ইসরাইলি দখলদারিত্বে বিশ্বের নীরবতার সমালোচনা কাতারের

আন্তর্জাতিক

ফিলিস্তিনি ও আরব ভূখণ্ডের অব্যাহত দখল এবং ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আলে সানি।

জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেয়া ভাষণে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতার তীব্র সমালোচনা করেছেন। ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মতির ভিত্তিতে তৈরিকৃত প্রস্তাবনা এবং দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন তিনি।

শেখ তামিম বলেন, ইসরাইলের আগ্রাসন, ফিলিস্তিনি ও আরব ভূখণ্ডের অব্যাহত দখল, গাজা উপত্যকায় অবরোধ এবং বসতি সম্প্রসারণ নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। তিনি বলেন, কেবলমাত্র তখনই শান্তি অর্জন করা সম্ভব, যখন আরব পিস ইনিশিয়েটিভের ভিত্তিতে আরব দেশগুলোর গৃহীত প্রস্তাবনার প্রতি ইসরাইল পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হবে।

১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের পর নির্ধারিত সীমানা অনুযায়ী পূর্ব জেরুসালেমকে রাজধানী করে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের অবৈধ দখলদারিত্বের অবসানের শর্তে ইসরাইলের সাথে আরব দেশগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পরিকল্পনায় ২০০২ সালে আরব পিস ইনিশিয়েটিভ স্বাক্ষরিত হয়।

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলি দখলদারিত্ব ও গাজা উপত্যকার অবরুদ্ধ দশার অবসান এবং সঙ্কট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়; বিশেষ করে জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদকে নৈতিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন শেখ তামিম।

একই সাথে দখলদারি নীতি থেকে ইসরাইলকে বেরিয়ে এসে পারস্পরিক আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে শান্তি আলোচনা সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউজে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইন কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করতে ইসরাইলের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির পর শিগগিরই আরব বিশ্বের আরো কয়েকটি দেশ ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আলজাজিরা ও রয়টার্স

আরো পড়ুন: বিশ্বে ১ কোটি ২০ লাখ ইহুদি ঐক্যবদ্ধ আর ১৩০ কোটি মুসলমান বিভক্ত : ইমরান খান

বিশ্ব মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ জরুরি দাবি করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, ‘প্রভাবশালী, শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ থাকায় মাত্র এক কোটি ২০ লাখ ইহুদিদের বিরুদ্ধে পশ্চিমা বিশ্ব টু শব্দটি করছে না।

অথচ ১৩০ কোটি মুসলমানকে বিশ্বের সর্বত্র নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে।’ মঙ্গলবার আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক মালয়েশীয় থিংকট্যাংকদের একটি অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন। বিভক্তির কারণেই মুসলমানরা সর্বত্র নির্যাতিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করে ইমরান খান বলেন,

‘লড়াই করতে মুসলিম উম্মাহ ঐক্যবদ্ধ হোক, সেটা আমরা চাই না, কিন্তু অন্যান্য সম্প্রদায়ের মতো তারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করুক।’ পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘লিবিয়া, সোমালিয়া, সিরিয়া, ইরাক ও আফগানিস্তানসহ সর্বত্র মুসলমানদের বিপর্যয়ের কাহিনী।

এর কারণ হচ্ছে- আমাদের কোনও ঐক্য নেই। আমাদের মধ্যে বিভক্তির কোনও শেষ নেই।’ এমনকি অধিকৃত কাশ্মিরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) মুসলমান দেশগুলো বলেও জানান ইমরান খান।

দুইদিনের মালয়েশিয়া সফরের শেষ দিকে একটি কনফারেন্সে তিনি আরও বলেন,’ মুসলমানদের বিরুদ্ধে নিপীড়নের জবাব হচ্ছে মুসলিম দেশগুলোর ঐকবদ্ধ হওয়া। কাজেই মিয়ানমার ও কাশ্মিরে যা ঘটছে, যেখানে কেবল ধর্মের কারণে মুসলমানদের নির্যাতিত হতে হচ্ছে, এমন বিষয়গুলোতে তাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে সাম্প্রতিক সাংঘর্ষিক অবস্থা কেটে গেছে জানানা ইমরান খান।

