শিকলে বাঁধা ভালোবাসার জীবন তাদের

অন্যান্য

ভালোবাসার জন্য মানুষ কত কিছু্ই তো করে। সবাইকে অবাক করে দিয়ে ইউক্রেনের এক দম্পতি ভালোবাসা টিকিয়ে রাখতে শেকল বেঁধেছেন নিজেদের হাতে। আলেকজান্ডার ও ভিক্টোরিয়া নামের এই দম্পতির অবাক করা ভালোবাসার সবাইকে অবাক করেছে।

ভালোবাসার পাগলামি যে কত প্রকার হতে পারে তা মাঝেই মাঝেই দেখতে পাই। এমন কিছু ঘটনা সামনে আসে যা দেখে অবাক না হওয়ার উপায় থাকে না। তেমনি অবাক করা এক ঘটনা ঘটিয়েছে ইউক্রেনের এক তরুণ যুগল। ভালোবাসাকে কাছে রাখতে তারা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা হয়ে উঠেছে রীতিমতো দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের শিরোনাম।

শুরুটা ছিল তাদের সম্পর্কে মিল না হওয়া নিয়ে। কারণ প্রতি সপ্তাহেই নাকি দুয়েকবার ছাড়াছাড়ি হয়ে যেত। ঝগড়ার কেউ আর কারো সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে না পর্যন্ত সিদ্ধান্তে চলে যেত। শেষমেশ ভালোবাসার সম্পর্ক যাতে ছিন্ন না হয় তার জন্য সেই যুগল নিয়েছে ভিন্ন এক উদ্যোগ।

তরুণ ওই যুগলের নাম আলেক্সান্দার কুদলে এবং ভিক্তোরিয়া পুস্তোভিতোভা। তারা ইউক্রেনের খার্কিভ শহরে থাকেন। ভালোবাসার প্রমাণ দিতে তিন মাসের জন্য শিকলে নিজেদের হাত বেঁধে নিয়েছেন তারা। এক উদ্ভট সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইউক্রেনিয়ান তরুণ যুগল আলেকজান্ডার ও ভিক্টোরিয়া।

এ বছর তারা ভালোবাসা দিবস ব্যতিক্রমী উপায়ে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেন। ১৪ ফেব্রুয়ারি এই যুগল কিয়েভে ভ্রমণ করেন। সেখানে দেশটির জাতীয় রেকর্ড রেজিস্টারের এক প্রতিনিধির মাধ্যমে নিজেদের হাতে শিকল পরিয়ে নেন। শিকলটি সিলগালাও করে দেওয়া হয়। আগামী তিন মাস এক মুহূর্তের জন্যও পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছেন না এই প্রেমিক যুগল।

প্রেমিকা ঘুমানো থেকে শুরু করে গোসল করা, এমনকি শৌচকর্ম পর্যন্ত একসঙ্গেই সারবেন তারা।
কেমন কাটছে তাদের দিনরাত্রি জেনে নেই তাদের মুখ থেকেই। আলেক্সান্দার বলেন, যতই দিন যাচ্ছে, আমরা ততই অভ্যস্ত হয়ে উঠছি। শারীরিকভাবে খুব একটা অস্বস্তি হচ্ছে না। রাগের মাথায় ভিক্তোরিয়া ব্রেকআপের সিদ্ধান্ত জানানোর পর এ আইডিয়া মাথায় আসে আমার।’

ভিক্তোরিয়া বলেন, আলেক্সান্দারকে আমি ভালোবাসি। তাই ওই এই আইডিয়ার প্রতি সমর্থন দিয়েছি। এখন মনে হচ্ছে আইডিয়াটা দারুণ।একসঙ্গে বসবাসের আপডেট তারা নিয়মিতই সোশ্যাল মিডিয়া ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন তারা। এদিকে তারা দুজন জানান ঝগড়া তাদের এখনও হয় কিন্তু তারা এখন আর কোথাও যেতে না পারায় চুপচাপ থাকেন।