নৌকা পেতে সাবেক আমলা অভিনেতা ও নেতারা মরিয়া

রাজনীতি

তিনটি সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে নৌকা পেতে শতাধিক নেতা, সাবেক আমলা ও অভিনেতা মাঠে নেমেছেন। সম্প্রতি শূন্য হওয়া আসন তিনটিতে বিএনপির অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হওয়ায় যে কোনো মূল্যে তারা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বাগিয়ে নিতে চাইছেন। তাদের প্রত্যাশা নৌকার মনোনয়ন পেলে নিশ্চিত বিজয়। তাই জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) নিয়ে তারা দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের বাসা-অফিসে ধরনা দিচ্ছেন।

মনোনয়ন পেতে তারা মরিয়া হয়ে উঠেছেন। নির্বাচনী এলাকাজুড়ে তারা বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুনে ছেয়ে ফেলেছেন। সরব রয়েছেন ভার্চুয়াল মাধ্যমেও। যোগ দিচ্ছেন বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচিতে। বিএনপি-জামায়াতপন্থি কিছু ব্যক্তিও খোলস পাল্টে নৌকার জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন।

ঢাকা-১৪, সিলেট-৩ ও কুমিল্লা-৫ আসনে মনোনয়ন পেতে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা, অবসরপ্রাপ্ত আমলা, ব্যবসায়ী, অভিনেতা মিলিয়ে শতাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী মাঠে রয়েছেন। অধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকার ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই দিকই রয়েছে বলে মনে করেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা।

এ তিন উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ শুক্রবার থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রথম দিনে ঢাকা-১৪ আসনে ছয়জন, সিলেট-৩ আসনে সাতজন এবং কুমিল্লা-৫ আসনে আটজন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলছেন, উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে সাংগঠনিক ও একাধিক সংস্থা মাঠ জরিপের কাজ করছে।

ফরম বিক্রি ও জমাদান শেষে গঠনতন্ত্র মেনে দলের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভায় সবকিছু যাচাই-বাছাই করে দলীয় প্রার্থীর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সেখানে ত্যাগী ও যোগ্যদেরই মনোনয়ন দেওয়া হবে। জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান বুধবার সন্ধ্যায় যুগান্তরকে বলেন, সংগঠনের প্রতি কার কী অবদান, তা বিবেচনায় নিয়েই যোগ্যতার ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড প্রার্থী চূড়ান্ত করবে।

নির্বাচনগুলোতে আওয়ামী লীগের অধিক দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের বিষয়ে তিনি বলেন, এটার ইতিবাচক দিক যেমন আছেন, তেমন নেতিবাচক দিকও আছে। সবাইকেই দলীয় মনোনয়ন চাইতে হবে- এটা ঠিক নয়। যারা মনোনয়ন চাইবেন তাদের আগে বিবেচনা করতে হবে- তারা আসলে এ পদের জন্য যোগ্য কিনা? তারা আসলেই মনোনয়ন প্রত্যাশা করতে পারেন কিনা?

একই বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম যুগান্তরকে বলেন, নতুন প্রজন্ম ব্যাপকভাবে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগে সম্পৃক্ত হয়েছে। তারা অনেকে নির্বাচনে অংশ নিতে চান, জয়ী হতে চান। এটাকে আমরা ইতিবাচক হিসাবেই দেখি। রাজনৈতিক দল হিসাবে তাদের এ আকাঙ্ক্ষাকে আমরা শ্রদ্ধা জানাই। তবে দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে সাংগঠনিকভাবে দক্ষ, ত্যাগী, পরীক্ষিত এবং এলাকায় জনপ্রিয়তা আছে এমন প্রার্থীই এগিয়ে থাকবেন।

বিএনপি-জামায়াতপন্থি বা দলে অনুপ্রবেশকারী কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না। করোনার কারণে স্থগিত রয়েছে আওয়ামী লীগের সব সাংগঠনিক কার্যক্রম। এরই মধ্যে ১৪ জুলাই অনুষ্ঠেয় নির্বাচন ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজনীতি। নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকা ও আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের আশপাশে বড় বড় ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড টানানোর মাধ্যমে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা জানান দিচ্ছেন নিজেদের অবস্থান। সিভি নিয়ে দৌড়াচ্ছেন নেতাদের বাসা-অফিসে।

