ইহুদিবাদী ইসরায়েলে ভ্যাকসিন নিয়েও ২৪০ জন করোনার আক্রান্ত

আন্তর্জাতিক

মার্কিন ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ফাইজার ও বায়োএনটেকের তৈরি ভ্যাকসিন গ্রহণের পরও ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরায়েলে প্রায় ২৪০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ভ্যাকসিন মানুষের দেহে কার্যকর অ্যান্টিবডি তৈরি শুরু করতে সময় নেওয়ায় এ জটিলতা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম চ্যানেল থার্টিন নিউজকে উদ্ধৃত করে টাইমস অব ইসরায়েল এ তথ্য জানিয়েছে।

ফাইজারের তৈরি এ ভ্যাকসিনের দুইটি ডোজ নিতে হয়। সংশ্লিষ্ট গবেষকদের দাবি, প্রথম ডোজ দেওয়ার আট থেকে দশদিন পর কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে ৫০ শতাংশ ইমিউনিটি তৈরি হয়। প্রথম ডোজের ২১ দিন পর দিতে হয় দ্বিতীয় ডোজ। আর এর মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় ৯৫ শতাংশ ইমিউনিটি অর্জিত হয়। অর্থাৎ ভ্যাকসিন গ্রহণের পরও আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ৫ শতাংশ।

মহামারি শুরু হওয়ার পর পরই ইসরায়েল টিকা পাওয়ার জন্য ফাইজার-বায়োএনটেকের সঙ্গে সমঝোতা সেরে ফেলে। এর পর দেশটি ধাপে ধাপে ফাইজারের টিকার চালান নিশ্চিত করে। এই টিকাটি মাইনাস ৭০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয়। ইসরায়েলে ১৯ ডিসেম্বর থেকে ফাইজার/বায়োএনটেকের তৈরি ভ্যাকসিন প্রয়োগের কাজ শুরু হয়েছে।

এরইমধ্যে ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রেসিডেন্ট রিউভেন রিভলিন। সেদেশে প্রতিদিন দেড় লাখ মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। ষাটোর্ধ ব্যক্তি ছাড়াও স্বাস্থ্য-কর্মী এবং যারা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে টিকা দেওয়ার ব্যাপারে তাদেরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম চ্যানেল থার্টিন নিউজের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ফাইজারের ভ্যাকসিন নেওয়ার পরও এ পর্যন্ত ২৪০ জন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। এ ধরনের সংক্রমণ ঠেকাতে প্রথম ডোজ নেওয়ার পর ওই মাসে কোভিড-১৯ বিরোধী নির্দেশনাগুলো মেনে চলার জন্য ইসরায়েলিদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।

ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভ্যাকসিন নেওয়ার পর হাজারে একজনের মধ্যে হালকা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা জ্বর আসা, ইনজেকশন দেওয়ার স্থানে ব্যথা, ফোলাভাব এবং লাল হয়ে যাওয়া।