ঠাকুরগাঁওয়ে লিচু গাছে আম!

অন্যান্য

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় এক ব্যক্তির বসতভিটায় রোপণকৃত লিচু গাছে আম ধরেছে। এমন খবর জেনে স্থানীয়রা ছুটছেন তা এক নজর দেখতে। বিষয়টি অবাক করেছে সবাইকে। জেলা সদরের ছোট বালিয়া মুটকি বাজার কলোনীপাড়া আব্দুর রহমানের বসতভিটায় ৫ বছর আগে রোপনকৃত গাছে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, গাছের মালিক মুখে মুখে বিষয়টি সবাইকে বলতো কিন্তু সবাই মনে করতো হয়তো লিচু গাছে আম গাছের চারা কলম করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে বিষয়টি তা নয়। আব্দুর রহমানের কথা শুনে এলাকার দু-একজন ব্যক্তি তা দেখতে গিয়ে অবাক হন। সত্যিই লিচু গাছে আম ঝুলছে।

এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য শুরু হয়। প্রতিদিন ওই ব্যক্তির বাড়িতে গাছটি দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন উৎসুক জনতা। এ বিষয়ে গাছের মালিক আব্দুর রহমান বলেন, ৫ বছর আগে বসতবাড়িতে লিচু গাছের চারাটি রোপন করি। পরিচর্চায় ৩ বছরের মাথায় ফল আসে। এবার লিচু গাছে আশানুরূপ মুকুল আসে।

এরই মধ্যে মুকুল থেকে লিচু বড় হতে থাকে। গাছ পরিচর্চা করতে গিয়ে চোখে পড়ে লিচুর সঙ্গে একই ডালে একটি আমও ঝুলছে। পরে বিষয়টি আশপাশের লোকদের জানালে তা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এখন এলাকার সবাই গাছটি দেখতে আসছে। তবে পুরো গাছে একটি আমই ধরেছে বলে জানান তিনি।

ঠাকুরগাঁও সদরের বালিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুর এ আলম সিদ্দিকী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনা শোনার পর তিনি সেখানে গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদেরও বিষয়টি অবহিত করেছেন তিনি।

এ ব্যপারে ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ পরিচালক আবু হোসেন জানান, আমি এ ঘটনা শুনেছি। তবে মাঠ পর্যায়ে যাওয়া হয়নি। এটা একটি বিরল ঘটনা। যা আগে কখনও ঘটেনি। প্রকৃতির ব্যত্যয়ে এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

‘উত্তম কুমারকে মাদরাসার সুপারের দায়িত্ব দিয়ে মুসলমানদের সাথে উপহাস করা হয়েছে’

রাজবাড়ী জেলার পাটকিয়াবাড়ী দাখিল মাদরাসায় হিন্দু সংগঠনের নেতা উত্তম কুমার গোস্বামীকে ভারাপ্ত সুপার হিসেবে নিয়োগ দিয়ে এদেশের সর্বস্থরের মুসলমানদের সাথে উপহাস করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম (মুফতী ওয়াক্কাস অংশ)-এর নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, মাদরাসায় হিন্দু সুপার নিয়োগ দেওয়া ইসলামি শিক্ষা ও সভ্যতার জন্য শুধু অপমানজনকই নয় বরং মারাত্মক হুমকি।

এই অযৌক্তিক নিয়োগের কারণে এদেশের মুসলিম তৌহিদী জনতা মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে। এটা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। মন্দিরের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কোন আলেম, ইসলামি ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া যেমন হাস্যকর তেমনি মাদরাসার সুপার হিসেবে একজন হিন্দু নিয়োগ হাস্যকরই নয় বরং ভয়েরও কারণ।

রাষ্ট্রের নানা পর্যায়ে গাপটি মেরে বসে থাকা একটি মহল বরাবরই এদেশের ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিনাশী ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছে। মাদরাসায় হিন্দু সুপার নিয়োগ এসব ষড়যন্ত্রেরই অংশ। আজ (২৬ নভেম্বর) বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম (মুফতী ওয়াক্কাস অংশ) ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে রাজবাড়ী জেলার পাটকিয়াবাড়ী দাখিল মাদরাসায় হিন্দু সংগঠনের নেতা উত্তম কুমার গোস্বামীকে ভারাপ্ত সুপারের হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার প্রতিবাদে আয়োজিত মানবন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে উত্তম কুমারকে মাদরাসা সুপারের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জোর দাবী জানিয়ে বলেন, ৯০ ভাগ মুসলিম অধ্যুষ্যিত বাংলাদেশে একটি মাদরাসার সুপার হিসেবে একজন হিন্দুকে নিয়োগ দেওয়া দুঃখ জনক। শতাব্দীকাল ব্যাপী চলে আসা এদেশের ঐতিহ্যবাহী মাদরাসা শিক্ষার জন্য এরকম লজ্জাস্কর ঘটনা আরেকটি নেই।

নগর সভাপতি মাওলানা বেলায়াত হোসাইন আল ফিরোজীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মুফতি আতাউর রহমান খানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মানবন্ধে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গোলাম মহিউদ্দীন ইকরাম, মুফতি জাকির হোসাইন খান, মাওলানা ওয়ালী উল্লাহ আরমান, মুফতি রেজাউল করীম, যুবনেতা মুফতি রেদওয়ানুল বারী সিরাজী, তোফায়েল গাজালি, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সুহাইল আহমদ, নিজাম উদ্দীন আল আদনান, হাফেজ মুহাম্মদ প্রমুখ।