ভয়ঙ্কর সেই রাতের বর্ণনা দিলেন প্রত্যক্ষদর্শী অটোরিকশা চালক

অন্যান্য

সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে ‘নির্যাতনের ফলে’ মারা যাওয়া আখালিয়ার যুবক রায়হান আহমদের (৩০) সাথে সেই রাতে ঘটে যাওয়া ভয়ঙ্কর ঘটনার বর্ণনা দিলেন এক প্রত্যক্ষদর্শী সিএনজি অটোরিকশা চালক। ওই চালক ও তার আরেক সঙ্গীর সিএনজি অটোরিকশাতে সেই রাতে বন্দরবাজার ফাঁড়ির দুটি পুলিশ টিম টহল দিয়েছিল বলে জানান তিনি। এর মধ্যে একটি অটোরিকশাতে রায়হানকে ফাঁড়িতে নিয়ে আসে পুলিশ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেই অটোরিকশা চালক সিলেটভিত্তিক একটি ইউটিউব চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, শনিবার (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাতে সিলেট নগরীর কাষ্টঘর এলাকার একটি সুইপার কক্ষ থেকে রায়হানকে বের করে নিয়ে আসে পুলিশ। এর আগে নগরীর মাশরাফিয়া রেস্টুরেন্টের সামনে অজ্ঞাত দু’জন লোক পুলিশকে এসে খবর দেয়, কাষ্টঘরের গলিতে একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।

ওই অটোরিকশা চালক জানান, পুলিশ গিয়ে একটি সুইপারের কক্ষ থেকে রায়হানকে ডেকে বের করে আনে। তখন তিনি সেখানে কোনো ছিনতাই বা রায়হানকে গণধোলাইয়ের ঘটনা ঘটতে দেখেননি। ওই গলি থেকে তাকে বের করে দ্বিতীয় (ওই চালকের সঙ্গীর) অটোরিকশাযোগে ফাঁড়িতে নিয়ে আসে পুলিশ। তখন রায়হান সুস্থ ছিলেন। এসময় আটক রায়হান পুলিশের সাথে তর্কে লিপ্ত হন এবং বলেন, আমি কোনো ছিনতাইকারী বা অপরাধী নই।

রায়হানকে পুলিশ ফাঁড়ির ভেতরে নিয়ে যাওয়ার পর দুই অটোরিকশা চালক ফাঁড়ির বাইরে অপেক্ষা করতে থাকেন। পরে সকালে রায়হানকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ওই দুই চালকের মধ্যে একজনের অটোরিকশাতে করে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ।

অটোরিকশা চালক আরো জানান, হাসপাতালে নেয়ার পর রায়হানের অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যায় এবং তাকে অক্সিজেন দেয়া হয়। এর আগে ফাঁড়ি থেকে তাকে বের করার সময় তার হাটুর নিচে ও হাতের আঙ্গুলে আঘাতের চিহ্ন দেখেন ওই চালক। এসময় চালক দুই পুলিশ সদস্যকে বলতে শোনেন, ‘এমন নির্মমভাবে কেউ কাউকে মারে? স্যার আদেশ দিলেন বলেই মারতে হলো।’

অটোরিকশা চালক বলেন, সেই রাতে এসআই আকবর ফাঁড়িতেই ছিলেন এবং তার নির্দেশে রায়হানকে মারধর করা হয়েছে। এসআই নিজেই নির্মমভাবে রায়হানকে নির্যাতন করেছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শী চালক জানান।