আরব বিশ্বের সাথে প্রতারণা করেছে ইসরাইল: তুরস্ক

আন্তর্জাতিক

ইসরাইল আরব বিশ্বের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিকীরণের নামে নিছক প্রতারণা করেছে বলে জানিয়েছে তুরস্ক। এ ছাড়া ফিলিস্তিনিদের দখলকৃত পশ্চিম তীরে নতুন করে অবৈধ ইসরাইলি বসতির অনুমোদন দেয়ায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তুরস্ক। গতকাল রোববার তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ নিন্দা জানানো হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু পশ্চিম তীরে অতিরিক্ত বসতি নির্মাণে অনুমোদন দিয়েছেন, এতে নতুন করে প্রমাণিত হয় এই দেশটির দখলদারিত্বের আদর্শ; যা আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসঙ্ঘের রেজ্যুলেশনের প্রতি অসম্মান।

‘এতে প্রমাণিত হয় ইসরাইল তার সংযুক্তকরণ নীতি পরিত্যাগ করেনি। সম্প্রতি দাবি করা হয়েছিল, ইসরাইলের সাথে কয়েকটি দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের চুক্তি বাস্তবায়নের ফলে সংযুক্তকরণ নীতি স্থগিত থাকবে, তবে এটি পরিষ্কারভাবে দেখা যাচ্ছে নিছক প্রতারণা।’

ইসরাইলের এমন অবৈধ পদক্ষেপ তুরস্ক সমর্থন করে না। ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার ও তাদের স্বাধীনতার ওপর ইসরাইলের আক্রমণ থেকে পরিত্রাণের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানায় তুরস্ক।

ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তুরস্ক ফিলিস্তিনি জনগণের পাশে সবসময়ের জন্য রয়েছে এবং তাদের সমর্থন করছে। সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি আরব দেশের সাথে ইসরাইলের সম্পর্ক স্বাভাবিকীরণের চুক্তি হয়। এতে মধ্যাস্থতা করে ট্রাম্প প্রশাসন। সেই সময়ে হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ফিলিস্তিনের বিষয়ে ইসরাইল তার সংযুক্তকরণ নীতি স্থগিত করেছে।

সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইন ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের চুক্তি করেছে। যদিও সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ ইসরাইলের সাথে স্বাভাবিক সম্পর্ক গড়ার আগে পূর্ব জেরুসালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা চান।

ইসরাইল-ফিলিস্তিন সঙ্ঘাত সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে চলমান হলেও এর সমাধানে আজ পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি বললেই চলে বরং দিনে দিনে বেড়েছে ইসরাইল কর্তৃক দখলকৃত ভূমির পরিমাণ, বেড়েছে ফিলিস্তিনিদের ওপর অত্যাচার-নিপীড়ন, হয়েছেন বাস্তুহারা।

এই সঙ্ঘাত সমাধানে বিভিন্ন সময়ে জাতিসঙ্ঘ, আরব রাষ্ট্রগুলো কিংবা যুক্তরাষ্ট্র সমাধানের চেষ্টা করলেও সেগুলো আলোর মুখ দেখেনি। সেই প্রচেষ্টার সর্বশেষ সংযোজন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রণীত তথাকথিত ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি।

তবে আজ পর্যন্ত এই সঙ্ঘাতের সমাধান কল্পে যতগুলো প্রস্তাবনা এসেছে তন্মধ্যে সবচাইতে গ্রহণযোগ্য এবং বাস্তবসম্মত ছিল আরব পিস ইনিশিয়েটিভ তথা আরব শান্তি উদ্যোগ। ১৯৮১ সালে সৌদি আরবের তৎকালীন ক্রাউন প্রিন্স ফাহাদ ইসরাইল-ফিলিস্তিন সঙ্ঘাত নিরসনে একটি প্রস্তাবনা প্রকাশ করেছিলেন।

যেখানে বলা হয়েছিল, ইসরাইল ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে দখলকৃত আরব ভূমি থেকে পুরোপুরি চলে যাবে, বিনিময়ে আরব রাষ্ট্রগুলো ইসরাইলকে ‘রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি’ দেবে। এটি ছিল আরব শিবির থেকে উত্থাপিত প্রথম কোনো পস্তাবনা। কিন্তু রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরাক-ইরান যুদ্ধের (১৯৮০-৮৮) ডামাডোলে সেই প্রস্তাবনা হারিয়ে যায়। ইয়েনি শাফাক

আরো পড়ুন: করোনা মহামারীর কারণে এ বছর স্টকহোমে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা অনুষ্ঠান বাতিল !

