আল-আকসায় হামলা: বিশ্ববাসীর প্রতি এরদোয়ানের আহ্বান

আন্তর্জাতিক

ফিলিস্তিনের জেরুজালেমে আল-আকসা মসজিদে সংঘর্ষের ঘটনা কেন্দ্র করে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোয়ান বিশ্ববাসীকে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। রোববার (০৯ মে) এক বিবৃতিতে এরদোয়ান বলেন, জেরুজালেম নিজেই একটি পৃথিবী এবং মুসলিমরা সেখানকার বাসিন্দা।

টুইট বিবৃতিতে এরদোয়ান আরও বলেন, পবিত্র জেরুজালেম সম্মান শ্রদ্ধা রক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব ও কর্তব্য। সেখানকার মসজিদ আল-আকসায় হামলা করা মানে আমাদের ওপর হামলা করা।

তিনি আরও বলেন, যে নিজেকে মানুষ মনে করে তিন ধর্মের পবিত্র স্থান জেরুজালেমের ওপর হামলা করার বিরোধিতা করা তাদের নৈতিক দায়িত্ব। তিনি মনে করেন, চুপ করে থাকা আর ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান নেয়া একই কথা এবং ফিলিস্তিনির ওপর হামলায় সায় দেয়া।

শুক্রবার রাতে আল-আকসা মসজিদের কাছে সহিংসতায় ২০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি এবং অন্তত ১৭ জন ইসরায়েলি পুলিশ আহত হয়েছে বলে স্বাস্থ্যকর্মী এবং পুলিশ জানিয়েছে। শনিবারও সেখানে সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

শনিবারের সহিংসতার শুরু হয় জেরুজালেমের দামেস্ক গেটে যখন ইসলাম ধর্মের পবিত্র রাত লাইলাতুল কদর উপলক্ষে হাজার হাজার মুসলমান আল-আকসা মসজিদে নামাজ আদায় করেন।

এর আগে শনিবার মসজিদ অভিমুখে নামাজিদের নিয়ে যাওয়া অনেক বাস আটকে দেয় ইসরায়েলি পুলিশ। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তারও করা হয়।
সূত্র: ইয়ানি শাফাক, বিবিসি

নামাজ পড়ার সময় যদি পেছনের সারি থেকে বাচ্চাদের হাসির আওয়াজ না আসে তাহলে পরবর্তী প্রজন্মের ব্যাপারে ভয় করুন

নামাজ পড়ার সময় যদি পেছনের সারি থেকে বাচ্চাদের হাসির আওয়াজ না আসে তাহলে পরবর্তী প্রজন্মের ব্যাপারে ভয় করুন (এই কোটেশন তুর্কীর মসজিদে দেওয়ালে লিখা থাকে)। ওমানের মসজিদে নামাজ আদায় করার সুযোগ হয়েছে আমার, প্রায় সবখানে দেখলাম বাচ্চারা মসজিদে মোটামুটি উপস্থিত থাকে।

তাদের যেখানে ইচ্ছা খেয়াল খুশী মতো কাতারে দাড়ায়। বড়রা কিছু বলেনা,এমনকি অনেক সময় দেখলাম নামাজের সময় বাচ্চারা পেছনে বা সামনে কোন কাতারে হইহুল্লোড় করছে,নামাজ শেষে ইমাম-মুসল্লি কেউ কিছু বলেনা। আমি একদিন একজনরে জিজ্ঞেস করলাম এর কারন কি???

