ইসলামি দলগুলোর সমস্যা নিয়ে মুখ খুললেন আজহারী

রাজনীতি

হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যুর পর ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার কিছু বিষয় নিয়ে মতনৈক্য তৈরি হওয়ার প্রেক্ষাপটে ইসলামি আলোচক মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী তার নিজস্ব ফেসবুক পেজে এ বিষয়ে কলম ধরেছেন।

“একজন বিদগ্ধ আলিমে দ্বীনের বিদায়কে কেন্দ্র করে এদেশে যেমনি সকল ইসলামপন্থিরা দল মত নির্বিশেষে সবাই এক কাতারে দাড়িয়েছে, ঠিক তেমনিভাবে দ্বীন প্রতিষ্ঠায় আমরা সবাই এক কাতারে দাঁড়াতে সমস্যা কোথায়? এ প্রশ্ন আজ সকল ইসলামপ্রিয় আম জনতার।

সমস্যাটা হল মূলত হিংসা, অহমিকা আর গোঁড়ামিতে। এই হিংসা, অহমিকা এবং গোঁড়ামির খাঁচা থেকে মুক্ত হতে না পারলে এই অঞ্চলে ঐক্য প্রক্রিয়া আর ইসলামি হুকুমত পাগলের প্রলাপ বকা ছাড়া অন্য কিছু নয়। সবাই ঐক্য চায় কিন্তু এক চুল পরিমান ছাড় দিতে নারাজ।

সবার স্বপ্ন ইসলামকে বিজয়ী শক্তি হিসাবে দেখার কিন্তু একই স্বপ্নে বিভোর লোকদের মধ্যে নোংরা কাদা ছোড়াছুড়ি। পান থেকে চুন খসলে— উলঙ্গ আক্রমণ। বিভিন্ন মতাদর্শের আলিম ওলামাদের সহাবস্থান আর পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ কমতে কমতে একেবারে তলানিতে যেয়ে ঠেকেছে।

ইমাম ইবনুল জাওযি রহিমাহুল্লাহ ওনার “তালবিছে ইবলিশ” গ্রন্থে শয়তানের ব্যবসা প্রসঙ্গে লিখেছেন যে শয়তান জুলুম বিক্রি করে শাসকদের কাছে, কৃপণতা বিক্রি করে ধনীদের কাছে আর হিংসা বিক্রি করে আলিমদের কাছে। একথার চরম বাস্তবতা আমরা প্রকটভাবে দেখতে পাচ্ছি আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির আলিমসমাজের অনেকের মধ্যে। হিংসা আর অহংকারের বিষবাষ্পে আজ ধীরেধীরে কলুষিত হয়ে যাচ্ছে আমাদের ধর্মীয় আঙ্গিনাগুলো।

যারা শত শত বিষয়ে মিল থাকার পরেও সামান্য কিছু অমিলের কারণে একজন মুসলিম ভাইকে অমুসলিমের সম্মানও দেয়না তারাই এদেশে ইসলামের মুখপাত্র দাবীদার। মনে রাখা দরকার, ভিন্ন মতাবলম্বিদের অচ্ছুৎ মনে করা মুহাম্মাদ (ﷺ‬) এর ওয়ারাসাদের স্বভাব হতে পারে না। আর আল্লাহর পাঠানো দ্বীন ইসলামও আমাদেরকে এই সংকীর্ণতা শিক্ষা দেয়নি।

ইসলাম যেখানে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদেরকেও সম্মান করতে শেখায় সেখানে আমরা নিজরা নিজেদেরকে সহ্য করতে পারছিনা। আসলে এজাতীয় লোকদের মুখে ঐক্যের কথা খুবই বেমানান। বাস্তবতা হচ্ছে— উম্মাহর ঐক্য নিয়ে মঞ্চ কাঁপানো জ্বালাময়ী ভাষণ দেয়া সহজ কিন্তু পুরো উম্মাহকে আপন করে নেয়া ও আগলে রাখা খুব কঠিন। উদারতা আর ভালোবাসার সীসাঢালা নিখাদ মানসিকতা ছাড়া উম্মাহর ঐক্য প্রতিষ্ঠা কোনভাবেই সম্ভব নয়।

আসলে, হৃদয়ের প্রশস্ততা— এটা রবের দেয়া এক বিরাট নিয়ামত। সবাইকে আল্লাহ তায়ালা এই নিয়ামতে ধন্য করেন না। প্রশস্ততা, উদারতা এবং ভালোবাসার নিয়ামত লাভে যারা ধন্য— তারা আসলেই মহা সৌভাগ্যবান।
”.اللهم ألف بين قلوبنا وأصلح ذات بيننا. آمين يا رب العالمين
সূত্র: নয়া দিগন্ত

আরো পড়ুন-জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে আবারও প্রথম হলেন বাংলাদেশ

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের দুটি সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এক একটি হচ্ছে, এ মিশনে সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে দীর্ঘদিন দ্বিতীয় অবস্থানে থাকার পর আবারও প্রথম অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী গত ৩১ আগস্ট শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সংখ্যা মোট ছয় হাজার ৭৩১ জনে উন্নীত হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশের মর্যাদা লাভ করে।

দ্বিতীয় সাফল্য হচ্ছে বাংলাদেশি একজন সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল মো. মাঈন উল্লাহ চৌধুরী দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের ডেপুটি ফোর্স কমান্ডার নির্বাচিত হয়েছেন।
আইএসপিআর আজ শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করে।

সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল মো. মাঈন উল্লাহ চৌধুরী দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের ডেপুটি ফোর্স কমান্ডার নির্বাচিত হয়েছেন।
এর আগেও বাংলাদেশের সেনা কর্মকর্তারা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ফোর্স কমান্ডার ও ডেপুটি ফোর্স কমান্ডার হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালনের গৌরব অর্জন করেছেন।

