আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে ইমরান খানকে ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন হিরো’ হিসেবে সম্বোধন

আন্তর্জাতিক

ক্যালিফোর্নিয়ার সাবেক গভর্নর ও হলিউডের সুপার হিরো আর্নল্ড শোয়ার্জেনেগারের আমন্ত্রণে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বার্ষিক ওয়ার্ল্ড অস্ট্রিয়ান সামিটে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রেখেছেন।অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় এই সামিটের আয়োজন করা হয়।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা সামিটে বক্তব্য রাখেন।ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে ইমরান মূলত জলবায়ুর পরিবর্তন নিয়ে বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে তার অভিমত বিনিময় করেন। ভবিষ্যত প্রজন্মের ঝুঁকি কমাতে বৈশ্বিক উষ্ণতা ফ্রন্টে দ্রুত তৎপর হওয়ার জন্য তিনি বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।

ইমরান খানের পাশাপাশি আরো যারা সামিট ভার্চুয়ালি যোগ দেন তাদের মধ্যে ছিলেন বৃটেনের প্রিন্স চার্লস, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ ও জাতিংঘ মহাসচিব আন্তনিও গুতেরেস। গত চার বছরে অস্ট্রিয়ান ওয়ার্ল্ড সামিট বিশ্বের সবচেয়ে বড় পরিবেশবিষয়ক সম্মেলনে পরিণত হয়েছে।

বিশ্ব শোয়ার্জেনেগারকে হলিউডের বিখ্যাত অভিনেতা হিসেবেই জানে। কিন্তু এর পাশাপাশি গত ২০ বছর ধরে তিনি দূষণ ও জলবায়ুর পরিবর্তনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে যাচ্ছেন।

অনুষ্ঠানে শোয়ার্জেনেগার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খানকে ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন হিরো’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং বলেন যে দক্ষিণ এশিয়ার এই নেতা হলেন ক্লাইমেট অ্যাকশন জোটের একজন শক্তিশালী ও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।

সূত্র: সাউথ এশিয়ান মনিটর ও জিভিএস

আরো পড়ুন-জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে আবারও প্রথম হলেন বাংলাদেশ

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের দুটি সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এক একটি হচ্ছে, এ মিশনে সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে দীর্ঘদিন দ্বিতীয় অবস্থানে থাকার পর আবারও প্রথম অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী গত ৩১ আগস্ট শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সংখ্যা মোট ছয় হাজার ৭৩১ জনে উন্নীত হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশের মর্যাদা লাভ করে।

দ্বিতীয় সাফল্য হচ্ছে বাংলাদেশি একজন সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল মো. মাঈন উল্লাহ চৌধুরী দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের ডেপুটি ফোর্স কমান্ডার নির্বাচিত হয়েছেন।
আইএসপিআর আজ শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করে।

সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল মো. মাঈন উল্লাহ চৌধুরী দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের ডেপুটি ফোর্স কমান্ডার নির্বাচিত হয়েছেন।
এর আগেও বাংলাদেশের সেনা কর্মকর্তারা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ফোর্স কমান্ডার ও ডেপুটি ফোর্স কমান্ডার হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালনের গৌরব অর্জন করেছেন।

জানা যায়, সামরিক ও পুলিশ শান্তিরক্ষী পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এর আগেও অনেক বছর শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসের শেষ দিন পর্যন্ত ২৮ মাসের মধ্যে ২০ মাসই বাংলাদেশ শীর্ষে ছিল। এর আগে ও পরে সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী প্রথম সারির দেশগুলোর তালিকায় নিজের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়।

জাতিসংঘের ‘ডিপার্টমেন্ট অব পিসকিপিং অপারেশন্স’-এর ওয়েবসাইটে শান্তিরক্ষা মিশনে কোন দেশ কত সামরিক ও পুলিশ সদস্য পাঠিয়েছে, তার বছর ও মাসভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে। এতে সর্বশেষ গত ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তথ্য রয়েছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সব চেয়ে বেশি সামরিক ও পুলিশ সদস্য প্রেরণকারী দেশগুলোর মধ্যে প্রথম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ছয় হাজার ৪৭৭ জন পুরুষ ও ২৫৫ জন নারী মিলিয়ে মোট ছয় হাজার ৭৩১ জন শান্তিরক্ষী জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করছেন।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইথিওপিয়া। এ দেশটির শান্তিরক্ষীদের সংখ্যা ৬ হাজার ৬৬২ জন। এ ছাড়া ছয় হাজার ৩২২ জন শান্তিরক্ষী নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রুয়ান্ডা, পাঁচ হাজার ৬৮২ জন শান্তিরক্ষী নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে নেপাল।

পাঁচ হাজার ৩৫৩ জন শান্তিরক্ষী নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে ভারত, চার হাজার ৪৪০ জন শান্তিরক্ষী নিয়ে ৬ষ্ঠ অবস্থানে পাকিস্তান এবং তিন হাজার ৯৩ জন শান্তিরক্ষী নিয়ে সপ্তম অবস্থানে রয়েছে মিশর।

প্রসঙ্গত, ১৯৮৯ সালের ইরাক-ইরানে সামরিক পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া শুরু হয়। বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী এ মিশনে দায়িত্ব পালন করে আসছেন ১৯৯৩ সাল থেকে। বাংলাদেশের পুলিশ সদস্যরা এ মিশনে অংশগ্রহণ করে আসছেন ১৯৮৯ সাল থেকে।

আইএসপিআরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুসারে, গত মে মাস পর্যন্ত বিশ্বের ৪০টি দেশে ৫৪টি মিশনে এক লাখ ৭০ হাজার ২৪৩ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশের নারী শন্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করেছেন এক হাজার ৮০৩ জন।

বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন ২৫৫ জন। বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন বিশ্বের ১১টি দেশে। ঝুঁকিপুর্ণ এ দায়িত্ব পালনের সময় জীবন দিতে হয়েছে ১৫১ জনকে।