আরো পড়ুন- চুমু খেয়ে কুরআন অবমাননার প্রতিবাদ জানালেন সুইডেনের অমুসলিম নারী

চুমু খেয়ে কুরআনুল কারীম অবমাননার প্রতিবাদে জানালেন অমুসলিম এক সুইডিশ নারী। চুমু খাওয়ার দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায় সুইডেনের মালমো শহরে সংঘটিত কুরআনুল কারীম পোড়ানোর প্রতিবাদে ওই অমুসলিম নারী কুরআনে চুমু খান। আর বলেন, ‘সুইডিশ নারী মালমো শহরের মুসলিমদের সঙ্গে একত্বতা ঘোষণা করেছে।’

ফেসবুক পেজে বলা হয়, ওই নারী বলছে, আমি জানি না বইটি কি সম্পর্কে। কিন্তু মানবতা ও অনুকম্পার জন্য আমি তোমাদের সঙ্গে একাত্বতা ঘোষণা করছি। বইটি যেহেতু তোমাদের কাছে গুরুত্ব, তাই আমার কাছেও তা গুরুত্বপূর্ণ। বইটি চুমু দিয়ে আমি গর্বিত।

সুইডিশ নারী আরো বলেন, ডেনিশ ব্যক্তি সুইডেনে যা করেছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট নই। সুইডেনের পত্রিকা নারীটির ছবি প্রকাশ করলে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবার দৃষ্টি কাড়ে।

আরো পড়ুন-দুবাই কুরআন প্রতিযোগিতার জন্য বাংলাদেশের হাফেজা আয়েশা সিদ্দিকা নির্বাচিত

আওয়ার ইসলাম: দুবাই আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগীতার বাছাই পরীক্ষায় হাফেজা আয়েশা সিদ্দিকা নির্বাচিত হয়েছেন।

গত ২ সেপ্টেম্বর ২০২০ ইং তারিখে বাংলাদেশ ধর্মমন্ত্রণালয়ের অধীনে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাইতুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত ৫ম আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগীতার বাছাই পরীক্ষায় ১ম স্থান অধিকার করে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন এ ক্ষুদে হাফেজা।

জানা গেছে, যাত্রাবাড়ী সাইনবোর্ডে অবস্থিত মারকাজুত তাহফিজ ইন্টাঃ মাদরাসার মহিলা শাখার ছাত্রী হাফেজা আয়েশা সিদ্দিকা। মাদরাসার পরিচালক হাফেজ নেছার আহমাদ আন নাছিরী।

বিজয়ী প্রতিযোগী আয়েশা যেনো দুবাই গিয়ে সকল দেশকে পিছনে ফেলে বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারেন সেজন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, এর আগেও অত্র মাদরাসার মহিলা বিভাগ থেকে হাফেজা ফারিহা তাসনিম জর্ডানে ৬০ টি দেশকে হারিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছিল।

তাছাড়া এ মাদরাসার বালক শাখা থেকে মক্কা মদিনাসহ আরও ১০৩ টি দেশকে হারিয়ে বাংলাদেশের জন্য ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিজয় নিয়ে এসেছিল হাফেজ তরিকুল ইসলাম।

আর মক্কা শরিফে অনুষ্ঠিত বিশ্ব হিফজুল কুরআন প্রতিযোগীতায় আরবদের হারিয়ে মসজিদে হারামে বিশ্বকে অবাক করে অন্ধ হাফেজ তানভির হোসেন ও সাদ সুরাইল বাংলাদেশের জন্য বিজয় নিয়ে এসেছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালেও হাফেজ সাইফুর রহমান ত্বকি জর্ডানে প্রথম হয়ে বাংলাদেশের মান উজ্জল করেছেন।

এ পর্যন্ত বিভিন্ন রাষ্ট্রে মারকাজুত তাহফিজ ইন্টাঃ মাদরাসার প্রায় অর্ধশত ছাত্র-ছাত্রী বিজয় অর্জন করেছে। মারকাজুত তাহফিজ ইন্টাঃ মাদরাসার ছাত্রদের এই বিজয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল,

মরহুম মাননীয় ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহ সংবর্ধনা দিয়েছেন। এছাড়াও পবিত্র কাবার ইমাম শায়খ আব্দুর রহমান সুদাইসি সহ বিশ্বের বরেণ্য ওলামাগণ তাদের সংবর্ধনা দিয়েছেন।