রুদ্ধদ্বার বৈঠক করলেন এরদোগান ও লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী সাররাজ

আন্তর্জাতিক

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান এবং লিবিয়ার আন্তর্জাতিক স্বীকৃত প্রধানমন্ত্রী ফাইয়াজ আল সাররাজ তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন। বৈঠকে দু পক্ষেরই পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা, স্বরাষ্ট্র ও অর্থমন্ত্রীর ছাড়াও শীর্ষ পর্যায়ের অনেক কর্মকর্তা যোগ দেন।

রুদ্ধদ্বার বৈঠকের ব্যাপারে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয় নি তবে দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরো কিভাবে জোরদার করা যায় তা নিয়ে পরিকল্পনা করতেই এ বৈঠক হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত মাসেও ইস্তাম্বুল শহর এরদোগান এবং সাররাজের মধ্যে এ ধরনের রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়েছিল।

ফাইয়াজ আল-সাররাজ চলতি মাসেই লিবিয়া সরকারের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন।
তুরস্ক ও লিবিয়া এর আগে একটি সামরিক চুক্তি সই করেছে। এর পাশাপাশি ভূমধ্যসাগরের সীমানা নির্ধারণ নিয়েও একটি চুক্তি সই করে দু দেশ।

উল্লেখ্য, দেশের বিবদমান বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সমঝোতার মধ্যমে নতুন সরকার গঠনের জন্য পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন জাতিসংঘ স্বীকৃত লিবিয়া সরকারের প্রধানমন্ত্রী ফায়েজ আল-সাররাজ।

এর কয়েকদিন আগেই বিক্ষোভের জেরে পদত্যাগ করেছে জাতিসংঘ স্বীকৃত লিবিয়া সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা যুদ্ধবাজ খলিফা হাফতারের সমর্থিত পূর্ব লিবিয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী।

তবে এ বার লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী ফায়েজ আল-সাররাজ বিক্ষোভের জন্য পদত্যাগ করছেন না। তিনি বলেছেন যে, অক্টোবরের শেষে তিনি নতুন সরকারের হাতে ক্ষমতা তুলে দিতে চান। তিনি পদত্যাগ করছেন দেশের বিবদমান বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সমঝোতার মধ্যমে নতুন সরকার গঠনের পথ তৈরি করতে।

২০১১ সালে তেলসমৃদ্ধ দেশ লিবিয়ার দীর্ঘদিনের শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত করে ন্যাটো বাহিনী। তখন থেকেই দেশটি টালমাটাল হয়ে পড়েছে। কোথাও কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। এক এক এলাকা শাসন করছে এক এক সরকার। মুলত তখন থেকেই লিবিয়া দুটি অংশে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

একটি অংশের নাম হয়েছে পূর্বাঞ্চলীয় প্রশাসন। আরেকটি অংশ হয়েছে পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রশাসন। পূর্বাঞ্চলীয় সরকারকে সমর্থন করছে সশস্ত্র গ্রুপগুলো। এর নেতৃত্বে রয়েছে কমান্ডার যুদ্ধবাজ খলিফা হাফতার।

অন্যদিকে পশ্চিমাঞ্চলে ক্ষমতায় রয়েছেন জাতিসংঘ সমর্থিত সরকার। এই সরকারকে গভর্নমেন্ট অব ন্যাশনাল একর্ডের (জিএনএ) বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে দেশটিতে আন্তর্জাতিক সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে আসছে যুদ্ধবাজ খলিফা হাফতার।

এই যুদ্ধবাজ বিদ্রোহীকে মদদ দিয়ে যাচ্ছে মিশর, রাশিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ইউরোপের বেশ কিছু দেশ। তাদের সামরিক সহযোগিতায় লিবিয়ার পূর্বাঞ্চল দখল করে নেয় হাফতার। সম্প্রতি তুরস্ক জিএনএ সরকারের সমর্থনে লিবিয়ায় সেনা পাঠালে পুনরায় বেশ কিছু শহর নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হন আন্তর্জাতিক স্বীকৃত ত্রিপোলি সরকার।

হাফতার গত বছরের এপ্রিল থেকে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি দখল করার চেষ্টা করছে। তবে যুদ্ধবাজ হাফতারের মিলিশিয়া বাহিনী সম্প্রতি অনেকটা প্রতিহত হয়েছে, কারণ লিবিয়ান সরকারের সেনাবাহিনী রাজধানী তারহুনা, বনি ওয়ালিদ, ওয়াটিয়া এয়ার বেস এবং পশ্চিম পর্বত জেলার শহরগুলি ইতিমধ্যে তাদের নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয়েছে।

