ওমরার নতুন ব্যবস্থাপনা ঘোষণা: ছোঁয়া যাবে না হাজরে আসওয়াদ

আন্তর্জাতিক

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে গত ছয় মাস স্থগিত থাকার পর মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ওমরার নতুন ব্যবস্থাপনা ঘোষণা করেছে সৌদি সরকার।

এতে বলা হয়েছে, কোভিড -১৯ পদক্ষেপের অংশ হিসেবে কাবা এবং হাজরে আসওয়াদের (পবিত্র কালো পাথর) চারপাশে স্থাপন করা ব্যারিকেডটি তার জায়গায় থাকবে এবং দর্শনার্থীরা সেটা স্পর্শ করতে পারবেন না।

মসজিদুল হারাম দিনে ১০ বার জীবাণুমুক্ত করা হবে। দর্শনার্থীদের মধ্যে যদের মধ্যে কোভিড-১৯ এর লক্ষন দেখা যাবে তাদেরকে রাখার জন্য ইতিমধ্যে পৃথক ঘর প্রস্তুত করা হয়েছ।

আগামী ৪ অক্টোবর সৌদি এবং বিদেশী বাসিন্দাদের জন্য মসজিদ আল হারাম বা গ্র্যান্ড মসজিদে তার ধারণ ক্ষমতার ৩০% বা ৬০০০ জন লোককে প্রতিদিন ওমরাহ পালন করার অনুমতি দেওয়া হবে।

এদিকে, ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত মদীনার মসজিদে নববীতে প্রতিদিন ১৫০০০ জনকে ওমরাহ ও নামা পড়ার অনুমতি দেওয়া হবে। আগামী ১ নভেম্বর স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় প্রকার লোকজনের জন্য মসজিদুল হারাম এবং মসজিদে নববীকে কোভিড -১৯ প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক পুরোপুরিভাবে উন্মুক্ত করা হবে।

প্রসঙ্গত, সৌদি আরব গত সপ্তাহে ঘোষণা করেছিল যে আগামী মাসের শুরুতে ওমরাহ পালনের জন্য ধীরে ধীরে করোনভাইরাস সম্পর্কিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে।

সূত্র: মিডলইস্ট মনিটর

আরো পড়ুন-বিজ্ঞানের ইঙ্গিতবাহী আয়াত পড়ে ইসলাম গ্রহণ নওমুসলিমের কথা

মুক্তচিন্তায় অভ্যস্ত একটি পরিবারে আমার জন্ম। তাই শৈশব থেকে আমি বাস্তবতা ও বিজ্ঞানে বিশ্বাসী ছিলাম। কোরআনে আমি আমার সেই বিশ্বাসের প্রতিধ্বনি খুঁজে পেয়েছি।

কোরআনে বিজ্ঞানের অনুকূল বহু আয়াত রয়েছে। আমার ইসলাম গ্রহণের পেছনে কোরআন পাঠের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। আমি গোপনে কোরআন পাঠ করতাম। একদিন মা আমাকে রুমের ভেতর কোরআন পড়তে দেখে অপ্রস্তুত হয়ে যান। এরপর কয়েক মাস দুজনের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক ছিল না।

যখন তিনি বুঝতে পারলেন, আমাকে ইসলাম শেখা ও তার পরিপালন থেকে বিরত রাখতে পারবেন না, তখন এক রমজানে তিনি আমাকে ঘর থেকে বের হয়ে যেতে বললেন। অথচ আমি তখন রোজাদার।

২০১৪ সালে ২৬ বছর বয়সে আমি ইসলাম গ্রহণ করি। মুসলমানের ধর্মবিশ্বাস হলো, পৃথিবীর সব শিশু মুসলিম হিসেবেই জন্মগ্রহণ করে। সে হিসেবে আমি কেবল নিজ ধর্মে ফিরে এসেছি।

আমার পরিবর্তন ও ইসলাম গ্রহণ মায়ের পক্ষে মেনে নেওয়া কঠিন ছিল। কেননা তিনি মুসলিমদের ব্যাপারে মিডিয়ার প্রচার দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। প্রথমে ভাবলাম, ইসলাম সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান না থাকায় তিনি হয়তো পরিবর্তন মেনে নিতে পারছেন না।

তাই তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করলাম। কিন্তু আলোচনাগুলো ঝগড়া ও বিবাদে রূপ নিত। আমি বুঝে গেলাম বিষয়টি সমাধান হওয়ার নয়। তাই আমার ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে যাদের আপত্তি ছিল তাদের থেকে দূরে সরে গেলাম। চিন্তা করে দেখলাম, ইসলাম আমাকে একজন ভালো মানুষে পরিণত করেছে—এটা প্রমাণ করাই ইসলামের সৌন্দর্য তুলে ধরার সর্বোত্তম পথ।

