ভারতে করোনার টিকা নেওয়ার পর ৫৮০ জনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

আন্তর্জাতিক

করোনার টিকা নেন এক স্বাস্থ্যকর্মী। ১৮ জানুয়ারি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী কলকাতায়
করোনার টিকা নেন এক স্বাস্থ্যকর্মী।
ভারতে তিন দিনে ৩ লাখ ৮০ হাজার মানুষকে করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫৮০ জনের শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাঁদের মধ্যে সাতজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে হয়েছে।

এ ছাড়া টিকা নেওয়ার পর দুজনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও দেশটির সরকার বলেছে, ওই দুজনের মৃত্যুর সঙ্গে করোনার টিকার কোনো যোগসূত্র নেই। ভারতে গত শনিবার থেকে করোনার টিকা দেওয়া শুরু হয়। সোমবার তৃতীয় দিনের মতো টিকা দেওয়া হয়েছে। দেশটিতে করোনার দুটি টিকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা।

এটি ভারতে উৎপাদন করছে দেশটির সেরাম ইনস্টিটিউট। অনুমোদনপ্রাপ্ত অপর টিকাটি হলো ভারত বায়োটেকের উদ্ভাবিত। এই টিকা ‘পরীক্ষা কর্মসূচির’ আওতায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ কারণে এই টিকা নিতে গ্রহীতাকে সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করতে হচ্ছে। এই সম্মতিপত্রে গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা কোনো ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেওয়া আছে।

ভারতের সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়া ৫৮০ জনের বেশির ভাগেরই উপসর্গ মৃদু। তবে সাতজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনজন দিল্লির। এই তিনজনের মধ্যে দুজন এরই মধ্যে হাসপাতাল ছেড়েছেন। কর্ণাটকে দুজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে হয়েছে। এ ছাড়া উত্তরাখন্ডে একজন ও ছত্তিশগড়ে একজনকে টিকা নেওয়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।

টিকা নেওয়ার পর দুজন মারা গেলেও তার সঙ্গে টিকার কোনো যোগসূত্র নেই। এই দুজনের একজন উত্তর প্রদেশের মুরাদাবাদের মহিপাল সিং (৪৬)। অপরজন কর্ণাটকের বেলারি এলাকার ৪৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। মহিপাল সরকারি একটি হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় ছিলেন। মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টা আগে তিনি করোনার টিকা নিয়েছিলেন।

মুরাদাবাদের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা বলেছেন, মহিপালের ময়নাতদন্তে জানা গেছে, কার্ডিও–পালমোনারি রোগের (হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুসের রোগ) কারণে সেপ্টিসেমিক শকে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের বরাত দিয়ে এই চিকিৎসা কর্মকর্তা বলেন, মহিপাল টিকা নেওয়ার আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন। কর্ণাটকের রাজ্য সরকার বলেছে, এই রাজ্যে টিকা নেওয়ার পর ৪৩ বছর বয়সী ব্যক্তি মারা গেছেন কার্ডিও–পালমোনারি ফেইলিউরে। তবে তাঁর ময়নাতদন্ত সোমবার পর্যন্ত হয়নি।

সূত্র: প্রথম আলো