করোনা আক্রান্ত মহিলাকে ধর্ষণের চেষ্টা, গ্রেফতার ওয়ার্ড বয়

অন্যান্য

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কোভিড নিরাময় কেন্দ্রে রয়েছেন ৫০ বছরের এক মহিলা। অক্সিজেনের সাহায্যও নিচ্ছেন তিনি। অভিযোগ, এই পরিস্থিতিতেই তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছেন কোভিড নিরাময় কেন্দ্রের ওয়ার্ড বয়। রবিবার মধ্যপ্রদেশের গ্বালিয়রে ঘটেছে এই ঘটনা। মহিলা রোগীকে যৌন হেনস্থার অভিযোগে ওই ওয়ার্ড বয়কে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এক অফিসার।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে ইতিমধ্যেই বেসামাল মধ্যপ্রদেশ। দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা সেখানে ১০ হাজার পার করছে। সেখানকার অধিকাংশ হাসপাতালের শয্যা খালি নেই। তাই বিভিন্ন হোটেলকেও পরিণত করা হচ্ছে কোভিড নিরাময় কেন্দ্রে। এ রকমই একটি হোটেলে ভর্তি রয়েছেন নির্যাতিতা ওই মহিলা। পুলিশে করা অভিযোগে তিনি জানিয়েছেন শনিবার রাতে তাঁকে দু’বার হেনস্থা করার চেষ্টা করেন অভিযুক্ত ওয়ার্ড বয়। ওই মহিলা পরিবারের লোককে বিষয়টি জানাতেই সেখান থেকে পালিয়ে যান অভিযুক্ত।

বিষয়টি নিয়ে মহিলার ছেলে থানায় এফআইআর দায়ের করেন। তার পরই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেখানকার পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, অভিযুক্ত যুবকের নাম বিবেক লোধি। মহিলার অভিযোগের তদন্ত করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। গত বছর কোভিড সংক্রমণ যখন শিখরে উঠেছিল, সে সময় উত্তরপ্রদেশের সরকারি হাসপাতাল থেকে এ রকম বেশ কয়েকটি অভিযোগ সামনে এসেছিল।

করোনায় মারা গেলেন নির্বাচন কর্মকর্তা

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. সাইবুর (৫৪) করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাইবুর ঢাকায় সরকারি কমর্চারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

নির্বাচন কর্মকর্তা মো. সাইবুরের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) জসিম উদ্দিন। সাইবুরের মৃত্যুর কথা জানিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন ডিসি। স্থানীয় সূত্র জানায়, বন্দর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. সাইবুর ৭ সেপ্টেম্বর করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

হাসপাতালে তিন সপ্তাহ ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় প্রথমে তাকে আইসিউতে, পরে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়। সপ্তাহ খানেক লাইফ সাপোর্টে থাকার পর বুধবার দুপুরে মারা যান তিনি। নির্বাচন কর্মকর্তা মো. সাইবুরের গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরের বিরল উপজেলায়।

স্ত্রী, দুই ছেলে এক এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন তিনি। মো. সাইবুর ২০১৯ সালের জুলাইয়ে বন্দর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। এর আগে তিনি জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

আরও পড়ুন: রোজার প্রতিদান স্বয়ং আল্লাহ দেবেন

পবিত্র মাহে রমজানের রোজা গুরুত্বপূর্ণ একটি ফরজ ইবাদত। আল্লাহতায়ালা মুসলমানদের ওপর রমজান মাসে রোজা পালন ফরজ করে দিয়েছেন।

রোজাদারদের জন্য রয়েছে অফুরন্ত সওয়াব। রোজার বিনিময় স্বয়ং আল্লাহ দেবেন বলে ঘোষণা করেছেন। হাদিসে কুদসিতে মহান আল্লাহতায়ালা বলেন, মানুষের প্রতিটি কাজ তার নিজের জন্য, কিন্তু রোজা এর ব্যতিক্রম। রোজা শুধু আমার জন্য, আমিই এর প্রতিদান দেব। (মুসলিম: ২৭৬০)।

বিখ্যাত সাহাবি হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন, ‘তোমাদের কাছে রমজান উপস্থিত হয়েছে। রমজান এক বরকতময় মাস। আল্লাহ তোমাদের ওপর এ মাসে সিয়াম পালন করা ফরজ করেছেন।

এ মাসে আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়। জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয়। এ মাসে অবাধ্য শয়তানদের শিকলবদ্ধ করা হয়। এ মাসে আল্লাহ এমন একটি রাত রেখেছেন, যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম।

যে ব্যক্তি এ রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো সে ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষেই বঞ্চিত’। (নাসায়ি : ২১০৬)।

রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, মানব সন্তানের প্রতিটি নেক আমলের প্রতিদান ১০ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। আল্লাহতায়ালা বলেন, কিন্তু রোজার বিষয়টি ভিন্ন। কেননা রোজা শুধু আমার জন্য, আমিই তার প্রতিদান দেব। (মুসলিম : ১৫৫১)।

হজরত সাহল বিন সা’দ (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুল(সা.) এরশাদ করেন, জান্নাতে একটি দরজা রয়েছে, যার নাম রাইয়ান। কেয়ামতের দিন রোজাদারগণই শুধু সে দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে। তাদের ছাড়া অন্য কেউ সে দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না।

সেদিন ঘোষণা করা হবে, রোজাদাররা কোথায়? তখন তারা দাঁড়িয়ে যাবে এবং সে দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে। যখন তাদের প্রবেশ শেষ হবে, তখন দরজা বন্ধ করে দেয়া হবে। ফলে তারা ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। (বোখারি : ১৭৯৭)।

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, যারা হিদায়াতকে বর্জন করার ক্ষেত্রে আল্লাহর শক্তিকে ভয় করেন এবং তার নির্দেশকে সত্য প্রতিপন্ন করার কারণে রহমতের আশা ছাড়েন না তারাই মুত্তাকি।

মাসব্যাপী রোজা পালন করে যদি তাকওয়া অর্জন করা না যায়, তা হলে এ রোজা অর্থহীন উপবাস ও নিছক আত্মপ্রবঞ্চনায় পর্যবসিত হয়। (মুসলিম: ২১৩৪)। এ প্রসঙ্গে হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন– যে ব্যক্তি বাজে কথা ও কাজ ত্যাগ করল না, তার পানাহার ত্যাগ নিছক উপবাস ছাড়া আর কিছু নয়’। (বোখারি: ১৮০৪)।

হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) এ সম্পর্কে আরও এরশাদ করেন-শুধু পানাহার বর্জনের নাম রোজা নয়। রাজা হলো অনর্থক ও অশ্লীল কথা-কাজ বর্জন করার নাম। কেউ তোমাকে গালি দিলে বা তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করলে তুমি তার সঙ্গে তেমনটি না করে কেবল এটুকুই বলো– আমি রোজাদার’। (মুসলিম: ২৪১৬)।

শুধু না খেয়ে থাকাই সিয়াম সাধনার মূল উদ্দেশ্য নয়। বরং যাবতীয় পাপাচার থেকে নিজের নফস ও প্রবৃত্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে মুখ ও জিহ্বাকে সংযত রাখতে হবে। সংযমের পরিচয়ে দিতে হবে সবক্ষেত্রে।পানাহার থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি সব ধরনের অন্যায় ও পাপ কাজ থেকে বিরত থাকা রোজাদারদের অপরিহার্য কর্তব্য।