‘মোটু’ ডাকায় চমেক ছাত্রলীগের দুগ্রুপে সংঘর্ষ, আহত ৫

রাজনীতি

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে প্রতিপক্ষের এক নেতাকে ‘মোটু’ ডাকা নিয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সৃষ্ট সংঘর্ষে অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) রাতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের পর উভয় গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তর জোনের উপ কমিশনার মোখলেসুর রহমান বলেন, সামান্য বিষয়ে তারা সংঘাতে জড়িয়েছে। এখন পুরো ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করতে হয়েছে। তবে পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রাতে ক্যাম্পাস ক্যাফেটেরিয়া থেকে বের হওয়ার সময় শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেলের অনুসারীরা আ জ ম নাসিরের অনুসারী রাহাতকে ব্যঙ্গ করে। এ নিয়ে প্রথমে কথা কাটাকাটি পরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। ১০ থেকে ১৫ মিনিট ধরে চলা সংঘর্ষে ৪ জন আহত হয়।

পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। পরবর্তীতে নাছিরের অনুসারীরা নওফেলের অনুসারী রানাকে একা পেয়ে মারধর করে। এ নিয়ে তারা আবারও সংঘর্ষে জড়ায়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসে অতিথির পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

উত্তর জোনের অতিরিক্ত উপ কমিশনার আবু বকর সিদ্দিক বলেন, উভয়পক্ষ এখন ছাত্রাবাসে অবস্থান করছে। তারা যাতে আবার সংঘর্ষে জড়াতে না পারে সেজন্য আমরা কঠোর অবস্থানে আছি।

প্রসঙ্গত, মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছিরের অনুসারীদের মধ্যে বিরোধ আগে থেকেই চলে আসছিল।

সব বন্ধ, পেট তো বন্ধ নেই, কামড় দেয় ক্ষুধাসব বন্ধ, পেট তো বন্ধ নেই, কামড় দেয় ক্ষুধা

রাজধানীর তোপখানা রোডের যে পাশে জাতীয় প্রেসক্লাব, ঠিক তার উল্টো দিকেই মুদ্রাক্ষরিকদের (টাইপরাইটার) ছোট ছোট দোকান। একই সঙ্গে আইনজীবীদের সহকারী হিসেবে নোটারি পাবলিক করিয়ে দেওয়ার কাজও করেন তাঁরা। বিনিময়ে আইনজীবীরা কিছু পান, বাকিটা নেন এসব সহকারী।

তবে দোকান মানে একটা কাঠের চেয়ার, একটা টেবিল আর একটা টুল। গতকাল মঙ্গলবার খাঁ খাঁ দুপুরে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, কাঠের চেয়ার-টেবিলগুলো ওলটানো। শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা এগুলো। মুদ্রণজগতে কম্পিউটারের প্রচলন শুরু হওয়ার পর থেকে এমনিতেই মুদ্রাক্ষরিকদের কাজ ও কদর কমে আসছে।

করোনাভাইরাস আসার পর তা এখন একেবারেই বন্ধ হয়ে যাওয়ার জোগাড়। ১৪ এপ্রিল দেশব্যাপী সর্বাত্মক লকডাউন শুরুর পর থেকে মুদ্রাক্ষরিকেরা সবাই ঘরবন্দী। কথা বলার একজন লোকও পাওয়া যায়নি গতকাল। সেখানে পাওয়া যায় মো. আকরামুল ইসলাম নামের একজনের, যাঁর একটি দোকান রয়েছে।

ওই দোকানে তিনি ফটোকপি ও মোবাইলে টাকা রিচার্জের পাশাপাশি মোবাইলে আর্থিক সেবা দাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের এজেন্ট হিসেবেও কাজ করেন। বিকাশ, নগদ, রকেটের দোকান খুলতে যেহেতু বাধা নেই, তাই তিনি খুলেছেন। কিন্তু গ্রাহক নেই। তিনি জানান, ১৯৭৩ সালে ৬৫ জন মুদ্রাক্ষরিক এখানে বসা শুরু করেন। এখন আছেন ৩৪ জন।

তোপখানা রোড পেশাজীবী মুদ্রাক্ষরিক কল্যাণ সমিতির সদস্য তাঁরা। কাজ না থাকায় লোকগুলো খুবই কষ্টে আছেন। আকরামুল ইসলাম জানান, কাজ নেই, গ্রাহকও নেই। তবু কাজের আশায় গতকাল ঢাকার মানিকনগর থেকে পায়ে হেঁটে তোপখানা রোডে এসেছিলেন টাইপরাইটার নূরনবী হোসেন। কিন্তু সেই আশার গুড়ে বালি।

কিছুক্ষণ বসে থেকে আবার হেঁটে হেঁটে চলে যান তিনি। কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাই বলায় আকরামুল পুরোনো মুদ্রাক্ষরিক আলী আহমেদের মোবাইল নম্বর দেন। বিকেলে ফোন করে পরিচয় দিতেই আলী আহমেদ বলেন, ‘৩০ বছর ধরে তোপখানা রোডে আসছি। এমন খারাপ সময় কখনো আসেনি, যদিও অনেক আগে থেকেই আমাদের দিন খারাপ হয়ে আছে।

টাইপ করতে কেউ আসেন না। সব খেয়ে ফেলেছে কম্পিউটার। তবে মাঝে মাঝে নোটারি করতে লোক আসেন। আইনজীবীদের মাধ্যমে তা করাতে হয়। গ্রাহকদের কাছ থেকে যা পাওয়া যায়, তা থেকে আইনজীবীরা আমাদের একটা অংশ দেন। তাতে কোনো দিন ২০০ টাকা, কোনো দিন ৩০০ টাকা পাই।

ভাগ্য ভালো থাকলে ৫০০ টাকাও পাওয়া যায় কোনো কোনো দিন। এই আয় থেকে চেয়ার-টেবিল নিয়ে বসার একটা ভাড়াও দিতে হয় সিটি করপোরেশনকে।’ কিন্তু এখন তো সবই বন্ধ। ফলে দোকান ভাড়াই কী দেবেন, আবার বাড়ি ভাড়াই কী দেবেন—তা নিয়ে চিন্তিত আলী আহমেদ। তিন বেলা খাওয়ার ব্যবস্থা কীভাবে করবেন—সেই চিন্তায় দিশেহারা তিনি।

বলেন, ‘জীবনে আর কিছু শিখিনি। বয়স হয়েছে, শেখার সুযোগও নেই আর। কিন্তু পেটটা তো আছে। পেট তো বন্ধ নেই, কামড় দেয় ক্ষুধা।’ আলী আহমেদের পাঁচ ছেলেমেয়ের মধ্যে দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে। এক মেয়ে অনার্স প্রথম বর্ষে পড়ছেন। ১০ বছর বয়সী একটা প্রতিবন্ধী ছেলে আছে। তিনি বলেন, ‘শুনেছি, প্রতিবন্ধী বাচ্চাদের ভাতা দেয় সরকার। আমার ছেলেটা পায় না।’