আর মাত্র ক’দিন বাকি। ৫ অক্টোবর থেকে ১২ অক্টোবরের মধ্যে ছয়টি কার্যদিবসে ছয়জন নোবেল পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে। এর মধ্যে নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণা করা হবে ৯ অক্টোবর।

নোবেল পুরস্কারের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তবে করোনা মহামারীর কারণে এ বছর স্টকহোমে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। বিজয়ীরা তাদের নিজ নিজ দেশ থেকে অনলাইনে অংশগ্রহণ করবেন।

নোবেল পুরস্কার ঘোষণার সময় ঘনিয়ে এলে বিশ্ব মিডিয়ায় বিভিন্ন মনগড়া সংবাদ দেখা যায়। যেমন, নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য বিশ্বের বড় বড় দেশের পছন্দের ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছেন অমুক-তমুক। ৯ সেপ্টেম্বর এ ধরনের একটি সংবাদ বিশ্ব মিডিয়ায় বেশ আলোচিত হয়েছে।

সংবাদের শিরোনাম ছিল: ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২১ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত’। শিরোনামটি পড়লে যে কোনো পাঠকই ভাববেন নোবেল কমিটিই বোধহয় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছে। অর্থাৎ তিনি মনোনীত হয়ে গেছেন, এখন শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা।

সংবাদটি দেখে বুঝে উঠতে পারছিলাম না আসলেই তিনি নোবেল পেতে যাচ্ছেন কি না। পরে কয়েকটি অনলাইন সংবাদমাধ্যম ঘেঁটে যা বুঝতে পারলাম তা হল- নরওয়ের একজন ডানপন্থী রাজনীতিক নোবেল কমিটি বরাবর মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষে ইমেইলে মনোনয়ন প্রেরণ করেছেন।

ওই মনোনয়নের আলোকেই মিডিয়ায় ওই সংবাদ ছাপা হয়েছে। এ সংবাদের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য কৌতূহলবশত নোবেল কমিটির কাছে একটি মিডিয়া ইনকোয়ারি পাঠাই। ইমেইল পাঠানোর সময় কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলাম, নোবেল কমিটি কি আদৌ ইমেইলের উত্তর দেয়ার প্রয়োজন মনে করবে?

কিন্তু আমার ধারণা অমূলক করে দিয়ে নোবেল কমিটি মাত্র ৬ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর পাঠাল। নোবেল কমিটির তথ্য-সেক্রেটারি ক্রিস্টিন আসদাল লিখেছেন, নোবেল পুরস্কারের মনোনয়ন সংক্রান্ত কোনো তথ্য পরবর্তী ৫০ বছরের আগে প্রকাশ করা হয় না। ৫০ বছর পর কেউ আবেদন করলে শুধু গবেষণা কাজের জন্য তথ্য দেয়া হতে পারে।

কোনো ব্যক্তিবিশেষের পক্ষে কেউ কোনো মনোনয়ন পাঠিয়েছেন কিনা সেই তথ্য নোবেল পুরস্কারের আইন অনুযায়ী কাউকে জানানো হয় না। তারা আরও জানিয়েছেন, প্রতিবছর ৩১ জানুয়ারি রাত ১২টার আগে ওই বছরের নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পাঠাতে হয়। প্রতিবছরই ৩শ’র বেশি মনোনয়ন জমা পড়ে।

এর মধ্যে ধাপে ধাপে দীর্ঘ ৮ মাস বিভিন্ন স্ক্রুটিনি ও ভোটাভুটি শেষে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। সুতরাং মনোনয়ন জমা দেয়া মানেই নোবেল জয় করা নয়। ইমেইল থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার হল, নোবেল কমিটি যেখানে নোবেল পুরস্কারের মনোনয়ন সংক্রান্ত কোনো তথ্য পরবর্তী ৫০ বছর পর্যন্ত প্রকাশ করে না,

