ধর্ষণ করে যাওয়ার সময় ঝাপটে ধরে চিৎকার, আটক পুলিশ সদস্য

অন্যান্য

রং নম্বরে পরিচয়। প্রেমের অভিনয় করে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ করে চলে যাওয়ার সময় ঝাপটে ধরে চিৎকার দেয় ধর্ষিতা মাদরাসা ছাত্রী (১৫)। পরে বাড়ির লোকজন ধর্ষককে আটক করে আটকে রাখে। এ ঘটনায় ধর্ষককে ছাড়িয়ে নিতে ধর্ষিতার বাড়িতেই হামলা চালালে দুই ইউপি সদস্যসহ আহত হন কমপক্ষে পাঁচজন।

পরে স্থানীয় চেয়ারম্যানের খবরে পুলিশ এসে অভিযুক্ত ধর্ষককে আটক করে নিয়ে যায়। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের বৃ-দেবস্থান গ্রামে।

এ ঘটনায় বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ধর্ষিতার বাবা বাদী হয়ে মামলা করেন। পরে আটককৃত পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।আটক পুলিশ সদস্য মো. ইজাদুল হক ওরফে রতন (২১) উপজেলার বড়হিত ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের মৃত আজিজুল হকের ছেলে।

স্থানীয় সুত্র ও ধর্ষতারার পরিবারিক সূত্রে জানা যায়, রতনের সঙ্গে রঙ নম্বরে পার্শ্ববর্তী রাজিপুর ইউনিয়নের ওই ছাত্রীর সাথে পরিচয় হয়। পরে তাদের সম্পর্ক প্রেমে রূপ নেয়। গাজীপুরের মেট্রোপলিটন পুলিশের কনস্টেবল পদে চাকরি করেন রতন। গত এক মাস ধরে তিনি বাড়িতে ছুটিতে আছেন।

মঙ্গলবার রতন ছাত্রীর সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলে সন্ধ্যার পর তার বাড়িতে যান। থানায় অবস্থান করা ছাত্রী জানায়, রাত ৮টার দিকে ঘরের পিছনে এসে পরদিনই বিয়ের কথা বলে তাকে বাহিরে নিয়ে আসে। এক পর্যায়ে তাকে ধর্ষণ করে চলে যেতে চায়।

এ সময় বিয়ের কথা বললে ধর্ষক রতন তাকে বলে, ‘এখন বিয়ে করলে চাকরির সমস্যা হবে।’ এক বছর পরে বিয়ে করবে। এতে সে রতনকে ঝাপটে ধরে চিৎকার দেয়। পরে পরিবারের লোকজন এসে একটি ঘরে নিয়ে আটকে রাখে। ছাত্রীর বাবা জানায়, তাঁর ছেলেও একটি থানায় কনস্টেবল পদে চাকরি করেন।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ এলাকার বেশ কয়েকজনকে জানালে তাঁরা ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টাকালে ধর্ষণে অভিযুক্ত রতনের লোকজন উপস্থিত লোকজনের ওপর অর্তকিতে হামলা চালায়।

এ সময় স্থানীয় ইউনি সদস্য সামছুল হক ও মো. ইস্রাফিল হোসেনসহ কমপক্ষে পাঁচজনকে আহত করে।খবর পেয়ে স্থানীয় রাজিবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোতাব্বিরুল ইসলাম এসে পুলিশে খবর দেয়।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি মো. মোখলেছুর রহমান জানান, নির্যাতনের শিকার মাদরাসা ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে ধর্ষণ মামলা করেছেন। ধর্ষিতাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য বৃহস্পতিবার হাসপাতালে পাঠানো হবে।

কাল থেকে কান ধরে ব্যবসা ছেড়ে দিতে চাই: নাসিম মঞ্জুর

সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, ‘বাংলাদেশের করব্যবস্থা চূড়ান্ত রকমের ব্যবসা–অবান্ধব। এ কারণে ব্যবসা বন্ধ করেই দেওয়া উচিত। আমরা যারা বাংলাদেশে ব্যবসা করি, আমরা কাল থেকে কান ধরে ছেড়ে দিতে চাই। লাভ হোক আর লোকসান, যা-ই হবে, কর দিয়েই যাবেন। যারা কর দেয় না, তারাই ভালো থাকবে। তারা আরও বড় বড় ব্যবসা করবে আর আমরা মরব। এই ধরনের ব্যবসার মধ্যে আর আমরা নেই।

