পাঠালে পুনরায় বেশ কিছু শহর নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হন আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সরকার।

হাফতার গত বছরের এপ্রিল থেকে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি দখল করার চেষ্টা করছে। তবে যুদ্ধবাজ হাফতারের মিলিশিয়া বাহিনী সম্প্রতি অনেকটা প্রতিহত হয়েছে, কারণ লিবিয়ান সরকারের সেনাবাহিনী রাজধানী তারহুনা, বনি ওয়ালিদ, ওয়াটিয়া এয়ার বেস এবং পশ্চিম পর্বত জেলার শহরগুলি ইতিমধ্যে তাদের নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয়েছে।

এর আগে মিশরের স্বৈরশাসক আব্দেল ফাত্তাহ আল-সিসি রাজধানী কায়রোতে বৈঠক করে লিবিয়ার বেনগাজির উপজাতির নেতাদের জাতিসংঘ সমর্থিত সরকারের বিরুদ্ধে উসকে দেয়। এছাড়া তাদের অস্ত্র দিয়ে সিসি যুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। এদিকে দেশটির আন্তর্জাতিক স্বীকৃত জিএনএ সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে তুরস্ক ও কাতার।

এ বিষয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান এক বক্তব্যে বলেছিলেন, ৫০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে লিবিয়ার সাথে আমাদের ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক। আমরা আমাদের লিবিয়ান ভাইদের একা ছেড়ে যাব না। লিবিয়ার ব্যাপারে তুরস্ক যে দায়িত্ব আজ অবধি পালন করে আসছে, ভবিষ্যতেও তা নিষ্ঠার সাথে পালন করে যাবে।