তুরস্ককে কেন প্রতিপক্ষ করা হচ্ছে?

আন্তর্জাতিক

আরব লীগে তুরস্কের ‘আগ্রাসন’ পর্যবেক্ষণের জন্য স্থায়ী উপকমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নেয়ার মানে হলো আরব লীগের নতুন লড়াই তুরস্কের বিরুদ্ধে। আর সেটির আয়োজন হচ্ছে ইসরাইলের ইচ্ছানুসারে। তুরস্কের বিরুদ্ধে এসব তৎপরতার জন্য আঙ্কারায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খ্রিষ্টান-জায়নিস্ট ইভাঞ্জেলিকাল জোটকে দায়ী করা হয়।

বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতকে অপারেশনাল স্তরে আরব বিশ্ব থেকে তুরস্ককে বিচ্ছিন্ন করার কাজ দেয়া হয়েছে। তারা এ কাজে অর্থায়ন করে আসছে আর এই কৌশলের আসল সমর্থক হলো ইসরাইল এবং কিছু ইসরাইলপন্থী মার্কিন রাজনীতিবিদ।

২০০২ সালে সৌদি আরব কর্তৃক সূচিত আরব পিস ইনিশিয়েটিভ প্রতিষ্ঠিত শান্তির নীতিটি বজায় রাখারজন্য ইসরাইলের সাথে সাধারণীকরণের ব্যাপারে আরব লীগের পুরণো উপকমিটি এখনো বিদ্যমান। সেটিকে অকার্যকর করে তুরস্কের বিরুদ্ধে নতুন উপ কমিটি করে বার্তা দেয়া হয়েছে যে, ইসরাইল আরব লীগের শত্রু নয়; শত্রু হলো তুরস্ক।

জর্দানের সরকারি মুখপত্র জর্ডান টাইমসে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, তুর্কি সেনা এবং আঙ্কারা সমর্থিত মিলিশিয়ারা তিনটি আরব দেশ : লিবিয়া, সিরিয়া এবং ইরাকে সক্রিয় রয়েছে। এ ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা আরব বিশ্বের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও অবশ্যই স্বীকৃতি জানাতে হবে এবং তাতে প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে।

মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে একনায়কতন্ত্র ও রাজতান্ত্রিক সরকারগুলো গণতন্ত্রকে তাদের ক্ষমতার সামনে প্রধান প্রতিপক্ষ মনে করতে শুরু করেছে। আরব বসন্তের পর থেকে এসব দেশ ইরানের পাশাপাশি গণতন্ত্রকামী ইসলামিস্টদের প্রতিপক্ষ হিসেবে চিহ্নিত করতে থাকে।

অন্য দিকে ইসরাইল চাপ সৃষ্টি করে স্বার্থ আদায়ের জন্য কম বৈধ বা অবৈধ সরকারগুলোকে সবচেয়ে ভালো মনে করে। এ কারণে ইসরাইলের নিজস্ব শাসনব্যবস্থায় গণতন্ত্র অনুসরণ করা হলেও চার পাশের কোনো দেশেই গণতন্ত্র চর্চা তথা জনগণের ইচ্ছায় শাসন পরিচালনার বিষয়টি তেলআবিব পছন্দ করে না।

দেশটির নীতিপ্রণেতারা জানেন, মধ্যপ্রাচ্যের মুসলমানদের বেশির ভাগ ইসরাইলকে জবরদখলকারী মনে করে। এ কারণে ইসরাইল ও একনায়কতান্ত্রিক শক্তিগুলোর স্বার্থ একই রেখায় মিলে যায়। এর পাশাপাশি ইউরোপের মধ্যে সব সময় একটি ভয় কাজ করে যে, তুরস্ক শক্তিমান হয়ে অটোমান উত্তরাধিকারের দিকে ফিরে যায় কিনা।

এসব সমীকরণ তুরস্কের ব্যাপারে মধ্যপ্রাচ্যে একটি বৈরিতার বলয় তৈরি করেছে। যার সদস্য ফ্রান্স, আমিরাত, সৌদি আরব, মিসর থেকে ইসরাইল পর্যন্ত। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রন হঠাৎ করে ক্রুসেডের মনোভাব নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন ভূ-মধ্যসাগরে।

গাদ্দাফির যুগের সেনা জেনারেল খলিফা হাফতারকে লিবিয়ার রাজধানী দখল করার জন্য জাতিসঙ্ঘ স্বীকৃত বাহিনীর বিরুদ্ধে তিনি সহায়তা করে এসেছেন। সম্প্রতি, বৈরুত উদ্ধারের আওয়াজও তুলেছেন তিনি।

রহস্যজনক বিস্ফোরণে ব্যাপক প্রাণহানি ও সম্পদ ধ্বংসের ঘটনার পর এমানুয়েল ম্যাক্রন বলেছেন : ‘ফ্রান্স যদি ভূমিকা পালন না করে তবে ইরানি, তুর্কি এবং সৌদিরা লেবাননে হস্তক্ষেপ করবে, এতে লেবাননে তার অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’ এর মধ্যে ফরাসি যুদ্ধজাহাজগুলো সাইপ্রাসের বিরোধপূর্ণ অঞ্চলে গ্রিকদের সাথে যৌথ মহড়া দিচ্ছে।

ম্যাক্রোন চলতি সপ্তাহে কর্সিকায় এক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠানের আগে সাংবাদিকদের বলেন, ‘তুরস্ক আর এই অঞ্চলে অংশীদার নয়, ইউরোপীয়দের অবশ্যই এরদোগানের সরকারের ব্যাপারে ‘স্পষ্ট ও দৃঢ়’ থাকতে হবে। ইউরোপীয় দেশগুলোর তুরস্কের সাথে ‘লাল রেখা’ তৈরি করা উচিত।