এর আগে মিশরের স্বৈরশাসক আব্দেল ফাত্তাহ আল-সিসি রাজধানী কায়রোতে বৈঠক করে লিবিয়ার বেনগাজির উপজাতির নেতাদের জাতিসংঘ সমর্থিত সরকারের বিরুদ্ধে উসকে দেয়। এছাড়া তাদের অস্ত্র দিয়ে সিসি যুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।

এদিকে দেশটির আন্তর্জাতিক স্বীকৃত জিএনএ সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে তুরস্ক ও কাতার। এ বিষয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান এক বক্তব্যে বলেছিলেন, ৫০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে লিবিয়ার সাথে আমাদের ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক। আমরা আমাদের লিবিয়ান ভাইদের একা ছেড়ে যাব না। লিবিয়ার ব্যাপারে তুরস্ক যে দায়িত্ব আজ অবধি পালন করে আসছে, ভবিষ্যতেও তা নিষ্ঠার সাথে পালন করে যাবে।

সূত্র: মিডলইস্ট মনিট

আরো পড়ুন: বর্তমান সময়ে বিশ্ব মুসলিমের ঐক্যের বিকল্প নেই: তুর্কি ধর্মমন্ত্রী

বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সংহতি ও ঐক্যের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে তুরস্ক। এ জন্য মুসলিম দেশগুলোর সবাইকে একত্রে এক প্লাটফর্মে বসারও আহ্বান জানিয়েছে দেশটি। গত ৯ সেপ্টেম্বর তুর্কি ধর্মমন্ত্রী আলী এরবাশ একটি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তার এ ইচ্ছার কথা জানান।

কনফারেন্সে পাকিস্তানের ধর্মমন্ত্রী পীর নুরুল হক কাদেরিও অংশ নেন। আলী এরবাশ বলেন, আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে সম্প্রতি ইউরোপের পাশাপাশি ভারত ও মিয়ানমারেও ইসলামোফোবিয়া (ইসলামভীতি) বিস্তার বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি মনে করেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে আমাদের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে; মুসলিম হিসেবে আমাদের পারস্পরিক ঐক্য ও সংহতির বিকল্প নেই।

তার মতে, এ ক্ষেত্রে পুণ্যময় নগরী আলকুদস (জেরুসালেম) বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ করার অন্যতম প্ল্যাটফর্ম হতে পারে। ফিলিস্তিন ইস্যুতে তুরস্ক ও পাকিস্তানের অভিন্ন অবস্থানের কথা উল্লেখ করে আলী এরবাশ বলেন, উভয় দেশ কাশ্মিরে ভারতের চলমান আগ্রাসন সম্পর্কেও অবগত।

কাশ্মিরিদের ওপর ভারত সরকারের অত্যাচার বন্ধে বিশ্ববাসীকে সজাগ করতে দুই দেশই সচেষ্ট রয়েছে। তা ছাড়া তুরস্ক ও পাকিস্তান সব সময় মজলুমদের পাশে থাকবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তুর্কি ধর্মমন্ত্রী মনে করেন, পাকিস্তান তুরস্কের সত্যিকারের মিত্র।

গত ২৪ জুলাই ঐতিহাসিক আয়া সোফিয়া মসজিদ পুনরায় মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের জন্য খুলে দেয়ায় পাকিস্তানের অভিনন্দনবার্তা প্রেরণ পাক-তুর্কি দ্বিপক্ষীয় মিত্রতার সর্বশেষ উদাহরণ।

আরো পড়ুন: নতুন মানচিত্র ইস্যুতে ভারতকে এক হাত নিলেন পাকিস্তান !