করব্যবস্থা ঠিক করেন। অন্যথায় বর্তমান ব্যবসাই থাকবে না, নতুন বিনিয়োগের তো প্রশ্নই ওঠে না।’ অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের এমডি বলেন, ‘জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) যদি কর সংগ্রহকারী হিসেবে থাকে এবং সারা জীবন শুধু বলে “শুনছি”, কিন্তু বাস্তবে কোনো প্রতিফলন না দেখি, তার মানে বাংলাদেশে আপনারা কোনো বিনিয়োগ চান না। বলে দেন, আমরা বন্ধ (কারখানা) করে ট্রেডার হয়ে যাই।

কারণ, ট্রেডিং ব্যবসা ভালো। উৎপাদন করে এই মরার খাটুনি যুক্তিসংগত নয়।’ বলে দেন, আমরা বন্ধ (কারখানা) করে ট্রেডার হয়ে যাই। কারণ, ট্রেডিং ব্যবসা ভালো। উৎপাদন করে এই মরার খাটুনি যুক্তিসংগত নয়।
সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর অর্থনীতিবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) উদ্যোগে আজ শনিবার এক ভার্চ্যুয়াল সভায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর।

‘পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য ও উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার যাত্রাকে মসৃণ করতে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই)’ শীর্ষক আলোচনা সভাটি আয়োজনে সহযোগিতায় ছিল বেসরকারি গবেষণা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (আরএপিআইডি) ও এশিয়া ফাউন্ডেশন। পণ্য রপ্তানি বাড়াতে বিদেশি বিনিয়োগের ওপর জোর দিয়ে সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, ‘২০১৯ সালে বাংলাদেশ প্রায় ১০০ কোটি ডলারের জুতা রপ্তানি করেছিল।

একই সময়ে ভিয়েতনামের জুতা রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের। তাদের শীর্ষ পাঁচটি জুতা রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান দেশি-বিদেশি যৌথ বিনিয়োগে। ভিয়েতনামে যৌথ বিনিয়োগে স্থাপিত একটি কোরিয়ান কোম্পানি ১০০ কোটি ডলারের জুতা রপ্তানি করে। আর আমরা সারা বছর সবাই মিলে সেই পরিমাণ জুতা রপ্তানি করছি। এটিই আসলে এফডিআইয়ের মূল শক্তি।’

সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর আরও বলেন, করোনার কারণে সারা বিশ্বে এফডিআইয়ের হার অর্ধেক হয়ে গেছে। তবে বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ আছে। বিধিনিষেধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ব্র্যান্ড চীনের কাপড় নেবে না। সে জন্য ভারত, পাকিস্তানের মতো দেশে বস্ত্রকল হচ্ছে। বাংলাদেশ সেই সুযোগ নিতে পারে। তা ছাড়া মিয়ানমার থেকে ব্যবসা ছিনিয়ে নেওয়ার সুযোগ এখনই।

আসলে বাংলাদেশে ব্যবসায়ীদের যেভাবে মূল্যায়ন করা হয়, সেভাবে চোর–ছেঁচড়দেরও মূল্যায়ন করা হয় না।আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। আরও বক্তব্য দেন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি নিহাদ কবীর, ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ। মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন আরএপিআইডির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক।

নিহাদ কবির বলেন, ‘আজ বিডাতে গেলে সমস্যার সমাধান হয়। তবে ওপরের লেভেলে (উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা) কথা বলত হয়। যাঁরা বিডাতে কাজ করেন, তাঁদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খুবই ভালো। কিন্তু তাঁরা শিল্পায়নের বিষয়ে প্রশিক্ষিত নন।’ তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের অর্থনীতির চালিকা শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। অথচ সরকারের অনেক কর্মকর্তা বলেন, ব্যবসায়ীরা লোকজনকে ঠকানোর কাজ করেন।

আসলে বাংলাদেশে ব্যবসায়ীদের যেভাবে মূল্যায়ন করা হয়, সেভাবে চোর–ছেঁচড়দেরও মূল্যায়ন করা হয় না। নিহাদ কবির বলেন, ‘দেশের ব্যবসায়ীদের সম্মানের সঙ্গে মূল্যায়ন না করলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করতে আসবেন না। সিঙ্গাপুর বছরের পর বছর হাত জোড় করে অনুরোধ করে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিজেদের দেশে এনে আজকের অবস্থায় আসতে পেরেছে। আমরা মনে করি, সবকিছু সাজানো–গোছানো আছে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা চলে আসবে।

কিন্তু তাঁরা কেন আসেন না, সেটি আমরা একবারও জিজ্ঞাসা করি না।’ নিহাদ কবির আরও বলেন, ‘ভিয়েতনাম সাতটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করেছে। আর আমরা ভুটানের সঙ্গে এফটিএ করেছি। আমার নিজের জেলাতেও ভুটানের চেয়ে বেশি মানুষ আছে। আমার জেলার অর্থনীতিও ভুটানের চেয়ে অনেক বড়।’