জানা যায়, সামরিক ও পুলিশ শান্তিরক্ষী পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এর আগেও অনেক বছর শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসের শেষ দিন পর্যন্ত ২৮ মাসের মধ্যে ২০ মাসই বাংলাদেশ শীর্ষে ছিল। এর আগে ও পরে সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী প্রথম সারির দেশগুলোর তালিকায় নিজের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়।

জাতিসংঘের ‘ডিপার্টমেন্ট অব পিসকিপিং অপারেশন্স’-এর ওয়েবসাইটে শান্তিরক্ষা মিশনে কোন দেশ কত সামরিক ও পুলিশ সদস্য পাঠিয়েছে, তার বছর ও মাসভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে। এতে সর্বশেষ গত ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তথ্য রয়েছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সব চেয়ে বেশি সামরিক ও পুলিশ সদস্য প্রেরণকারী দেশগুলোর মধ্যে প্রথম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ছয় হাজার ৪৭৭ জন পুরুষ ও ২৫৫ জন নারী মিলিয়ে মোট ছয় হাজার ৭৩১ জন শান্তিরক্ষী জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করছেন।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইথিওপিয়া। এ দেশটির শান্তিরক্ষীদের সংখ্যা ৬ হাজার ৬৬২ জন। এ ছাড়া ছয় হাজার ৩২২ জন শান্তিরক্ষী নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রুয়ান্ডা, পাঁচ হাজার ৬৮২ জন শান্তিরক্ষী নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে নেপাল।

পাঁচ হাজার ৩৫৩ জন শান্তিরক্ষী নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে ভারত, চার হাজার ৪৪০ জন শান্তিরক্ষী নিয়ে ৬ষ্ঠ অবস্থানে পাকিস্তান এবং তিন হাজার ৯৩ জন শান্তিরক্ষী নিয়ে সপ্তম অবস্থানে রয়েছে মিশর।

প্রসঙ্গত, ১৯৮৯ সালের ইরাক-ইরানে সামরিক পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া শুরু হয়। বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী এ মিশনে দায়িত্ব পালন করে আসছেন ১৯৯৩ সাল থেকে। বাংলাদেশের পুলিশ সদস্যরা এ মিশনে অংশগ্রহণ করে আসছেন ১৯৮৯ সাল থেকে।

আইএসপিআরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুসারে, গত মে মাস পর্যন্ত বিশ্বের ৪০টি দেশে ৫৪টি মিশনে এক লাখ ৭০ হাজার ২৪৩ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশের নারী শন্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করেছেন এক হাজার ৮০৩ জন। বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন ২৫৫ জন। বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন বিশ্বের ১১টি দেশে। ঝুঁকিপুর্ণ এ দায়িত্ব পালনের সময় জীবন দিতে হয়েছে ১৫১ জনকে।

আরো পড়ুন-দুবাই কুরআন প্রতিযোগিতার জন্য বাংলাদেশের হাফেজা আয়েশা সিদ্দিকা নির্বাচিত

আওয়ার ইসলাম: দুবাই আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগীতার বাছাই পরীক্ষায় হাফেজা আয়েশা সিদ্দিকা নির্বাচিত হয়েছেন।

গত ২ সেপ্টেম্বর ২০২০ ইং তারিখে বাংলাদেশ ধর্মমন্ত্রণালয়ের অধীনে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাইতুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত ৫ম আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগীতার বাছাই পরীক্ষায় ১ম স্থান অধিকার করে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন এ ক্ষুদে হাফেজা।

জানা গেছে, যাত্রাবাড়ী সাইনবোর্ডে অবস্থিত মারকাজুত তাহফিজ ইন্টাঃ মাদরাসার মহিলা শাখার ছাত্রী হাফেজা আয়েশা সিদ্দিকা। মাদরাসার পরিচালক হাফেজ নেছার আহমাদ আন নাছিরী।

বিজয়ী প্রতিযোগী আয়েশা যেনো দুবাই গিয়ে সকল দেশকে পিছনে ফেলে বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারেন সেজন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, এর আগেও অত্র মাদরাসার মহিলা বিভাগ থেকে হাফেজা ফারিহা তাসনিম জর্ডানে ৬০ টি দেশকে হারিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছিল।

তাছাড়া এ মাদরাসার বালক শাখা থেকে মক্কা মদিনাসহ আরও ১০৩ টি দেশকে হারিয়ে বাংলাদেশের জন্য ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিজয় নিয়ে এসেছিল হাফেজ তরিকুল ইসলাম।

আর মক্কা শরিফে অনুষ্ঠিত বিশ্ব হিফজুল কুরআন প্রতিযোগীতায় আরবদের হারিয়ে মসজিদে হারামে বিশ্বকে অবাক করে অন্ধ হাফেজ তানভির হোসেন ও সাদ সুরাইল বাংলাদেশের জন্য বিজয় নিয়ে এসেছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালেও হাফেজ সাইফুর রহমান ত্বকি জর্ডানে প্রথম হয়ে বাংলাদেশের মান উজ্জল করেছেন।

এ পর্যন্ত বিভিন্ন রাষ্ট্রে মারকাজুত তাহফিজ ইন্টাঃ মাদরাসার প্রায় অর্ধশত ছাত্র-ছাত্রী বিজয় অর্জন করেছে। মারকাজুত তাহফিজ ইন্টাঃ মাদরাসার ছাত্রদের এই বিজয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল,

মরহুম মাননীয় ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহ সংবর্ধনা দিয়েছেন। এছাড়াও পবিত্র কাবার ইমাম শায়খ আব্দুর রহমান সুদাইসি সহ বিশ্বের বরেণ্য ওলামাগণ তাদের সংবর্ধনা দিয়েছেন।