তাই ডোনাল্ড ট্রাম্প মনোনীত হওয়ার তথ্য নোবেল কমিটি থেকে প্রেরিত নয়। হয়তোবা যিনি মনোনয়নটি পাঠিয়েছেন, তিনিই মিডিয়াকে জানিয়েছেন! অথবা যেহেতু নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, তাই ট্রাম্প কাউকে দিয়ে তার পক্ষে মনোনয়নটি পাঠিয়ে কিছু পাবলিসিটি নেয়ার চেষ্টা করেছেন।

যে বিশেষ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নোবেল পুরষ্কার বিজয়ী নির্বাচিত করা হয়, তাতে সময় লাগে প্রায় ৮ মাস। কোনো ব্যক্তিবিশেষ নিজেই নিজের মনোনয়ন দাখিল করতে পারেন না। একটি সুনির্দিষ্ট ক্যাটাগরির ব্যক্তিবর্গ তাদের পছন্দের যে কোনো ব্যক্তির জন্য মনোনয়ন দাখিল করতে পারেন।

প্রতি বছরের ৩১ জানুয়ারি রাত ১২টার মধ্যে ওই বছরের নোবেল পুরষ্কারের জন্য মনোনয়ন জমা দিতে হয়। অর্থাৎ এ প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হওয়ার প্রধান শর্ত হচ্ছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়ন জমা দেয়া।

তারপর ফেব্রুয়ারি ও মার্চের মধ্যে মনোনীত ব্যক্তিদের প্রোফাইল পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাই শেষে একটি শর্ট লিস্ট বা প্রাথমিক তালিকা তৈরি করে নোবেল কমিটি। মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত এ তালিকাটি পর্যালোচনা করা হয়। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ওই বছরের বিজয়ীদের নির্বাচিত করে নাম ঘোষণা করা হয়। কমিটির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এ ব্যাপারে আপিলের কোনো সুযোগ থাকে না।

তাইসির মাহমুদ : সম্পাদক, সাপ্তাহিক দেশ, লন্ডন

আরো পড়ুন: করোনা ভ্যাকসিন আসার আগেই মারা যাবে ২০ লাখ মানুষ: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

এখনো বিশ্বে একটি কার্যকর করোনা ভ্যাকসিনের সহজলভ্য ব্যবহার শুরুই হয়নি। এদিকে বিশ্বে কার্যকর কোনো ভ্যাকসিনের ব্যবহার সহজলভ্য হওয়ার আগেই প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে ২০ লাখ মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও।

সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এক বিবৃতিতে এ বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছে। খবর বিবিসির। ডব্লিউএইচওর জরুরি বিভাগের প্রধান মাইক রায়ান বলেছেন, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা জোরদার না হলে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনে প্রথম করোনার উপস্থিতি ধরা পড়ে। এখন পর্যন্ত বিশ্বের ২১৩টি দেশ ও অঞ্চলে এই ভাইরাসের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বজুড়ে এর মধ্যেই প্রায় ১০ লাখ মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে করোনাভাইরাস।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যাও পাল্লা দিয়ে বেড়েই চলেছে। ওয়ার্ল্ডোমিটারের পরিসংখ্যান বলছে, এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩ কোটি ২৭ লাখ ৬৫ হাজার ২০৪। এর মধ্যে মারা গেছে ৯ লাখ ৯৩ হাজার ৪৬৩ জন। অপরদিকে সুস্থ হয়ে উঠেছে ২ কোটি ৪১ লাখ ৭৮ হাজার ৩৪৬ জন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই ইতোমধ্যেই করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়ে গেছে। এ নিয়েও সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন পর্যন্ত করোনা সংক্রমণে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্র, ভারত এবং ব্রাজিলেই। এ তিন দেশেই সংক্রমণ প্রায় দেড় কোটির বেশি।

সম্প্রতি ইউরোপে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। ফলে অনেক দেশই নতুন করে আবারও লকডাউন আরোপের বিষয়ে চিন্তা করছে। বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারি শুরু পর বেশিরভাগ দেশেই লকডাউন জারি হলেও মাঝখানে বেশ কিছুদিন অনেক দেশেই কড়াকড়ি তুলে নেওয়া হয়েছিল।