তো তিনি বললেন বাচ্চারা হলো ফেরেস্তার মতো এরা এখানে আসবে একটু দুষ্টামি করবে কিন্তু দেখতে দেখতে এটাতে অভ্যস্ত হয়ে পড়বে। দুষ্টামির ব্যাপারটা বয়স বাড়ার সাথে সাথে ঠিক হয়ে যাবে সেটা কোন ব্যাপার না। কিন্তু এখন যদি ওরে মসজিদে হুমকি দামকি দেওয়া হয়, মারা হয় তাহলে সে তো আর এইখানে আসতেই চাইবেনা, একটা ভয় নিয়ে বেড়ে উঠবে এটা তো ঠিক না।

কি সুন্দর যুক্তি। আর ঠিক উল্টো চিত্র দেখবেন আমাদের বাংলাদেশে। আমি এমনও দেখেছি নাতীকে মসজিদে নিয়ে আসার কারনে নানার সাথে আরেকজনের মারামারি লেগে গিয়েছিলো। আর এলাকার সিজনাল মুরব্বিরা তো মসজিদে গেলা বড় বড় মোল্লা হয়ে যায়, সামনের কাতারে ছোটদের দাড়াতে দেই না,বাচ্চারা আওয়াজ করলে চড় থাপ্পর এসব তো আছেই।

হুজুরেরাও এটাকে এড়িয়ে যায় বা বাচ্চাদের মসজিদে আনতে না বলে।
বুখারী শরীফে এসেছে- রাসুল (সাঃ) তার নাতনী হযরত উমামা বিনতে যায়নাব (রাঃ) কে বহন করে (কোলে কিংবা কাঁধে) নামাজ আদায় করতেন। যখন তিনি দন্ডায়মান হতেন তখন তাকে উঠিয়ে নিতেন আর সিজদাহ করার সময় নামিয়ে রাখতেন ।

আমরা একদা যুহর কিংবা আসর নামাজের জন্য অপেক্ষা করতেছিলাম। বেলাল (রাঃ) রাসুল (সাঃ) কে নামাজের জন্য ডাকলেন। রাসুল (সাঃ) তার নাতনী হযরত উমামাহ (রাঃ) কে কাঁধে করে নিয়ে আমাদের কাছে আসলেন। রাসুল (সাঃ) ইমামতির জন্য নামাজের স্থানে দাড়ালেন আমরা তার পিছনে দাঁড়িয়ে গেলাম অথচ, সে (উমামাহ রা.) তার স্থানে তথা রাসুল (সাঃ) এর কাধেই আছে।

রাসুল (সাঃ) নামাজের তাকবির দিলেন আমরাও তাকবীর দিলাম। রাসুল (সাঃ) রুকু করার সময় তাকে পাশে নামিয়ে রেখে রুকু ও সিজদাহ করলেন। সিজদাহ শেষে আবার দাড়ানোর সময় তাকে আগের স্থানে উঠিয়ে নিতেন। এভাবে নামাজের শেষ পর্যন্ত প্রত্যেক রাকাতেই তিনি এমনটি করে যেতেন। (সুনান আবু দাউদ ৯২০)

এ ছাড়াও রাসুল (সাঃ) এর খুতবা দেয়ার সময় তার নাতি হাসান ও হুসাইন (রাঃ) আসলে তিনি খুতবা দেয়া বন্ধ রেখে তাদেরকে জড়িয়ে ধরে আদর করতেন, কোলে তুলে নিতেন চুম্বন করতেন আর বলতেন খুতবা শেষ করা পর্যন্ত আমি ধৈর্য ধারণ করতে পারব না। তাই, আমি খুতবা দেয়া বন্ধ করেই এদের কাছে চলে এসেছি। (নাসায়ী শরীফ)

মুহাম্মাদ (সঃ) নিজে বাচ্চাদেরকে কোলে রেখে নামায পড়িয়েছেন। আর আমাদের বুজুর্গ-মুসল্লিরা মসজিদেই তাদের উপস্থিতি সহ্য করতে পারেন না। রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, যে আমাদের ছোটদেরকে স্নেহ করে না এবং বড়দেরকে সম্মান করতে জানে না সে আমার দলভুক্ত নয়। (আবু দাউদ, তিরমীজি, মুসনাদে আহমদ)

তো এই ব্যাপারে তরুনদের সতর্ক হওয়া দরকার।মুরব্বিদের কে তাদের এইসব বুঝানো দরকার।আমাদের হুজুরদের বয়ানে এইসব স্পষ্ট করা দরকার।তাহলে বাচ্চারা মসজিদমুখি হতে আগ্রহী হবে। (লেখকঃ পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা )