কাশ্মীরে ছেলের সামনে মাকে হত্যা; বিক্ষোভকারীদের দাবি ভারতীয় বাহিনী জড়িত

আন্তর্জাতিক

ভারত দখলকৃত কাশ্মীরের শ্রীনগরে ৪৫ বছর বয়সী কাউনসার সোফিনামের এক মাকে তার ছেলের সামনে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনাটি তখন ঘটেছিল, যখন তাদের ফিরদৌসাবাদের বাড়িতে সবাই বিয়ের জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন।

বড়পাথর এলাকার বাটামালুতে কাউনসর সূর্যদয়ের আগে ভোর সাড়ে ৩টার দিকে বেকারি দোকানের জন্য রুটি তৈরি করতে বের হয়েছিলেন। তার ২৫ বছর বয়সী ছেলে আকিব সোফির গাড়ি চালাচ্ছিল আর তিনি যাত্রী সিটে বসা ছিলেন।

অশ্রুসিক্ত আকিব সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে যে তার মা যেখানে মারা গেছেন তার অল্প দূরত্বেই ভারতীয় বাহিনীর অবস্থান ছিল। কাশ্মীরী মায়ের মৃত্যু সংবাদ ভাইরাল হওয়ার পরেই বাটামালু এলাকায় বেশ কয়েক স্থানে বিক্ষোভ করে কাশ্মীরী জনগণ।

এদিতে ভারত নিয়ন্ত্রিত শ্রীনগরের এসএসপি হাসিব মুঘল এই বিষয়ে গণমাধ্যমে কথা বলতে রাজি হয়নি। শ্রীনগর পুলিশের আইজি ও ডিজি তাকে এই বিষয়ে কথা বলতে নিষেধ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

যদিও ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর পুলিশের ডিজি দিলবাগ সিং এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন যে, এই নারী দূর্ভাগ্যবসত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে যান।বিক্ষোভকারীদের দাবি, ভারতীয় বাহিনী এই ৪৫ বছর বয়সী মাকে ইচ্ছা করেই হত্যা করেছে।

আরো পড়ুন-আমার মৃত্যুটা যেন মসজিদে হয়’

স্ত্রী ও এক ছেলে সন্তানকে নিয়ে এক রুমের একটি টিনশেড ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন সাংবাদিক নাদিম আহমেদ ফিদা । সাংবাদিকতা করার সুবাধে সামান্য যা সম্মানি পেতেন তা দিয়েই মোটামুটিভাবে চলে যেত সংসার। পরিবারে একমাত্র তিনিই উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। বর্তমানে তিনি আর জীবিত নেই।

নামাজ পড়তে গিয়ে বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হয়ে ঢাকা শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার রাতে মারা গেছেন। রাতেই খানপুর জোড়াটাংকি সংলগ্ম মাঠে সাংবাদিক নাদিম আহমেদের জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাযা শেষে শহরের ডনচেম্বার এলাকায় তার বাসায় গিয়ে দেখা যায়, এক রুমের একটি টিনশেড রুমে বসে তার স্ত্রী লীমা আহমেদ স্বামীর স্মৃতি মনে করে আহাজারি করছেন। আর পাশে আত্মীয় স্বজনরা বসে সান্তনা দেয়ার চেষ্টা করছেন।

আহাজারি থামিয়ে কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে লীমা আহমেদ বলেন, সাংবাদিকতা করে যে সম্মানী পেতেন তাতেই চলতো সংসার। কিন্তু সেটাও সংসার চলানোর মতো যথেষ্ট ছিল না। তাতেও কখনো কারো কাছে ঋণ বা ধার নেয়নি। না খেয়ে থাকলেও অবৈধ পথে হাঁটেননি। সত্য ভাবে বাঁচার চেষ্টা করেছেন সব সময়।

তিনি বলেন, নাদিম প্রায়ই বলতো হজ করার টাকা তো আমার নাই তবে আমার মৃত্যুটা যেন মসজিদে হয়। তখন আমি নিজেও বুঝতে পারতাম না কেন সে এসব বলে। মসজিদের বিস্ফোরণের ঘটনায় তার অকালে চলে যাওয়ায় আমার মনে হচ্ছে আল্লাহ তায়লা তার দোয়া কবুল করেছেন।

লীমা বলেন, একমাত্র ইনকামের লোক ছিলেন তিনি। এখন ইনকামের লোক চলে গেছে। ছেলেকে নিয়ে আমি কই যামু, এখন কি করমু। এখনও তো ছেলের পড়ালেখা শেষ হয় নাই। কি কাজ করবো। কিভাবে সংসার চলবো। করোনার শুরুতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় হাত ভেঙে যায়।

এছাড়াও আরো অনেক রোগ ছিল। এতো কিছুর পরও কষ্ট করে সংসার চলতো। একমাত্র সন্তান প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে লিমা আহমেদ আবারো আহাজারি করতে করতে বলেন, একমাত্র ছেলে নাফি আহমেদ বার একাডেমী স্কুলের নবম শ্রেনির ছাত্র।

এতো কষ্টে সংসার চলতো কিন্তু কখনো ছেলের পড়ালেখা বন্ধ করেনি। আশা ছিল ছেলেকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করবে। ভালো কোন চাকরি করবে। কিন্তু ওর আশা আর পূরন হলো না। আমার ছেলের পড়ালেখাই বন্ধ হয়ে যাবে।