জার্মানে মাইকে আজান নিষিদ্ধের মামলায় জিতলেন মুসলিমরা

আন্তর্জাতিক

জার্মানির একটি শহরে মাইকে আজান দেয়া নিষিদ্ধ করার দাবিতে স্থানীয়দের করা মামলায় জয় পেয়েছেন মুসলিমরা। টানা পাঁচ বছরের আইনি লড়াই শেষে বুধবার মামলাটি খারিজ করে দিয়েছেন জার্মান আদালত। ফলে, এখন থেকে শহরটিতে মাইকে আজান দিতে আর কোনও বাধা থাকল না।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ২০১৫ সালে জার্মানির উত্তর রাইন-ওয়েস্টফালিয়া অঙ্গরাজ্যের ওর-এরকেনশিক শহরের বাসিন্দারা আজানের সময় মাইক ব্যবহারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।

মসজিদ থেকে ৯০০ মিটার দূরে বসবাসকারী একটি পরিবারের অভিযোগ ছিল, আজানের শব্দে তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। কিন্তু পরিবারটির এ দাবি খারিজ করে দিয়েছেন জার্মান আদালত।

রায় ঘোষণায় বিচারক বলেছেন, অন্যরাও ধর্মীয় চর্চা করবে এটা প্রতিটি সমাজকে অবশ্যই মানতে হবে। যতক্ষণ কাউকে ধর্মচর্চায় জোর করা হচ্ছে না, ততক্ষণ অভিযোগ জানানোর কোনও সুযোগ নেই।

আরো পড়ুন-জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে আবারও প্রথম হলেন বাংলাদেশ

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের দুটি সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এক একটি হচ্ছে, এ মিশনে সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে দীর্ঘদিন দ্বিতীয় অবস্থানে থাকার পর আবারও প্রথম অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী গত ৩১ আগস্ট শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সংখ্যা মোট ছয় হাজার ৭৩১ জনে উন্নীত হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশের মর্যাদা লাভ করে।

দ্বিতীয় সাফল্য হচ্ছে বাংলাদেশি একজন সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল মো. মাঈন উল্লাহ চৌধুরী দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের ডেপুটি ফোর্স কমান্ডার নির্বাচিত হয়েছেন।
আইএসপিআর আজ শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করে।

সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল মো. মাঈন উল্লাহ চৌধুরী দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের ডেপুটি ফোর্স কমান্ডার নির্বাচিত হয়েছেন।
এর আগেও বাংলাদেশের সেনা কর্মকর্তারা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ফোর্স কমান্ডার ও ডেপুটি ফোর্স কমান্ডার হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালনের গৌরব অর্জন করেছেন।

জানা যায়, সামরিক ও পুলিশ শান্তিরক্ষী পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এর আগেও অনেক বছর শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসের শেষ দিন পর্যন্ত ২৮ মাসের মধ্যে ২০ মাসই বাংলাদেশ শীর্ষে ছিল। এর আগে ও পরে সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী প্রথম সারির দেশগুলোর তালিকায় নিজের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়।

জাতিসংঘের ‘ডিপার্টমেন্ট অব পিসকিপিং অপারেশন্স’-এর ওয়েবসাইটে শান্তিরক্ষা মিশনে কোন দেশ কত সামরিক ও পুলিশ সদস্য পাঠিয়েছে, তার বছর ও মাসভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে। এতে সর্বশেষ গত ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তথ্য রয়েছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সব চেয়ে বেশি সামরিক ও পুলিশ সদস্য প্রেরণকারী দেশগুলোর মধ্যে প্রথম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ছয় হাজার ৪৭৭ জন পুরুষ ও ২৫৫ জন নারী মিলিয়ে মোট ছয় হাজার ৭৩১ জন শান্তিরক্ষী জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করছেন।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইথিওপিয়া। এ দেশটির শান্তিরক্ষীদের সংখ্যা ৬ হাজার ৬৬২ জন। এ ছাড়া ছয় হাজার ৩২২ জন শান্তিরক্ষী নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রুয়ান্ডা, পাঁচ হাজার ৬৮২ জন শান্তিরক্ষী নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে নেপাল।