আমি সে চেষ্টা করে গেলাম। কিছুদিন পর তারা বুঝতে পারে, আমি আরো বেশি শ্রদ্ধাশীল হয়েছি। সব প্রতিকূলতার মধ্যে আমি শান্ত ছিলাম। কেননা আমার ভেতরে প্রশান্তি ছিল। সত্যিই ইসলাম আমার জীবনে অনেক পরিবর্তন এনেছে।

ইসলাম একটি চমৎকার ধর্ম। ইসলামের সৌন্দর্য আমাকে শান্তি ও প্রশান্তি দিয়েছে। ইসলাম গ্রহণের কারণে পরিবারের সদস্যরা বিরূপ হলেও আমি এমন বহু মানুষ পেয়েছি, যারা সবাইকে উদার ও মুক্ত মনে গ্রহণ করতে পেরে আনন্দিত।

যখন আমি অন্যদের আমার ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে জানালাম, তাদের বেশির ভাগই ছিল বিস্মিত ও আহত। তারা ঘৃণামিশ্রিত নানা প্রশ্ন ছুড়ে দিত। যেমন—তারা বলত, তুমি কি জানো না যে তুমি আর কখনো শূকরের গোশত খেতে পারবে না?

তুমি কি জানো না যে তোমার স্বামী চারটি বউ রাখতে পারবে? তুমি কি জানো না যে ইসলাম একটি সন্ত্রাসী ধর্ম? আমি হাসিমুখে এসব প্রশ্ন এড়িয়ে যেতাম।

এ ক্ষেত্রে কোরআনের একটি আয়াত আমার অন্তরের গভীরে প্রতিধ্বনিত হতো—‘ধর্মে কোনো বাড়াবাড়ি নেই। বস্তুত সত্য পথ স্পষ্ট হয়ে গেছে অসত্য পথ থেকে।’ আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, প্রতিটি মানুষকে জীবনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও জ্ঞান দেওয়া হয়েছে—সেটা ধর্মের ক্ষেত্রে হোক বা অন্য কোনো ক্ষেত্রে।

আপনি যদি চান মানুষ আপনার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত না নিক, তবে আপনারও উচিত তাদের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে মন্তব্য না করা।

আরো পড়ুন-দুবাই কুরআন প্রতিযোগিতার জন্য বাংলাদেশের হাফেজা আয়েশা সিদ্দিকা নির্বাচিত

দুবাই আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগীতার বাছাই পরীক্ষায় হাফেজা আয়েশা সিদ্দিকা নির্বাচিত হয়েছেন।

গত ২ সেপ্টেম্বর ২০২০ ইং তারিখে বাংলাদেশ ধর্মমন্ত্রণালয়ের অধীনে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাইতুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত ৫ম আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগীতার বাছাই পরীক্ষায় ১ম স্থান অধিকার করে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন এ ক্ষুদে হাফেজা।

জানা গেছে, যাত্রাবাড়ী সাইনবোর্ডে অবস্থিত মারকাজুত তাহফিজ ইন্টাঃ মাদরাসার মহিলা শাখার ছাত্রী হাফেজা আয়েশা সিদ্দিকা। মাদরাসার পরিচালক হাফেজ নেছার আহমাদ আন নাছিরী।

বিজয়ী প্রতিযোগী আয়েশা যেনো দুবাই গিয়ে সকল দেশকে পিছনে ফেলে বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারেন সেজন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, এর আগেও অত্র মাদরাসার মহিলা বিভাগ থেকে হাফেজা ফারিহা তাসনিম জর্ডানে ৬০ টি দেশকে হারিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছিল।

তাছাড়া এ মাদরাসার বালক শাখা থেকে মক্কা মদিনাসহ আরও ১০৩ টি দেশকে হারিয়ে বাংলাদেশের জন্য ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিজয় নিয়ে এসেছিল হাফেজ তরিকুল ইসলাম।

আর মক্কা শরিফে অনুষ্ঠিত বিশ্ব হিফজুল কুরআন প্রতিযোগীতায় আরবদের হারিয়ে মসজিদে হারামে বিশ্বকে অবাক করে অন্ধ হাফেজ তানভির হোসেন ও সাদ সুরাইল বাংলাদেশের জন্য বিজয় নিয়ে এসেছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালেও হাফেজ সাইফুর রহমান ত্বকি জর্ডানে প্রথম হয়ে বাংলাদেশের মান উজ্জল করেছেন।

এ পর্যন্ত বিভিন্ন রাষ্ট্রে মারকাজুত তাহফিজ ইন্টাঃ মাদরাসার প্রায় অর্ধশত ছাত্র-ছাত্রী বিজয় অর্জন করেছে। মারকাজুত তাহফিজ ইন্টাঃ মাদরাসার ছাত্রদের এই বিজয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল,

মরহুম মাননীয় ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহ সংবর্ধনা দিয়েছেন। এছাড়াও পবিত্র কাবার ইমাম শায়খ আব্দুর রহমান সুদাইসি সহ বিশ্বের বরেণ্য ওলামাগণ তাদের সংবর্ধনা দিয়েছেন।