নতুন মানচিত্র ইস্যুতে ভারতকে এক হাত নিলেন পাকিস্তানি মন্ত্রী অনলাইন ডেস্ক নতুন মানচিত্র ইস্যুতে ভারতকে এক হাত নিলেন পাকিস্তানি মন্ত্রী পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি আজ বুধবার বলেছেন, ভারত নিজের আগ্রাসী আচরণের কারণে আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে।

সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা বা এসসিও’র অনলাইন বৈঠকে পাকিস্তানের নতুন মানচিত্র ইস্যুতে ভারত অপদস্থ হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। খবর ডন ও পার্সটুডের। কোরেশি বলেন, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা ভারতের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

এটা নয়া দিল্লির জন্য অপমানজনক। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বৈঠকের আয়োজক দেশ রাশিয়া ভারতের দৃষ্টিভঙ্গিকে গ্রহণ করেনি। ভারত বৈঠকে এই বিষয়টি উত্থাপন করে সংস্থার নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে।

ভারত-চীন সীমান্ত উত্তেজনার প্রতি ইঙ্গিত করে কোরেশি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে লাদাখ সীমান্ত ইস্যু সমাধানের জন্য চীন বারবার আহ্বান জানালেও ভারত আগ্রাসী আচরণ করেছে। এ কারণে পরবর্তীতে অপমানিত হয়েছে। চীন ভারতের আগ্রাসনের জবাব দিয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

গতকাল মঙ্গলবার রাশিয়ার আহ্বানে ‘সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনে’র বৈঠকে পাকিস্তান নতুন মানচিত্র প্রদর্শন করার পর এর প্রতিবাদে ভারতের প্রতিনিধি অজিত দোভাল ওয়াক আউট করেন।

কিন্তু ভারতের প্রতিবাদের পরও পাকিস্তানের প্রতিনিধিকে ব্যাকগ্রাউন্ডে ঐ মানচিত্র রেখেই বক্তৃতা চালিয়ে যেতে দেওয়া হয়। বিশেষ মর্যাদা বাতিলের বর্ষপূর্তিতে কাশ্মীরকে অন্তর্ভুক্ত করে নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। নতুন মানচিত্রে গুজরাটের জুনাগড়কেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওই বৈঠকের মানচিত্র প্রদর্শনের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, পাকিস্তানের প্রতিনিধি ময়িদ ইউসুফ ইচ্ছাকৃতভাবে একটি কল্পিত মানচিত্র দেখিয়েছেন যা নিয়ে ইসলামাবাদ প্রচার চালাচ্ছে।

সুত্র: বিডি-প্রতিদিন

আরো পড়ুন: আমিরাত-ইসরাইল এমন সম্পর্ক শরিয়তের দৃষ্টিতে হারামঃ বিশ্ব মুসলিম ওলামা সংঘ

ইসরাইলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরুর প্রতিক্রিয়ায় মুসলিম বিশ্বে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে বিশ্ব মুসলিম ওলামাদের সর্ববৃহত সংগঠন “বিশ্ব মুসলিম ওলামা সংঘ”।

এছাড়া সমগ্র ইসলামী উম্মাহকে এই চুক্তি প্রত্যাখানের অনুরোধ জানিয়ে ‘বিশ্ব মুসলিম ওলামা সংঘ’ মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে সংস্থাটি অবৈধ রাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই সম্পর্ককে শরিয়াতের দৃষ্টিতে হারাম ফতোয়া দিয়েছে।

মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় সংগঠনটির প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ ঘোষণা দেয়া হয়। বিশ্বের প্রভাবশালী ২০০ আলেম ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এতে অংশ নেন। ফতোয়ায় বলা হয়, ইসরাইলের সঙ্গে তথাকথিত এ শান্তিচুক্তি ও কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের বিষয়টি শরিয়তের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ

এবং অকার্যকর বলে সাব্যস্ত হবে। এছাড়া এটি বড় অপরাধ, সর্বশক্তিমান আল্লাহ ও তার রাসুলের সঙ্গে খিয়ানত এবং ফিলিস্তিন, ভূমি-জনগণ ও মুসলিম উম্মাহর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। প্রসঙ্গত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও সংযুক্ত আরব আমিরাত আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করবে।

সূত্র : আল জাজিরা

আরো পড়ুন: পেঁয়াজের দাম বাড়ালে কঠোর ব্যবস্থা: বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

পেঁয়াজ মজুদ করে বাড়তি দামে বিক্রি করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ছবিটি আজ সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার থেকে তোলা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম পেঁয়াজ মজুদ করে বাড়তি দামে বিক্রি করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় বলেছে, দেশে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ মজুদ রয়েছে। আমদানি স্বাভাবিক রয়েছে। পেঁয়াজের সংকট বা মূল্যবৃদ্ধির কোনো সংগত কারণ নেই।

পেঁয়াজের অবৈধ মজুদ বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে মূল্যবৃদ্ধির চেষ্টা করা হলে সরকার আইন মোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের টাস্কফোর্স কমিটির বৈঠক থেকে পেঁয়াজ মজুদদার ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।