পাঁচ হাজার ৩৫৩ জন শান্তিরক্ষী নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে ভারত, চার হাজার ৪৪০ জন শান্তিরক্ষী নিয়ে ৬ষ্ঠ অবস্থানে পাকিস্তান এবং তিন হাজার ৯৩ জন শান্তিরক্ষী নিয়ে সপ্তম অবস্থানে রয়েছে মিশর।

প্রসঙ্গত, ১৯৮৯ সালের ইরাক-ইরানে সামরিক পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া শুরু হয়। বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী এ মিশনে দায়িত্ব পালন করে আসছেন ১৯৯৩ সাল থেকে। বাংলাদেশের পুলিশ সদস্যরা এ মিশনে অংশগ্রহণ করে আসছেন ১৯৮৯ সাল থেকে।

আইএসপিআরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুসারে, গত মে মাস পর্যন্ত বিশ্বের ৪০টি দেশে ৫৪টি মিশনে এক লাখ ৭০ হাজার ২৪৩ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশের নারী শন্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করেছেন এক হাজার ৮০৩ জন। বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন ২৫৫ জন। বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন বিশ্বের ১১টি দেশে। ঝুঁকিপুর্ণ এ দায়িত্ব পালনের সময় জীবন দিতে হয়েছে ১৫১ জনকে।

আরো পড়ুন-দুবাই কুরআন প্রতিযোগিতার জন্য বাংলাদেশের হাফেজা আয়েশা সিদ্দিকা নির্বাচিত

আওয়ার ইসলাম: দুবাই আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগীতার বাছাই পরীক্ষায় হাফেজা আয়েশা সিদ্দিকা নির্বাচিত হয়েছেন।

গত ২ সেপ্টেম্বর ২০২০ ইং তারিখে বাংলাদেশ ধর্মমন্ত্রণালয়ের অধীনে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাইতুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত ৫ম আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগীতার বাছাই পরীক্ষায় ১ম স্থান অধিকার করে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন এ ক্ষুদে হাফেজা।

জানা গেছে, যাত্রাবাড়ী সাইনবোর্ডে অবস্থিত মারকাজুত তাহফিজ ইন্টাঃ মাদরাসার মহিলা শাখার ছাত্রী হাফেজা আয়েশা সিদ্দিকা। মাদরাসার পরিচালক হাফেজ নেছার আহমাদ আন নাছিরী।

বিজয়ী প্রতিযোগী আয়েশা যেনো দুবাই গিয়ে সকল দেশকে পিছনে ফেলে বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারেন সেজন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, এর আগেও অত্র মাদরাসার মহিলা বিভাগ থেকে হাফেজা ফারিহা তাসনিম জর্ডানে ৬০ টি দেশকে হারিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছিল।

তাছাড়া এ মাদরাসার বালক শাখা থেকে মক্কা মদিনাসহ আরও ১০৩ টি দেশকে হারিয়ে বাংলাদেশের জন্য ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিজয় নিয়ে এসেছিল হাফেজ তরিকুল ইসলাম।

আর মক্কা শরিফে অনুষ্ঠিত বিশ্ব হিফজুল কুরআন প্রতিযোগীতায় আরবদের হারিয়ে মসজিদে হারামে বিশ্বকে অবাক করে অন্ধ হাফেজ তানভির হোসেন ও সাদ সুরাইল বাংলাদেশের জন্য বিজয় নিয়ে এসেছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালেও হাফেজ সাইফুর রহমান ত্বকি জর্ডানে প্রথম হয়ে বাংলাদেশের মান উজ্জল করেছেন।

এ পর্যন্ত বিভিন্ন রাষ্ট্রে মারকাজুত তাহফিজ ইন্টাঃ মাদরাসার প্রায় অর্ধশত ছাত্র-ছাত্রী বিজয় অর্জন করেছে। মারকাজুত তাহফিজ ইন্টাঃ মাদরাসার ছাত্রদের এই বিজয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল,

মরহুম মাননীয় ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহ সংবর্ধনা দিয়েছেন। এছাড়াও পবিত্র কাবার ইমাম শায়খ আব্দুর রহমান সুদাইসি সহ বিশ্বের বরেণ্য ওলামাগণ তাদের সংবর্ধনা দিয়েছেন।