বন্ধুর প্রাণ বাঁচাতে অক্সিজেন নিয়ে ১৪০০ কিলোমিটার পাড়ি

জীবনযাপন

বন্ধুর জন্য বন্ধু কত কিছুই না করে। এবার প্রকৃত বন্ধুত্বের প্রমাণ দিলেন দেবেন্দ্র নামে এক যুবক।করোনা মহামারি ছড়িয়ে পড়েছে পুরো ভারতে। আর তাতেই আক্রান্ত হয়েছেন নয়ডার বাসিন্দা রঞ্জন। তাকে সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তার অক্সিজেনের স্তরটি ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছিল, কিন্তু পরবর্তী অক্সিজেনেরও ব্যবস্থা করা যাচ্ছিল না। অন্যদিকে, চিকিৎসকরা জানিয়ে দিয়েছেন রোগীর জীবন বাঁচাতে অক্সিজেনের ব্যবস্থা করতেই হবে।

তার মা-বাবা সম্ভাব‌্য সব জায়গায় অক্সিজেন খোঁজ করেন। কিন্তু কোথাও না পেয়ে ছেলের বন্ধু দেবেন্দ্রকে বিষয়টি জানান। দেবেন্দ্র এ খবর পেয়ে ব‌্যক্তিগত গাড়িতে করে ২৪ ঘণ্টায় তিন রাজ‌্য ঘুরে ১৪০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে বন্ধুর জন‌্য অক্সিজেন নিয়ে আসেন।

এই অক্সিজেন সিলিন্ডার সংগ্রহ করা দেবেন্দ্রর জন‌্য মোটেও সহজ ছিলো না। তিনি বিভিন্ন স্থানে গেছেন কিন্তু কোথাও অক্সিজেন ভর্তি সিলিন্ডার পাচ্ছিলেন না। পরে ঝাড়খণ্ডের বালিধা ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকায় যোগাযোগ করেন।

সেখান থেকে অক্সিজেন ভর্তি সিলিন্ডার দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। দেবেন্দ্র জানান, অক্সিজেনের জন্য তাকে ১০ হাজার ৪০০ রূপি খরচ করতে হয়েছে। সোমবার অক্সিজেন ভর্তি সিলিন্ডার নিয়ে বন্ধুর কাছে পৌঁছান তিনি। সঠিক সময়ে অক্সিজের সাপোর্ট দেওয়ায় রক্ষা পান রঞ্জন।

মঙ্গলবার দেবেন্দ্র টাইমস অব ইন্ডিয়াকে ফোনে বলেন, আমার বন্ধুর অবস্থা এখন স্থিতিশীল। আমি এখনো ওর পাশে আছি। যতক্ষণ পর্যন্ত আমার বন্ধু সুস্থ না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত আমি তার পাশে থাকবো।

ধর্মের পথে বদলে গিয়েছে যে ৫ ক্রিকেটারের জীবন

ধর্ম হচ্ছে এমন এক দর্শন ও বিশ্বাস যা মানুষকে আলোর পথের সন্ধান দেয়। হৃদয়ের অন্ধকারকে দূরে ঠেলে জ্যোতির্ময় করে তোলে মনপ্রাণ। পৃথিবীতে ৯০ ভাগেরও বেশি মানুষ নিজ নিজ ধর্মের প্রতি অনুগত। আবার অনেকেই আছেন যারা ধর্মীয় রিচ্যুয়েলস অর্থায় আচার-আচরণ, বিধিবিধান ও রীতিনীতি পালনে সদা তৎপর। তারা জীবনকে ধর্মের আলোকে চালিত করে।

ধর্মীয় অনুশা’সন দ্বারা হয় চালিত। আমরা এমন অনেককেই চিনি এবং জানি যারা একেকজন বড় বড় কিংবদন্তি, সুপারস্টার। কিন্তু ধর্মের প্রতি তাদের আনুগত্য সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই ধারণা কম। অথচ এই তারকারা ধর্মের পথ অনুসরণ করে জীবনে সফলতার চর’ম শিখরে আরোহন করেছিলেন।

ভদ্রলোকের খেলা বলে পরিচিত ক্রিকেট মাঠের ৫ মুসলিম ক্রিকেটারকে নিয়ে এই প্রতিবেদন। যারা কিনা ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারকে করেছেন সমুজ্জল। ছাড়িয়ে ছাপিয়ে গেছেন নিজেদেরও। শুধুমাত্র ধর্মের পথে চলে ক্রিকেট মাঠের গজে একেকজন বনে গেছেন মহাতারকা।

১. সাইদ আনোয়ার : সাঈদ আনোয়ারকে শুধু পাকিস্তান নয়, বিশ্ব ক্রিকেটে বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের আদর্শ ভাবা হয়। মেয়ের মৃত্যুর পর শোকে মুহ্যমান এই এই ক্রিকেটার জীবনে প্রথমবার ধর্মের পথে শান্তির সন্ধান পেয়েছিলেন। তার পর থেকেই তাবলিগে জামাতের মাধ্যমে ইসলামের প্রচার-প্রসারে কাজ শুরু করেন। টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় প্রতিবছরই নিয়ম করে হাজির হন এই আইডল ব্যাটসম্যান।

২. মুহাম্মদ ইউসুফ : বোলারদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কোনও ছা’ড় দেয়নি তার ব্যাট। যদিও পাকিস্তানের সবচেয়ে ভদ্র ও বিনয়ী ক্রিকেটার বলা হয় তাকে। খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বী ইউসুফ ইউহানা একসময় ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর ক্যারিয়ারের শ্রেষ্ঠ সময় পার করেছেন। অবসর নেয়ার পর থেকে সক্রিয়ভাবে ধর্মপ্রচারের কাজে যুক্ত আছেন।

৩. হাশিম আমলা : তার মুখের সদা মৃদ্যু হাসিটা যেন ক্রিকেট বিশ্বের চোখে লেগে থাকে। আউট হলেও এতটুকু রেগে যান না। হেরে গেলেও না। হালের ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হাশিম আমলা। তাকে বলা হয় প্রোটিয়াদের রানমেশিন। তিনি একজন ধর্মপ্রাণ মুসলমান। কখনো রমজান মাসে খেলতে হলে রোজা রেখেই মাঠে নামেন তিনি। শুধুমাত্র ধর্মীয় বিধি-নিষেধের কারণে দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের প্রধান স্পন্সর ‘ক্যাসেল’ (মাদক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান) কোম্পানির লোগো গায়ে টি-শার্ট পরেন না।

৪. ইনজামাম-উল-হক : পাকিস্তান ক্রিকেটে তাকে বলা হয় ‘খুঁটি ব্যাটসম্যান’। একবার সেট হলে যার সামনে বাঘা বাঘা বোলাররাও হার মানতো। মুলতানের সুলতান খ্যাত পাকিস্তান ক্রিকেটের অন্যতম সফল এই ব্যাটসম্যান এখন তাবলিগ জামাতের সক্রিয় সদস্য হিসেবে ইসলাম প্রচারে রত।

৫. মইন আলী : বর্তমান ইংলিশ দলের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার মইন আলীর পারফরমেন্স চোখে পড়ার মতো। সম্প্রতি ইসলাম ধর্মের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, আমি আমার দাঁড়িকে ইসলামের পরিচয় হিসেবে দেখি, আর ধর্ম আমার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। কোরআন আমার জীবনবিধান।