‘সীমান্ত সুরক্ষিত রাখা পবিত্র দায়িত্ব’

আন্তর্জাতিক

দায়িত্ব পালনের মাঝেই যারা খুঁজে পান ঈদের আনন্দ। সবকিছু ছাপিয়ে সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিতই তাদের ব্রত। বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে কর্মরতরা যখন পরিবারের সাথে ঈদ উদযাপন করছেন তখনও দেশকে নিরাপদ রাখতে সীমান্তে দায়িত্ব পালন করছেন বিজিবি সদস্যরা।

সবাই যখন ঈদের উৎসব আমেজে, তখন বহিঃশত্রু আক্রমণ হতে দেশকে রক্ষার জন্য সীমান্তে পাহারা দিচ্ছেন সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি’র সদস্যরা। দেশের প্রতিটি সীমান্ত অঞ্চলেই রয়েছে বিজিবির ২৪ ঘণ্টার পাহারা। দিন অথবা রাত; হোক প্রখর রোদ কিংবা ঝড়-বৃষ্টি।

সীমান্তে অস্ত্র হাতে দায়িত্ব পালনরত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের এসব চৌকস সদস্যদের চোখ ফাঁকি দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক চোরাকারবারি থেকে শুরু করে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সদা জাগ্রত বিজিবি সদস্যরা।

বছর ঘুরে এসেছে ঈদ। যে কোনো একটি ঈদ পরিবারের সঙ্গে করার সুযোগ পান বিজিবি সদস্যরা। তাই ঈদ এলে পরিবার ছাপিয়ে দায়িত্ব পালনই হয়ে উঠে তাদের মূল ব্রত। তবে ঈদের দিনের মতো এমন বিশেষ দিনগুলোতে কতটুকু মনে পড়ে পরিবারের সদস্যদের।

বান্দরবানের ঘুমধুম সীমান্ত দায়িত্বরত বিজিবির ৩৪ ব্যাটালিয়নের সিপাহী মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম বলেন, ঈদের দিন সত্যিই কষ্ট হয়। শত কষ্টের মাঝেও এইটুকু শান্ত দিয়ে থাকি নিজেকে এই ঈদে আমি সীমান্তে দায়িত্ব পালন করছি, সামনের ঈদে ইনশাল্লাহ আমি ঈদের ছুটি যাব এবং পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করব।

ল্যান্স নায়েক মো. সামাউন নবী বলেন, প্রত্যেক বছর তো পরিবারের সঙ্গে ঈদ করা হয় না। এই ঈদে আমাদের কিছু সহকর্মী পরিবারের সঙ্গে ঈদ করছে। হয় তো আগামী ঈদে তারা সীমান্তে দায়িত্ব পালন করবে, আর আমরা পরিবারের সঙ্গে ঈদ করব।

এভাবেই আমরা প্রতিবছর ঈদ করে থাকি। সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটা পবিত্র দায়িত্ব। এটা একটা সম্মানজনক দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালন করতে পেরে নিজেকে অনেক গর্বিত মনে করি। নায়েক নুর উদ্দিন বলেন, পরিবার ছাড়া ঈদ করার খুবই কষ্টকর।

কিন্তু কষ্ট হলেও মেনে নিতে হবে; যেহেতু সীমান্তে নিরাপত্তার দায়িত্ব রয়েছি। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করছি বিধায় দেশ ও দেশের জনগণ নিরাপদে ঈদ উদযাপন করছে। এতে পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে না পারলেও আমাদের কষ্টটা অনেক লাঘব হয়।

সুবেদার মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান বলেন, ঈদের দিন অবশ্যই পরিবারের কথা মনে পড়ে। এক সঙ্গে ঈদ আনন্দ করতেও ইচ্ছে করে। কিন্তু সীমান্ত রক্ষার স্বার্থে সীমান্তেই ঈদ করতে হয়। কারণ এটি পবিত্র দায়িত্ব। ঈদের দিন সীমান্তে দায়িত্বরত সবাই একসাথে আনন্দের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করি।

একই সঙ্গে ব্যাটেলিয়ন অধিনায়ক সাহেব ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। জানা যায়, সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী’ স্লোগান নিয়ে ১৯৭২ সালে যাত্রা শুরু করা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি আজও রাষ্ট্রের যেকোন প্রয়োজনে থাকে প্রথম সারিতে।

সবাই যখন প্রিয়জনের সাথে ঈদ উদযাপনে ব্যস্ত তখনও সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে নির্ঘুম রাত কাটছে অনেক বিজিবি সদস্যের। তাদের প্রত্যাশা; সীমান্ত পাহারার মাধ্যমে নিরাপদ থাকবে দেশ এবং দেশের মানুষ। করোনা পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন হয়েছে আরও চ্যালেঞ্জিং।

আগে সহকর্মীরা করোনা আক্রান্ত হয়েছেন, তাই পিপিই পরেই দায়িত্ব পালন করছেন বিজিবি সদস্যরা। সীমান্ত কিংবা চেকপোস্ট; কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন বিজিবির নারী সদস্যরাও। তারাও বলছেন; তাদের কাছে পরিবারের আগে দেশ বড়।

রেজুখাল চেকপোস্টে দায়িত্বরত বিজিবির নারী সদস্য রোকসানা আক্তার বলেন, ঈদের দিনটা আমাদের জন্য বড়। আর পরিবারের সঙ্গে ঈদ করাটাও আলাদা আনন্দের। কিন্তু আমরা যেহেতু সীমান্তরক্ষী বাহিনী; সেহেতু অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক চোরাচালান দমনও দায়িত্ব এবং কর্তব্য।

তবে পরিবারের সঙ্গে সবসময় ঈদ করা হয় না। এখন আমরা বড় একটা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত আছি। তো ঈদে পরিবারের থেকে ঊর্ধ্বে দেশের স্বার্থে দায়িত্ব পালন করা। আরেক নারী সদস্য তনিমা আক্তার বলেন, পরিবার ছাড়া ঈদ করছি, মনে কষ্ট থাকতেই পারে। কিন্তু দায়িত্বটা আমাদের কাছে সবার আগে।

এই দায়িত্ব পালন করতে পেরে সত্যিই গর্বিত; দায়িত্ব পালনই আমাদের কাছে মূল উদ্দেশ্যে। উল্লেখ্য, মিয়ানমারের সঙ্গে বান্দরবান ও কক্সবাজারের সীমান্ত রয়েছে ২৭১ কিলোমিটার। এই সীমান্তে বিজিবির একটি রিজিওনের আওতায় রয়েছে দুটি সেক্টর ও ৭টি ব্যাটালিয়ন। দায়িত্ব পালন করছেন কয়েক হাজার বিজিবি সদস্য।