ডোনাল্ড ট্রাম্প করোনায় আক্রান্ত

আন্তর্জাতিক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তার এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী হোপ হিকস করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই তারা কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি।

১৭ মিনিট আগে করা টুইটারে এক টুইটে ট্রাম্প জানান, মিলানিয়া এবং আমি করোনা পজিটভ। আমরা কোয়ারেন্টাইনে আছি সেই সঙ্গে সেরে ওঠার জন্যে সব ধরনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আমরা এক সঙ্গে সুস্থতার দিকে যাবো আশা করি।

এর ২ ঘণ্টা আগে আরেকটি টুইটে ট্রাম্প লিখেছিলেন, কোনও বিরতি ছাড়াই টানা কাজ করে যাওয়া হোপ হিকস করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রয়েছেন। দুঃখজনক। ফার্স্ট লেডি ও আমি নিজেদের পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষায় আছি। এর মধ্যে আমরা নিজেদের কোয়ারেন্টাইন প্রক্রিয়া শুরু করব।

৩১ বছরের হোপ এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠজন, যিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এই সপ্তাহেই ওহাইয়োতে টেলিভিশন বিতর্কে অংশ নিতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ভ্রমণ করা ট্রাম্পের সফর সঙ্গী ছিলেন তিনি।

বুধবার ক্লিভল্যান্ডে ট্রাম্পকে বহনকারী বিমান থেকে মাস্কবিহীন অবস্থায় তাকে নামতে দেখা গেছে।
বুধবার মিনেসোটায় এক সমাবেশে অংশ নিতে প্রেসিডেন্সিয়াল হেলিকপ্টার মেরিন ওয়ানেও ট্রাম্পের সফর সঙ্গী ছিলেন হোপ।

আরো পড়ুন-‘ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে সংবিধান পাল্টাতে চান ট্রাম্প’

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি দুই মেয়াদের বেশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে থাকতে চান। তিনি তা কৌতুক করে বলেননি বলে দাবি করেছেন ট্রাম্পের সাবেক আইনজীবী মিশেল কোহেন।

বুধবার মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন-কে দেয়া সাক্ষাতকারে তিনি এ কথা বলেন।
‘ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বাস করেন তাকে শাসক হতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বৈরশাসক। তিনি সত্যিকার অর্থে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে সংবিধান সংশোধন করতে চান তিনি। বলেন কোহেন।

সিএনএন টুনাইটে কোহেন বলেন, ট্রাম্প বলেছিলেন ১২ বছরের বেশি হোয়াইট হাউসে থাকতে চাই। আসলে তিনি কথার কথা বলেননি। কারণ তার মধ্যে কোনো রসবোধ নেই।

আমি বলতে চাই, ট্রাম্প বলেছেন ১২ বছরের বেশি ক্ষমতায় থাকতে চান। যদি তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হন স্বাভাবিকভাবে প্রথম দিন থেকেই ভাবনা শুরু করবেন কীভাবে তৃতীয় মেয়াদের জন্য সংবিধান পরিবর্তন করা যায়।

তার পর চতুর্থ মেয়াদের জন্য পরিকল্পনা সাজাবেন। তিনি এ বিষয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বা উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের উদাহরণ অনুসরণ করেন। বলেন কোহেন।

কোহেন বলেন, করোনার কঠিন সময়ে তিনি যখন নভেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন সেখানেও তৃতীয় দফা নির্বাচনে অংশ নেয়ার পরিকল্পনা তুলে ধরছেন। যদিও আসন্ন নির্বাচনে তার জয়ী হওয়া নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

গেলো মাসে উইসকনসিনে এক সমাবেশে ট্রাম্প বলেছেন, আমরা আরো চার বছরের জন্য জয়ী হতে যাচ্ছি। তারপর আরো চার বছরের জন্য আমরা প্রচারণা চালাবো।

ট্রাম্পকে পুনরায় নির্বাচনের বিষয়ে সতর্ক করে বুধবার রাতে কোহেন বলেন, হোয়াইট হাউস একটি উপাসনালয়ের মতো। সেখানে প্রেসিডেন্টকে চ্যালেঞ্জ করার ক্ষমতা কারো নেই। ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের কেউ ট্রাম্পকে যেমন কোনো প্রশ্ন করতে পারেন না; হোয়াইট হাউসেও তাকে যারা প্রশ্ন করেন তাদের বিতাড়িত করেন তিনি।

হোয়াইট হাউসে কেউ যদি ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ঈশ্বর আপনাকে ভুল বলতে বা করতে নিষেধ করেছেন। আপনাকে নিশ্চিতভাবে বহিষ্কার করা হবে।

এ কারণে ট্রাম্প প্রশাসনে অনেক মানুষ গিয়েছে এবং ফেরতও এসেছে। হোয়াইট হাউসে বা বাইরে কর্মকর্তারা কে কি করেন; সবকিছুর নথি রাখেন তিনি। নথি রাখতে তিনি পছন্দ করেন।
রিপাবলিকান দলের আনুগত্য ট্রাম্প কীভাবে অর্জন করলেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে কোহেন বলেন, কারণ তিনি ধর্মীয় নেতা।

‘তাকে কিছু মানুষ অনুসরণ করে। কিন্তু কেনো? আমি জানি না। আমার স্ত্রী, মেয়ে এবং ছেলে সবসময় আমাকে বলতো, তুমি এসব বন্ধ করো। আমরা চাই না তুমি তার জন্য কাজ করো। তুকি চাকরি ছেড়ে দাও। তার অর্থ আপনি নৈতিকভাবে ভুল কাজ করছেন। আপনি আপনার নৈতিকতা হারিয়েছেন। বলেন কোহেন।

সিএনএন-কে সাক্ষাতকার দেয়ার আগেরদিন কোহেনের একটি বই বাজারে আসে। আত্মজীবনীতে তিনি ট্রাম্পকে, ধান্দাবাজ, মিথ্যুক, প্রতারক, বর্ণবাদী, ধূর্ত বলে অভিহিত করেন।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মিশেল কোহেন।

২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রচারণা শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০১৮ সালে কর ফাঁকি, কংগ্রেসে মিথ্যা সাক্ষ্য এবং প্রচারণার তহবিল তছরুপের অভিযোগ দোষী সাব্যস্ত হন।

প্রচারণা তহবিল থেকে ট্রাম্পের সঙ্গে পূর্বে সম্পর্ক থাকা দুই নারীর মুখ বন্ধ রাখতে তাদের অর্থ দেন কোহেন। যদিও তাদের সঙ্গে সম্পর্ক অস্বীকার করেছেন ট্র্রাম্প। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর কোহেন অর্থ প্রদানের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে যুক্ত করেন। বলেন, ট্রাম্পের নির্দেশে তিনি ওই অর্থ দিয়েছিলেন।

বইয়ের শেষে আমার একটি আহ্বান রয়েছে সবার জন্য। যারা বইটি পড়বে তাদের জন্য সতর্কতাও। আপনার দৃষ্টি প্রসারিত করুন। চোখ পরিষ্কার করে দেখুন। যে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে ছাড়া আমাদের কাউকে নিয়ে তার কোনো ভাবনা নেই।

আপনার পরিবারের সদস্যরা মারা যাক। তিনি বেঁচে থাকলেই হলো। বর্তমানে নির্বাচন, নিজের ভালো ছাড়া ট্রাম্প কিচ্ছু ভাবছেন না। আরো চার বছর ক্ষমতায় থাকতে আপনার জীবন অনায়েসে বিলিয়ে দিতে পারেন তিনি। বলেন কোহেন।

আরো পড়ুন-বিজ্ঞানের ইঙ্গিতবাহী আয়াত পড়ে ইসলাম গ্রহণ নওমুসলিমের কথা

মুক্তচিন্তায় অভ্যস্ত একটি পরিবারে আমার জন্ম। তাই শৈশব থেকে আমি বাস্তবতা ও বিজ্ঞানে বিশ্বাসী ছিলাম। কোরআনে আমি আমার সেই বিশ্বাসের প্রতিধ্বনি খুঁজে পেয়েছি।

কোরআনে বিজ্ঞানের অনুকূল বহু আয়াত রয়েছে। আমার ইসলাম গ্রহণের পেছনে কোরআন পাঠের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। আমি গোপনে কোরআন পাঠ করতাম। একদিন মা আমাকে রুমের ভেতর কোরআন পড়তে দেখে অপ্রস্তুত হয়ে যান। এরপর কয়েক মাস দুজনের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক ছিল না।

যখন তিনি বুঝতে পারলেন, আমাকে ইসলাম শেখা ও তার পরিপালন থেকে বিরত রাখতে পারবেন না, তখন এক রমজানে তিনি আমাকে ঘর থেকে বের হয়ে যেতে বললেন। অথচ আমি তখন রোজাদার।

২০১৪ সালে ২৬ বছর বয়সে আমি ইসলাম গ্রহণ করি। মুসলমানের ধর্মবিশ্বাস হলো, পৃথিবীর সব শিশু মুসলিম হিসেবেই জন্মগ্রহণ করে। সে হিসেবে আমি কেবল নিজ ধর্মে ফিরে এসেছি।

আমার পরিবর্তন ও ইসলাম গ্রহণ মায়ের পক্ষে মেনে নেওয়া কঠিন ছিল। কেননা তিনি মুসলিমদের ব্যাপারে মিডিয়ার প্রচার দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। প্রথমে ভাবলাম, ইসলাম সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান না থাকায় তিনি হয়তো পরিবর্তন মেনে নিতে পারছেন না।

তাই তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করলাম। কিন্তু আলোচনাগুলো ঝগড়া ও বিবাদে রূপ নিত। আমি বুঝে গেলাম বিষয়টি সমাধান হওয়ার নয়। তাই আমার ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে যাদের আপত্তি ছিল তাদের থেকে দূরে সরে গেলাম। চিন্তা করে দেখলাম, ইসলাম আমাকে একজন ভালো মানুষে পরিণত করেছে—এটা প্রমাণ করাই ইসলামের সৌন্দর্য তুলে ধরার সর্বোত্তম পথ।

আমি সে চেষ্টা করে গেলাম। কিছুদিন পর তারা বুঝতে পারে, আমি আরো বেশি শ্রদ্ধাশীল হয়েছি। সব প্রতিকূলতার মধ্যে আমি শান্ত ছিলাম। কেননা আমার ভেতরে প্রশান্তি ছিল। সত্যিই ইসলাম আমার জীবনে অনেক পরিবর্তন এনেছে।

ইসলাম একটি চমৎকার ধর্ম। ইসলামের সৌন্দর্য আমাকে শান্তি ও প্রশান্তি দিয়েছে। ইসলাম গ্রহণের কারণে পরিবারের সদস্যরা বিরূপ হলেও আমি এমন বহু মানুষ পেয়েছি, যারা সবাইকে উদার ও মুক্ত মনে গ্রহণ করতে পেরে আনন্দিত।

যখন আমি অন্যদের আমার ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে জানালাম, তাদের বেশির ভাগই ছিল বিস্মিত ও আহত। তারা ঘৃণামিশ্রিত নানা প্রশ্ন ছুড়ে দিত। যেমন—তারা বলত, তুমি কি জানো না যে তুমি আর কখনো শূকরের গোশত খেতে পারবে না?

তুমি কি জানো না যে তোমার স্বামী চারটি বউ রাখতে পারবে? তুমি কি জানো না যে ইসলাম একটি সন্ত্রাসী ধর্ম? আমি হাসিমুখে এসব প্রশ্ন এড়িয়ে যেতাম।

এ ক্ষেত্রে কোরআনের একটি আয়াত আমার অন্তরের গভীরে প্রতিধ্বনিত হতো—‘ধর্মে কোনো বাড়াবাড়ি নেই। বস্তুত সত্য পথ স্পষ্ট হয়ে গেছে অসত্য পথ থেকে।’ আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, প্রতিটি মানুষকে জীবনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও জ্ঞান দেওয়া হয়েছে—সেটা ধর্মের ক্ষেত্রে হোক বা অন্য কোনো ক্ষেত্রে।

আপনি যদি চান মানুষ আপনার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত না নিক, তবে আপনারও উচিত তাদের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে মন্তব্য না করা।