বেড়ানোর কথা বলে দলিল লেখককে গণধর্ষণ, গ্রেপ্তার ২

অন্যান্য

বাগেরহাটে পঁচিশ বছর বয়সী এক নারী দলিল লেখককে (মোহরার) সহকর্মীর সহযোগিতায় গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে একদল যুবকের বিরুদ্ধে। বুধবার (২৮ এপ্রিল) পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে।

এর আগে, গত সোমবার (২৬ এপ্রিল) রাতে বাগেরহাট সদর উপজেলার গোটাপাড়া ইউনিয়নের কালদিয়া গ্রামের একটি রাইস মিলে এই গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বুধবার রাতে বাগেরহাট সদর মডেল থানায় ধর্ষণের শিকার ওই নারী বাদী হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ধর্ষণের শিকার ওই নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। জড়িত অন্য দুজনকে ধরতে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে। ধর্ষণের শিকার নারীর বাড়ি জেলার সদর উপজেলায়। কয়েক বছর আগে তার বিয়ে হয়। কিছুদিন হলো তার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সদর উপজেলার গোটাপাড়া ইউনিয়নের কালদিয়া গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর হোসেন পেশায় জেলা জমি রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক। ধর্ষণের শিকার নারী তার সহকর্মী। আর শোভন শেখ একই গ্রামের বাসিন্দা। পলাতক দুজনের বাড়িও ওই কালদিয়া গ্রামে।

মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে বাগেরহাট মডেল থানার ভাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম আজিজুল ইসলাম বলেন, ধর্ষণের শিকার ওই নারী বাগেরহাট জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের দলিল লেখক আলমগীর হোসেনের সহকারি হিসেবে কাজ করতেন। পূর্ব পরিচিত হওয়ায় গত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় দলিল লেখক ওই নারীকে বেড়ানোর কথা বলে তার গ্রামে নিয়ে যান।

সেখানে যাওয়ার পরে আরও তিনজনের সাথে মেয়েটির পরিচয় হয়। এরপর মেয়েটির ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে একটি মিলে আটকে রেখে পালাক্রমে ধর্ষণ করে তারা।
বুধবার থানায় এসে মেয়েটি অভিযোগ দিলে পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে অভিযান চালিয়ে দলিল লেখক আলমগীর এবং শোভনকে গ্রেপ্তার করে।

সব বন্ধ, পেট তো বন্ধ নেই, কামড় দেয় ক্ষুধাসব বন্ধ, পেট তো বন্ধ নেই, কামড় দেয় ক্ষুধা

রাজধানীর তোপখানা রোডের যে পাশে জাতীয় প্রেসক্লাব, ঠিক তার উল্টো দিকেই মুদ্রাক্ষরিকদের (টাইপরাইটার) ছোট ছোট দোকান। একই সঙ্গে আইনজীবীদের সহকারী হিসেবে নোটারি পাবলিক করিয়ে দেওয়ার কাজও করেন তাঁরা। বিনিময়ে আইনজীবীরা কিছু পান, বাকিটা নেন এসব সহকারী।

তবে দোকান মানে একটা কাঠের চেয়ার, একটা টেবিল আর একটা টুল। গতকাল মঙ্গলবার খাঁ খাঁ দুপুরে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, কাঠের চেয়ার-টেবিলগুলো ওলটানো। শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা এগুলো। মুদ্রণজগতে কম্পিউটারের প্রচলন শুরু হওয়ার পর থেকে এমনিতেই মুদ্রাক্ষরিকদের কাজ ও কদর কমে আসছে।

করোনাভাইরাস আসার পর তা এখন একেবারেই বন্ধ হয়ে যাওয়ার জোগাড়। ১৪ এপ্রিল দেশব্যাপী সর্বাত্মক লকডাউন শুরুর পর থেকে মুদ্রাক্ষরিকেরা সবাই ঘরবন্দী। কথা বলার একজন লোকও পাওয়া যায়নি গতকাল। সেখানে পাওয়া যায় মো. আকরামুল ইসলাম নামের একজনের, যাঁর একটি দোকান রয়েছে।

ওই দোকানে তিনি ফটোকপি ও মোবাইলে টাকা রিচার্জের পাশাপাশি মোবাইলে আর্থিক সেবা দাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের এজেন্ট হিসেবেও কাজ করেন। বিকাশ, নগদ, রকেটের দোকান খুলতে যেহেতু বাধা নেই, তাই তিনি খুলেছেন। কিন্তু গ্রাহক নেই। তিনি জানান, ১৯৭৩ সালে ৬৫ জন মুদ্রাক্ষরিক এখানে বসা শুরু করেন। এখন আছেন ৩৪ জন।

তোপখানা রোড পেশাজীবী মুদ্রাক্ষরিক কল্যাণ সমিতির সদস্য তাঁরা। কাজ না থাকায় লোকগুলো খুবই কষ্টে আছেন। আকরামুল ইসলাম জানান, কাজ নেই, গ্রাহকও নেই। তবু কাজের আশায় গতকাল ঢাকার মানিকনগর থেকে পায়ে হেঁটে তোপখানা রোডে এসেছিলেন টাইপরাইটার নূরনবী হোসেন। কিন্তু সেই আশার গুড়ে বালি।

কিছুক্ষণ বসে থেকে আবার হেঁটে হেঁটে চলে যান তিনি। কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাই বলায় আকরামুল পুরোনো মুদ্রাক্ষরিক আলী আহমেদের মোবাইল নম্বর দেন। বিকেলে ফোন করে পরিচয় দিতেই আলী আহমেদ বলেন, ‘৩০ বছর ধরে তোপখানা রোডে আসছি। এমন খারাপ সময় কখনো আসেনি, যদিও অনেক আগে থেকেই আমাদের দিন খারাপ হয়ে আছে।

টাইপ করতে কেউ আসেন না। সব খেয়ে ফেলেছে কম্পিউটার। তবে মাঝে মাঝে নোটারি করতে লোক আসেন। আইনজীবীদের মাধ্যমে তা করাতে হয়। গ্রাহকদের কাছ থেকে যা পাওয়া যায়, তা থেকে আইনজীবীরা আমাদের একটা অংশ দেন। তাতে কোনো দিন ২০০ টাকা, কোনো দিন ৩০০ টাকা পাই।

ভাগ্য ভালো থাকলে ৫০০ টাকাও পাওয়া যায় কোনো কোনো দিন। এই আয় থেকে চেয়ার-টেবিল নিয়ে বসার একটা ভাড়াও দিতে হয় সিটি করপোরেশনকে।’ কিন্তু এখন তো সবই বন্ধ। ফলে দোকান ভাড়াই কী দেবেন, আবার বাড়ি ভাড়াই কী দেবেন—তা নিয়ে চিন্তিত আলী আহমেদ। তিন বেলা খাওয়ার ব্যবস্থা কীভাবে করবেন—সেই চিন্তায় দিশেহারা তিনি।

বলেন, ‘জীবনে আর কিছু শিখিনি। বয়স হয়েছে, শেখার সুযোগও নেই আর। কিন্তু পেটটা তো আছে। পেট তো বন্ধ নেই, কামড় দেয় ক্ষুধা।’ আলী আহমেদের পাঁচ ছেলেমেয়ের মধ্যে দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে। এক মেয়ে অনার্স প্রথম বর্ষে পড়ছেন। ১০ বছর বয়সী একটা প্রতিবন্ধী ছেলে আছে। তিনি বলেন, ‘শুনেছি, প্রতিবন্ধী বাচ্চাদের ভাতা দেয় সরকার। আমার ছেলেটা পায় না।’