বিশেষ করে মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য ও বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের কাছে বেশি ধরনা দিচ্ছেন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। সম্প্রতি যে কোনো নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করেছেন। জাতীয় নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনগুলোতেও আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। আগের নির্বাচনগুলোতে বিএনপির অংশগ্রহণ থাকলেও এবার তিনটি আসনের উপনির্বাচনে দলটির অংশগ্রহণ এখনো অনিশ্চিত। তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দলীয় মনোনয়নকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা।

যে কোনোভাবে দলীয় মনোনয়ন বাগিয়ে নিতে চান তারা। আওয়ামী লীগ নেতাদের অভিযোগ- বিগত নির্বাচনগুলোতে টানা পরাজয়ের কারণে বিএনপি আর কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে সাহস পাচ্ছে না। তাই নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে ভোটে না আসার ঘোষণা দিচ্ছেন বিএনপি তারা। এ বিষয়ে আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, নির্বাচনে অংশ নিতে না চাওয়া কোনো শুভ লক্ষণ নয়। এটা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। আমরা আশা করব-বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেবে। এখনো সময় আছে। তিনি আরও বলেন, জনরায়ের প্রতি সবার শ্রদ্ধা দেখানো উচিত। জনগণের রায় নিয়েই বিজয়ী হতে হবে।

এছাড়া অন্য কোনো পথ খোলা আছে বলে আমরা মনে করি না। ঢাকা-১৪ : ৪ এপ্রিল সংসদ সদস্য আসলামুল হকের মৃত্যুর পর ঢাকা-১৪ আসনটি শূন্য হয়। এ আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যেই গোটা এলাকায় প্রার্থীদের ব্যানার ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। আসলামুল হকের আসনে প্রার্থী হিসাবে জোর আলোচনায় রয়েছে এসএম মান্নান কচির নাম। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এ নেতা বর্তমানে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এছাড়া আসলামুল হকের স্ত্রী মাকসুদা হকের নাম প্রার্থী হিসাবে আলোচনায় আছে। এ আসনে প্রার্থী হিসাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল। এছাড়া যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান, ঢাকা মহানগর উত্তর যুব মহিলা লীগের সভাপতি ও সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোবাশ্বের চৌধুরী, ফুওয়াং ফুডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিআইপি ড. আরিফ আহমেদ চৌধুরী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান।

দারুস সালাম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মাজহারুল আনাম, সাধারণ সম্পাদক কাজী ফরিদুল হক হ্যাপি, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সদস্য দেলোয়ার হোসেন, শাহ আলী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আগা খান মিন্টু, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার দেওয়ান আবদুল মান্নান, মিরপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএম হানিফ, মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিরিন রোকসানা, কাউন্সিলর মুজিব সারোয়ার মাসুম দলীয় মনোনয়ন চান।

কুমিল্লা-৫ : ১৪ এপ্রিল কুমিল্লা-৫ থেকে পাঁচবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু মারা যাওয়ায় আসনটি শূন্য হয়। এ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেন- কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন, আব্দুল মতিন খসরুর স্ত্রী সেলিমা সোবহান খসরু, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আব্দুল ছালাম বেগ, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর খান চৌধুরী,

বুড়িচং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম খান, বুড়িচং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান আখলাক হায়দার, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা স্পেশাল কোর্টের পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী, বুড়িচং উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম খোকন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ আবু সালেক মো. সেলিম রেজা সৌরভ, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সাবেক ডিজি মেজর জেনারেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমান,

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শাহজালাল মোল্লা, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার সোহরাব খান চৌধুরী, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান আবু জাহের, বুড়িচং উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি লায়ন ইঞ্জিনিয়ার আল আমিন, ডিএলএম গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএ মতিন এমবিএ, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা অধ্যক্ষ আলী চৌধুরী মানিক, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা শিল্পপতি মাহতাব হোসেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগের সহসম্পাদক এহতেশামুল হাসান ভূঁইয়া রুমি,

ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা দিদার নিজামুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা অ্যাডভোকেট জাহিদুল আলম জাহিদ, কুমিল্লা জেলা পরিষদের সদস্য তারেক হায়দার, মতিন খসরুর ছোট ভাই কুমিল্লা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মোমিন ফেরদৌস, ছেলে মুনেফ ওয়াসিফ, মেয়ে ডা. উম্মে হাবিবা দিলশাদ মুনমুন, প্রফেসর ডা. নরশের আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা, ডা. আতাউর রহমান জসিম, শেখ হাসিনা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্দুল জলিল, যুবলীগের সাবেক তথ্য ও যোগাযোগবিষয়ক উপ-সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকার জানু,

বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. এসএম জাহাঙ্গীর আলম, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সহসভাপতি আল আমিন অর্ণব, জয়যাত্রা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হেলেনা জাহাঙ্গীর, অ্যাডভোকেট শাহিদা আক্তার প্রমুখ।সিলেট-৩ : সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর মৃত্যুতে সিলেট-৩ আসনটি শূন্য হয়। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রায় ডজনখানেক নেতা দলীয় মনোনয়ন চাচ্ছেন। প্রয়াত সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদের স্ত্রী ফারজানা সামাদ চৌধুরী দলীয় প্রার্থী হিসাবে আলোচনায় রয়েছেন।

এছাড়া আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আরও রয়েছেন- আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের ত্রাণবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ নেতা দেওয়ান গৌছ সুলতান, বিএমএ’র কেন্দ্রীয় মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক শাহ মুজিবুর রহমান জখন, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইফুল আলম প্রমুখ।

এছাড়া আরও এক ডজনের বেশি নেতা মনোনয়নকে সামনে রেখে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন ধরনের পোস্টার ব্যানার ফেস্টুনে নির্বাচনী এলাকা ছেয়ে ফেলেছেন তারা। বি.দ্র : প্রতিবেদনটি তৈরিতে সিলেট ব্যুরোর আজমল খান, ব্রাহ্মণপাড়া প্রতিনিধি সৌরভ মাহমুদ হারুন ও বুড়িচং প্রতিনিধি ইকবাল হোসেন সুমন সহযোগিতা করেছেন।

প্রথম দিনে আ.লীগের ২১ ফরম বিক্রি : শূন্য হওয়া তিন সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রির প্রথম দিনে ২১ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী ফরম কিনেছেন। এর মধ্যে ঢাকা-১৪ আসনে ৬ জন, সিলেট-৩ আসনে ৭ জন এবং কুমিল্লা-৫ আসনে ৮ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। শুক্রবার সকাল ১০টায় আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ফরম বিক্রি শুরু হয়। ১০ জুন পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও জমাগ্রহণ কার্যক্রম চলবে।

ঢাকা-১৪ আসনে প্রথম দিনে ৬ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারী হলেন-যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান, ফুওয়াং ফুডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আরিফ আহমেদ চৌধুরী, দারুস সালাম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মাজহারুল আনাম ও সাধারণ সম্পাদক কাজী ফরিদুল হক হ্যাপী, শাহ আলী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আগা খান মিন্টু।

কুমিল্লা-৫ আসনের ৮ জন ফমর সংগ্রহকারী হলেন-কুমিল্লা (উত্তর) জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সাজ্জাদ হোসেন, প্রয়াত অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরুর স্ত্রী সেলিমা সোবহান খসরু, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মমিন ফেরদৌস, ব্রাক্ষণপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর খান চৌধুরী, বুড়িচং উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো. আবু ছালেক (সেলিম রেজা সৌরভ), প্রাথমিক সদস্য সোহরাব খান চৌধুরী, কুমিল্লা (উত্তর) জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা হেলেনা জাহাঙ্গীর, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের পরিচালক এসএম জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

সিলেট-৩ আসনে প্রথম দিনে ৭ জন আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। তারা হলেন-কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এনাম উল ইসলাম, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য শামীম ইকবাল, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হাসিবুর রহমান, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. সাইফুল আলম, আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা উপকমিটির সদস্য এম সদরুল আহমেদ খান, শেখ রাসেল শিশু কিশোর পরিষদের উপদেষ্টা ফারজানা চৌধুরী।

ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আসলামুল হক গত ১৪ এপ্রিল, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য ১১ মার্চ এবং কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মতিন খসরু গত ১৪ এপ্রিল মারা যান। তাদের মৃত্যুতে আসনগুলো শূন্য ঘোষণা করা হয়। আগামী ১৪ জুলাই এই আসনগুলোতে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।